১৩ বছর ধরে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধে অবিচল বাংলার একমাত্র ইতিবাচক ঠিকানা ‘বঙ্গদর্শন’

আজ পয়লা বৈশাখ ১৪৩০, বঙ্গদর্শন.কম-এর ১৪তম জন্মদিন

প্রিয় পাঠক,

আজ পয়লা বৈশাখ ১৪৩০, বঙ্গদর্শন.কম-এর ১৪তম জন্মদিন। আজ থেকে ১৩ বছর আগে পথ চলা শুরু করে ‘বঙ্গদর্শন’ তার আক্ষরিক অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখেছে শুধু তাই নয়, বাংলার একমাত্র ইতিবাচক ঠিকানা যে এই পোর্টাল, একথা আমরা অর্থাৎ টিম বঙ্গদর্শন আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারি। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি এই পাঠ্যাভ্যাসের অবনমনের সময়ে, ভাষা-সন্ত্রাসের দিনেও গুগল অ্যানালেটিক্স অনুযায়ী আমাদের পাঠক-সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আবিশ্বের বাঙালি পাঠকের মননে জায়গা করে নিয়ে, জ্ঞানপিপাসু বাঙালির প্রিয়বন্ধু হয়ে উঠেছে বঙ্গদর্শন.কম। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা না বললেই নয়, আমরা কিন্তু বাংলার কোনও ভেদাভেদ রাখিনি। দিনের শেষে আমরা সবাই বাঙালি, আমাদের আলাদা করে কোনও পূর্ববঙ্গ-পশ্চিমবঙ্গ নেই। রবিঠাকুরের দর্শন আমরা মাথা পেতে নিয়েছি— “বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন – এক হউক, এক হউক, এক হউক…”।

উল্লেখ্য, শুরুর দিন থেকে এখনও পর্যন্ত এই পোর্টাল নিজস্ব আভিজাত্য এবং মেজাজ থেকে এক পা-ও বেরোয়নি। প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে না গিয়ে বঙ্গদর্শন তুলে এনেছে বাংলার ইতিবাচকতার নানান দিক। নেতির পথে পা মেলাতে আমরা অভ্যস্ত নই, আমরা আলোচনা, সমালোচনা করি – সেখানে ইতিবাচক ভাবনার হদিশ থাকে। এই দীর্ঘ সময়কাল ধরে আমাদের পাশে থেকেছেন বাংলার অসংখ্য কৃতি ব্যক্তিত্বরা।

ফ্লিপবুক পুজোসংখ্যার মতো গবেষণাধর্মী কাজ নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গদর্শনে। অনলাইনেও যে পাতা ওল্টানো যায়, তার প্রথম চিহ্ন তৈরি করেছিল ‘বঙ্গদর্শন পুজোসংখ্যা’। এছাড়াও ‘শনিবারের কড়চা’-র মতো সাপ্তাহিক (পরে পাক্ষিক) পত্রিকা ধারবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে মাসের দুই শনিবার। এখনও অবধি যার ৭৪টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। খেলা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, রান্না, সাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি, চলচ্চিত্র, থিয়েটার, ওটিটি, কলকাতা, জেলা, বাংলাদেশ, গান, লোকসংস্কৃতি, প্রতিদিনের বাছাই খবর – আমাদের সমস্ত কাজের সাক্ষী থেকেছেন আপনারা।

পাঠক ইতিমধ্যেই জেনে গিয়েছেন, বাংলার ইতিবাচক ঠিকানার হালহকিকত, এমনকি আপনার বাড়িতে পৌঁছে গিয়ে সেই উদ্ভাসিত আলোটি খুঁজে আনার প্রচেষ্টা রাখি আমরা। সোশ্যাল মিডিয়ার হইচই আর একাধিক প্রিন্ট/ডিজিটাল মিডিয়ার ইঁদুর দৌড়ে আমরা চলতে অভ্যস্ত নই৷ বলা ভালো, এটা আমাদের কাজও মনে করি না। আমরা সবসময় বলতে চেয়েছি, এ জীবন উল্লাসের, এ জীবন গুহার এক মৃদু আলো, সর্বোপরি এ জীবন বেঁচে থাকার। তাই করোনা আক্রান্ত পৃথিবীতে মৃত্যু বা আমফান বিধ্বস্ত বাংলার ধ্বংসের আর কান্নার ছবি আমরা দেখাইনি৷ আমরা চেয়েছি ধ্বংসের মধ্যে থেকে নতুন পথ খুঁজে নিক মানুষ। ইতিবাচক বাংলার ছবিই তাই পৌঁছে গেছে পাঠকদের ঘরে ঘরে।

