ফ্রেমভর্তি সাদা-কালো জীবন, উঁকি মারছে প্রতীক দে চৌধুরীর ক্যামেরায়

বঙ্গদর্শনের গ্যালারি। প্রতীক দে চৌধুরীর আটটি ফ্রেমের ছবিমহল…

"Keep your face always toward the sunshine- and shadows will fall behind you."

স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকা কিংবা স্মৃতিকে নিজের বন্ধু বানিয়ে হাত ধরে চলা- হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে পুরোনো মফস্বল, চেনা গাছগাছালি, চেনা বাড়ির রান্নাঘর, হিমশীতল পাহাড় অথবা নিজেকেই। ঠিক এমনভাবে নিজেকে যাচাই করে নিতে চান তরুণ আলোকচিত্রী প্রতীক দে চৌধুরী। যাচাইয়ের পথ ধরে ক্রমশ নিজেকেই পাঠ করতে চান, বর্তমান যেন তাঁকে ভাবায়। প্রতীকের ছবির ফ্রেম পরতে পরতে জানান দেয় খোঁজ হতে হবে সম্পূর্ণ নিজের, নিজস্ব। এভাবে তৈরি হবে একলা চলার পৃথিবী। বাঁচার রসদ সেখানেই। বঙ্গদর্শনের নতুন বিভাগ ‘ছবিমহল’। আর পাঁচটা গ্যালারিতে যেমনভাবে ছবি দেখেন, মতামত জানান- এখানেও তাই। প্রতীক দে চৌধুরীর বাছাই করা আটটি ছবি তোলা রইল ‘ছবিমহল’-এ। আসুন, ঘুরে আসি। 

বাগবাজার, কলকাতা। ছেলেটি ঘুমিয়ে। ছেলেটি জানে না তার বয়সের ছাপ-ছোপ। একাকী মা ব্যস্ত রয়েছেন কাজে। প্রতিদিনের কাজ। সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে মিশে আছে ব্যাথা, পরিশ্রম, রাগ…

 

ক্যানিং, দক্ষিণ ২৪ পরগণা। হাসিদের দেশ। এই হাসি জানে আদুরে শৈশব। এখানে বড়ো হওয়া মানা। এখানে সেপ্টিপিনে লেপটে থাকে জামা। শিশুটির জামার রং সাদা… শিশুটির হাসির রং সাদা।

 

ক্যানিং, দক্ষিণ ২৪ পরগণা। মাতলা নদীর পার। সাদা-কালো হাওয়ার বয়ে চলেছেন নাবিক। একটা ধূসর রঙের আবহাওয়া। নাবিকের যাত্রা সম্পূর্ণ হয় এক একটা প্রদক্ষিণে। নৌকো জানে শীতের ইশারা আর সাইকেল গন্তব্যে ছোটে। নাবিকটি তার বন্ধু।

 

কফিহাউস, কলকাতা। কফির ধোঁয়া থেকে উড়ে যায় ভালোবাসাবাসি। অনেক দূরে রোদ নিয়ে বসে আছে দুপুর। এপারের টেবিলজুড়ে চেয়ে দেখা…কবিতা…সংসারে ফিরতে হবে আবার।

 

দার্জিলিং। বিশ্বাসে ভর করে নাবিক টেনে নিয়ে চলেছেন মহাকালের ঘোড়া। তাদের জীবন জুড়ে ছোটা। ক্লান্তির পাশে মেঘ জমে আছে। মেঘ, বাড়ি, পাথুরে রাস্তা… একে অপরের বন্ধু।

 

কুমোরটুলি, কলকাতা। এখানে ঈশ্বর থাকেন নগ্ন। এখানে বিনিসুতোর কোলাজে ভরে ওঠে মাটি মাটি সংসার। শিল্পী মেতেছেন ঋতুবৈচিত্র্যে। মাটির প্রলেপে আস্ত একটা সংসার নিয়ে কেটে যাবে তাঁর জীবদ্দশা।

 

“কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার…” কুয়াশা, হিম, জানালা, একা… রাসবিহারী, কলকাতা

 

শ্যামবাজার, কলকাতা। সুজন মাঝির সামনে দিয়ে উড়ে যায় সাদাকালো শহর। একলার পাশে ঘুম… একটা লাঠি… দূরত্ব ঘুচে গেলে প্রিয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে যাবে ঠিক।

Developed by DXDasia