কলকাতা এগ্রি-হর্টিকালচার সোসাইটি আয়োজিত এই প্রদর্শনী সবার থেকে অনেকটাই আলাদা
কলকাতা শহরের বুকে পুষ্প প্রদর্শনী এখন আর সে অর্থে তেমন নতুনত্ব দাবি করতে পারে না। তবে এসব জায়গায় গাছপ্রেমী বা পুষ্পপ্রেমী মানুষজনের অংশগ্রহণ থাকে অবাক করার মতো। এই এতকিছুর মধ্যেও কলকাতা এগ্রি-হর্টিকালচার সোসাইটি আয়োজিত গাছ ও ফুলের প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী বাকিদের থেকে অনেকটাই আলাদা। প্রায় দু’শো বছরের পুরোনো এই সোসাইটির মাঠে ফুল, ফল, সবজি, অর্কিড ও বনসাইয়ের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করে ক্যাকটাস ও সমধর্মী উদ্ভিদ। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যেমন থাকেন খোদ কলকাতার গাছপ্রেমী মানুষ, তেমনই থাকেন দূর মফস্সলের মানুষজনও। আয়োজকরা মনে করেন, এই শহরের বুকে এত বড় প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী আর কোথাও হয় না। তাঁদের মতে, প্রায় সবরকম পরিচিত ও অপরিচিত এত বিপুল সংখ্যক উদ্ভিদের শো এমন বৃহদাকার সবুজঘেরা একটি জায়গায় শুধু কলকাতা নয়, সারা রাজ্যেই বিরল।

ফেব্রুয়ারির ১৪ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ছিল এই প্রদর্শনী। ‘প্রেমদিবসে’ সূচনা হওয়া এই প্রদর্শনীতে পঞ্চাশ টাকা টিকিটের বিনিময়ে মাঠে একবার ঢুকলে আর বেরোতে ইচ্ছে করবে না সবুজপ্রেমী মানুষের। সোসাইটির রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা যেমন চমৎকার, তেমনই অসাধারণভাবে রংবেরং ফুলে সুসজ্জিত তার দুই পাশ। বিভিন্ন ক্যাটাগরি মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্যাকটাস, সাকুল্যান্ট ও কডধর্মী উদ্ভিদের সংখ্যা শতাধিক। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার বেড়াজালের থেকে গা বাঁচিয়ে এসবের সংস্পর্শ চোখকে আরাম দেয় বৈকি! মানুষের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃতি থেকে প্রায় হারাতে বসেছে সবুজ। সেইসমস্ত ক্যাকটাসের নমুনাও দেখা গেল এই প্রদর্শনীতে। গ্রোয়ারদের সঙ্গে কথা বললেই জানা যায় এই মূল্যবান সম্পদগুলির প্রতি তাদের যত্ন ও ভালোবাসার কথা। কঠিন ধৈর্য্য ও পরিশ্রমের কথা।

এই প্রদর্শনী আরও একটি দিক থেকে ব্যতিক্রম। ভ্রমণ, দর্শন ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এখানকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেচা-কেনা। দামি-কমদামি, সহজলভ্য ও দুষ্প্রাপ্য গাছের পসরা সাজিয়ে বসে একাধিক স্টল; থাকে সরঞ্জাম, খাদ্য ও পানীয়ের স্টলও। মেলায় বিক্রিত ক্যাকটাসের সম্ভার চোখে পড়ার মতোই। এই শো-এর জন্য যেমন সারাবছর অপেক্ষা করেন বিক্রেতারা, অনেককিছু একই জায়গায়, একসঙ্গে পেয়ে যাওয়ার তাগিদে মুখিয়ে থাকেন ক্রেতারাও। নতুন এবং পুরোনো, ব্যবসায়ী ও সংগ্রাহক, আয়োজক-প্রতিযোগী-বিচারক, আট কিংবা আশি, বাঙালি ও অবাঙালি, দেশি ও বিদেশী মানুষজন, পর্যটক ওরিসার্চারের যুগ্ম মিলনক্ষেত্র এই মেলা। উৎসাহ, উন্মাদনা এবং মাঠের একপ্রান্তে চলতে থাকা গানের অনুষ্ঠান- সব মিলিয়ে মেলা প্রাঙ্গন গমগম করে। সপ্তাহান্তের চারটে দিন গাছপ্রেমী মানুষজন নতুন অক্সিজেন পান, উপভোগ করেন তারিয়ে তারিয়ে।
