
ছেলেটা পরিপূর্ণ একজন শিল্পী হতে চেয়েছিল। সেইমতো বানিয়ে নিয়েছিল অদৃশ্য এক গ্যালাক্সি। সেখানেই বাস রাজা-রানি-বাদশার। শিল্পী শুধু ওদের দ্যাখে। চোখে চোখ। গান গেয়ে ওঠে। পাগল সুরের। গ্যালাক্সির দুনিয়ায় তারা সবাই সবার বন্ধু। কিন্তু সবকিছু তো অদৃশ্য। লোকে বোঝে না। দেখতেও পায় না। আসলে বোঝার বা দেখার চোখ হারিয়ে ফেলেছে মানুষ। মানুষ তাই মানুষকেই চিনতে পারে না। বেড়াজাল তৈরি করে। সামাজিক বেড়াজাল।
আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। ‘কাউকেই পিছনে ফেলে না রাখা’ – এই মন্ত্র একটামাত্র দিন পালন করি। কিন্তু কেন? অটিস্টিক মানুষরা কি সমাজের অংশ নন? তাদের সমস্ত প্রতিভাকে আরও পাঁচটা মানুষের কাছে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, সে ব্যাপারে নজর দেওয়া উচিত।
ভারতের মতো দেশে এখনও অটিজমে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় অবহেলা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অটিজম রোগ নয়, এক ধরনের বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতা। শুরুর পর্বটা পেরোতে পারলে বাকি রাস্তাটা সহজ। প্রাথমিক ভাবে কোনও অভিভাবক বাচ্চার প্রতিবন্ধকতার কথা মানতে পারেন না বা মানতে চান না। কিন্তু বিষয়টি তাঁরা মেনে নিলে পরের যাত্রাপথ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। সেখানে অবশ্যই জরুরি থেরাপি। এখন প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি হয়েছে যারা প্রতিনিয়ত অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করছে, ব্যক্তি মানুষও এগিয়ে আসছেন কাজ করার বার্তা নিয়ে।
অটিজমের লক্ষণ কী কী হতে পারে: দেরিতে কথা বলা, অন্য শিশুর সঙ্গে মেলামেশায় অনীহা, স্বাভাবিক খেলাধুলা না-করা, ইশারা বুঝতে না-পারা, চোখের দিকে না-তাকানো
তাহলে উপায়: থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন, সাইকোমেট্রি পরীক্ষা করান, প্রশিক্ষণ দেয় এমন সংগঠনে কথা বলুন, সন্তানকে সময় দিন, প্রশিক্ষকের সাহায্য নিন, অবহেলা না করে সহাবস্থানের সম্পর্ক তৈরি করুন
সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজন বাচ্চার অটিজম আছে। অথচ এই সম্পর্কে অনেকেই নানারকম ভুল ধারণা পোষণ করেন। অটিজমকে ‘পাগলামি’ বলেও ধরে নেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নির্দিষ্ট কিছু থেরাপির মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা শিখতে পারবে বাচ্চাটি। তার সমস্যাও অনেকটা সামাল দেওয়া সম্ভব।
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস (World Autism Awareness Day) হোক অথবা অটিজম গর্ব দিবস (Autistic Pride Day), বাছাই করা মাত্র কয়েকটি দিনই আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলি। ‘কাউকেই পিছনে ফেলে না রাখা’ – এই মন্ত্র একটামাত্র দিন পালন করি। কিন্তু কেন? অটিস্টিক মানুষরা কি সমাজের অংশ নন? এই ভাবনাটা সারা বছরই কাজে লাগানো উচিত। তাদের সমস্ত প্রতিভাকে আরও পাঁচটা মানুষের কাছে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, সে ব্যাপারে নজর দেওয়া উচিত। একজন মানুষ তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি নিয়েই বেড়ে উঠুক। একটা কথা মনে রাখা দরকার, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, মোৎজার্ট, বিল গেটসের মতো মানুষের অটিজমের প্রকাশ অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে এই হোক আমাদের সংকল্প। ভালোবাসার চোখে সবকিছু দেখতে শিখলে, তবেই একটা সহজ সুন্দর পৃথিবী গড়তে পারব আমরা।