আমাদের আশ্রয় সেইসব মানুষগুলি, যাঁরা অন্ধকারের মধ্যে থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে জানেন। কেউ ভাঙা বাড়ি সারিয়ে তোলেন, কেউ সাধ্যমতো শিক্ষার প্রসার ঘটান, আবার বন্ধুর যত্ন নেন আরেক বন্ধু — এটাই তো বাংলা। আর এটাই আমরা তুলে ধরতে চাই।

আমরা পোর্টালবন্দি হয়েও বসে থাকিনি। বিধ্বংসী আমফানের পর পৌঁছে গিয়েছি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলি গ্রামে। সেখানে ঝড়ে ভেঙে যাওয়া কাকিমার পাঠশালা পুনর্নিমাণের দায়িত্ব নিয়েছি। বর্তমানে অসীমা ভাণ্ডারী সেই পাঠশালায় জ্ঞানের প্রদীপশিখা জ্বালিয়ে রেখেছেন। ২০১৯ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা মানুষের জনমত শুনতে ঘুরে বেড়িয়েছি রাজ্যের জেলায় জেলায়। ‘জন-গণ-মন’ নামক সেই অনুষ্ঠানে বিপুল সাড়া এবং সমর্থন বুঝিয়ে দিয়েছিল আমাদের কণ্ঠস্বর আসলে আপনাদেরই। অর্থাৎ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসকক্ষের পাশাপাশি গমগমে গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমরা তুলে এনেছিলাম সদর্থক কিছু দিক। ভরসা বলতে এটুকুই। আস্থার ঠিকানা তৈরি করে দিয়েছেন আপনারাই। এছাড়াও বঙ্গদর্শনে শুরু হয়েছে কিছু নতুন বিভাগ। ‘জীবনধারা’ সংক্রান্ত একটি নতুন বিভাগে যুক্ত হয়েছে খাবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাজ এবং বাণিজ্য। এছাড়াও তিনটি ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছে/হচ্ছে গত এক বছর ধরে। বাণিজ্যিক নৌ-শিক্ষণের সূত্রে সাতশোর উপর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাগরে ভাসা ও নিত্য নতুন বন্দরে ভ্রমণ করেছেন আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস মেরিটাইম অ্যাকাডেমির অধ্যাপিকা মধুবাণী ঘোষ। অবিশ্বাস্য সেই ভ্রমণ কাহিনি ‘ভালোবাসার কথা বলতে এলাম’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হচ্ছে মানবাধিকার, বিশেষত ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও শ্রমিক উন্নয়ন বিষয়ে প্রবাসী কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ধারাবাহিক ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’। এছাড়াও বাংলার শিক্ষাকে আরও অগ্রসর করতে এবং বিশ্বের বাঙালিদের সে সম্বন্ধে অবগত করতে বিশিষ্ট সাংবাদিক শিবপ্রিয় দাশগুপ্তের কলামে চলছে স্কুল সিরিজ ‘আমাদের ইস্কুল’। এডিটোরিয়াল টিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে কৃষিবিজ্ঞান, জেন্ডার, জ্যোতির্বিজ্ঞান, অর্থনীতি, পরিবেশ ও প্রাণীজগতের মতো আলাদা কয়েকটি নতুন বিভাগ। আসছে নানান ভিডিও সিরিজ, ভ্লগ, কথোপকথন ভিত্তিক অনুষ্ঠান।

আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তেরোটি বছর ধরে যে কাজে আমরা ব্রতী হয়েছি, আগামীদিনে সেখান থেকে আমরা সরব না। বরং ‘ইতিবাচক’ শব্দকে হাতিয়ার করে নিজেদের পথ আরও প্রশস্ত করব।

ধন্যবাদান্তে
টিম বঙ্গদর্শন

 

Developed by DXDasia