এই জুটি আমন্ত্রিত হয়েছেন আগামী বছরে জয়পুরে শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ট্রিয়েনালে
‘ব্রাশ অ্যান্ড ক্লে’ শব্দটা শুনলেই মনের আড়ালে যে ছবিটা ভেসে ওঠে তা হল মাটির সঙ্গে রঙের নিবিড় কথোপকথন। এই নিবিড় আলাপচারিতার একটা ধারাবাহিক পরম্পরা গোটা দেশের নানাবিধ লোক পরম্পরায় নিজের মতো করেই চলমান। কিন্তু এ কথাটাও ঠিক যে পরম্পরায় নিরীক্ষার সুযোগ থাকলেও পরীক্ষার সুযোগ বা ভাবনা দুইই থাকে সীমিত।
কিন্তু এমন যুগলবন্দী যখন কল্পনার স্রোত বাহিত হয়ে অবয়ব পেতে চায় তখন তার আরেকটা মানে দাঁড়ায়। যেখানে ছন্দ প্রাণ শক্তিতে ভরপুর হয়ে ওঠে। এরকমই একটা শিল্প প্রয়াসের সাক্ষী কলকাতা। দক্ষিণ কলকাতার চুরানব্বই নম্বর বালিগঞ্জ প্লেসের উইভার্স স্টুডিয়ো শুরু হয়েছে ‘ ব্রাশ অ্যান্ড ক্লে’ শিরোনামে পেইন্টিং আর সেরামিক্সের প্রদর্শনী।
শিল্পীদ্বয় পার্থ দাশগুপ্ত আর অসীম পাল। যুগলবন্দী সম্পর্কে ওরা এক দিকে যেমন ছাত্র শিক্ষক পরম্পরায় ঋদ্ধ অন্য দিকে দুজনেই মাটি, চাক, আর রঙের তুলি হাতে নিজেদের সৃজনকে বর্ণময় করে তুলছেন দীর্ঘ দিন ধরে। যেমন পার্থ দাশগুপ্ত সরকারী আর্ট কলেজ, কলা ভবনের পর্ব পেড়িয়ে আজ দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে দেশ ও বিদেশের শিল্প প্রাঙ্গণকে দিয়ে চলেছেন তাঁর নির্মাণ পরিচয়। কখনো ছবিতে, কখনো চিনা মাটিতে এবং সর্বোপরি কলকাতার দুর্গা পুজোর প্রাঙ্গনে।
থেমে থাকেনি অসীমও। সেও তাঁর সৃজনে আত্ম পরিচয়ের স্বাক্ষর রেখেছে নিজের মতো করে। এমন ঘটনার সৃজন উজ্জলতার কারণেই পার্থ আর অসীমের এই জুটি আমন্ত্রিত হয়েছেন আগামী বছরে জয়পুরে শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ট্রিয়েনালে। এটিই ভারতে প্রথম শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক সেরামিক্স ট্রিয়েনাল।
সব মিলিয়ে নিঃসন্দেহে উইভার্স স্টুডিওতে আগামী আঠারোই নভেম্বর পর্যন্ত এক অন্য ধরনের প্রদর্শনীর সাক্ষী কলকাতা। সঙ্গে আরও আছে। কলকাতার দুর্গা পুজোর প্রাঙ্গনে পার্থ এক সুপরিচিত নাম। উনি অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে ‘চলবন্দী’ করে রাখছেন দুর্গা পুজো কেন্দ্রীক বিবিধ সৃষ্টিকে। ফলে আজ তাঁর নিজের নির্মিত ছোট ছোট পুজো কেন্দ্রিক তথ্যচিত্রের সংখ্যাও মনে রাখার মতো।
এই সুত্রেই শিল্পী জয়শ্রী বর্মণের নির্মিত দুর্গা মুর্তি তৈরি নিয়ে একটি চমৎকার তথ্য চিত্র তৈরি করেছেন পার্থ। সেটিও দেখানো হয়েছে প্রদর্শনী চলাকালীন, নভেম্বরের পাঁচ তারিখ সন্ধ্যে ছটায়। আসলে দুর্গা নির্মাণের মধ্যেই তো জড়িয়ে জাপ্টে আছে মাটি আর তুলির সার্থক যুগলবন্দী।