বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে লিঙ্গভিত্তিক আলোচনা

অনুষ্ঠানটি হবে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে

রাবেয়া কি রুকসানা, ঠিক তো মনে পড়ে না… মেয়েরা একে একে ফুল হয়ে যায়… 

জ্জার ব্যাপার গানের পংক্তিগুলো শুধু মেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই আর। সামাজিক বিভাজন, নিষ্ঠুরতা, হিংস্রতা, লাঞ্ছনার শিকার যেকোনও বয়স, ‘জেন্ডার’ পরিচিতির মানুষ। প্রসঙ্গত, ‘সেক্স’ শব্দটির অর্থ হল জন্মগত লিঙ্গ চিহ্ন এবং ‘জেন্ডার’ শব্দটির মাধ্যমে বোঝানো হয়, একজন ব্যক্তি নিজেকে অন্তর থেকে যা ভাবছেন এবং নিজেকে যেভাবে প্রকাশ করছেন তা। আমরা এমন এক নাগরিক সমাজে থাকিযেখানে বাস্তব এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট জ্ঞানের অভাব আছে, উপরন্তু অগ্রাহ্য করা হয়।

আমরা এমন এক নাগরিক সমাজে বসবাস করি, যেখানে একজন ছাত্র তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ নয়, একজন শিশু তার আত্মীয়র কাছে নিরাপদ নয়। মা-বাবা নিজের সন্তানকে ত্যাগ করে তার অন্তরের সঙ্গে দৈহিক লিঙ্গের মিল খুঁজে না পেয়ে। এই গভীর অসুখ-নিরাময়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ নীরবতা ভাঙা। মন খুলে কথা বলতে হবে। নিজের অসুবিধা-অধিকার নিয়ে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সচেতন করতে হবে। মুখ বুজে মেনে নেওয়ার সময় এটা নয়। আমরা যেন একে অপরের হাত ধরতে ভুলে না যাই, বন্ধুতা ভুলে না যাই, যেন সাম্য থাকে, মানবিকতা-বিমুখ না হয়ে পড়ি। একটি নিরাপদ ও আরও সহানুভূতিশীল বিশ্ব তৈরির শপথ নিতে হবে আমাদের। এই কথাকে প্রাধান্য দিয়েই আগামী ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-এ কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে একটি আলোচনা ও কর্মশালার আয়োজন করেছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং ইউ.এস. কনস্যুলেট জেনারেল, কলকাতা। পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে – ইজ ইওর বেস্টফ্রেন্ড অ্যাবিউজড? (তোমার প্রিয়বন্ধু কি নির্যাতিত?/ Is Your Best Friend Abused?)

আগামী ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে একটি আলোচনা ও কর্মশালার আয়োজন করেছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং ইউ.এস. কনস্যুলেট জেনারেল, কলকাতা। পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে – ইজ ইওর বেস্টফ্রেন্ড অ্যাবিউজড? (তোমার প্রিয়বন্ধু কি নির্যাতিত?)

 আমরা জানি, মায়েস্ত্রো বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত প্রতিটি ছবিই সাম্যের কথা বলে, সমান্তরাল পৃথিবীর কথা বলে। শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ যেন মর্জি মতো বাঁচতে পারে। প্রান্তিকের স্বর হাওয়ার মতো ভেসে বেড়ায় তাঁর সিনেমার মন্তাজে, তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত স্মরণে এমন একটি অনুষ্ঠান বাঞ্ছনীয়। বুদ্ধদেবের বন্ধু-সঙ্গী, ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সোহিনী দাশগুপ্ত-র কথায়, “এই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন কীভাবে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে যেকোনো ধরনের নির্যাতনকে চিহ্নিত এবং প্রতিরোধ করা যায়; আলোচিত হবে মন, শরীর ও সম্পর্কের নানান জটিল রহস্য। এছাড়া দেখানো হবে একটি তথ্যচিত্র।”

আলোচনায় অংশ নেবেন : ড. ঈশানী রায়, প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও, সেরিন ইনক। আইন পরামরামর্শদাতা মৃণালিনী মজুমদার। ড. শতভীষা চ্যাটার্জি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং থেরাপিস্ট। ড. সোহিনী চক্রবর্তী, সমাজবিজ্ঞানী ও নৃত্য কর্মী। এবং ড. অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোবিজ্ঞানী, প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শদাতা ও কবি। জনসাধারণ অংশগ্রহণ করবেন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে।

Post Tags
Developed by DXDasia