ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল : ১৮৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজ্যের অন্যতম হেরিটেজ

সাংবাদিক শিবপ্রিয় দাশগুপ্তের কলামে ‘আমাদের ইস্কুল’ – পর্ব ৪৪

স্কুলের সবথেকে পুরোনো ছবি

ব্যারাকপুরের তালপুকুরের কাছে ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডে অবস্থিত, ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৩৭ সালে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এমিলি ইডেন। তৎকালীন ইংরেজ আমলের বড়লাট, তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যান্ডের বোন ছিলেন এই এমিলি। তখন স্কুলটির নাম ছিল গভর্নর’স স্কুল। তিনি নিজ খরচে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানা যায়। স্কুলের মূল ভবনটি এখন হেরিটেজ ভবন হিসেবে পরিচিত, এই ভবনটিতেই স্কুলের প্রথম ক্লাস শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন, ২০০১ এর আইন অনুযায়ী এটিকে ঐতিহ্যশালী ভবনের স্বীকৃতি দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি সরকারি স্কুলের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা-র ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের মতো গথিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি স্কুল ভবন আর কোথাও নেই, যা ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশদের নির্মাণশৈলীকে বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বিদ্যালয়ের মূল ভবনের স্থাপত্যশৈলী খ্রীষ্টীয় প্রার্থনাগৃহের আকৃতি বিশিষ্ট হওয়ার দরুণ আজও সমগ্র ভারতবর্ষে তা অদ্বিতীয়।     

সরকারি সংরক্ষণাগার, সংবাদপত্র ও জার্নালে স্কুলটিকে ইডেন স্কুল, ভাইস-রিগাল স্কুল, ভাইসরয়ের পার্ক স্কুল, গভর্নর স্কুল, ব্যারাকপুর সরকারি পার্ক স্কুল হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে স্কুলটি ব্যারাকপুর সরকারি স্কুল বা ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাই স্কুল নামেই পরিচিত।

বর্তমান স্কুল ভবন

সেই সময়কার স্থানীয় বাঙালি পাড়ার দরিদ্র শিশুদের ইংরেজি ভাষা শেখানোর জন্য স্কুলটি স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। মুষ্টিমেয় স্থানীয় ছেলেদের নিয়ে স্কুলটি শুরু হয়েছিল। স্কুলটি নিয়ে লর্ড অকল্যান্ড এতই উৎসাহী ছিলেন যে তিনি সেই সময় স্কুলে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের মধ্যে বিনামূল্যে কলম, বই, লেখার কাগজ বিতরণ করতেন। কৃতি ছাত্রদের জন্য একটি বৃত্তির ব্যবস্থাও করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির অভিভাবকদের উৎসাহিত করা, যাতে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত বোধ করেন। লর্ড অকল্যান্ডের স্কুলে বর্ণ বৈষম্যের কোন স্থান ছিল না, এই স্কুলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে পড়াশোনা করত, যা সেই সময়ের বিচারে ছিল একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

লর্ড অকল্যান্ড সর্বোত্তম মানের শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজের খরচে কলকাতা এবং সারা বাংলা থেকে গুণী শিক্ষকদের এই স্কুলে পড়ানোর জন্য নিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম রসিক লাল সেন ছিলেন এই স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক। স্কুলটি তৎকালীন ব্যারাকপুর পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শুরু হয়েছিল, বর্তমানে যে জায়গাটা লাটবাগান নামে বিখ্যাত।

এমিলি ইডেন এই স্কুল সম্পর্কে উৎসাহী হয়ে লিখেছিলেন, “George’s new school has been open this last fortnight and some of the little native boys already read a fable in one syllable. It is astonishing how quick they are when they choose to learn.” –Letter dated 26 March 1837, Barrackpore.

স্কুলের প্রতিষ্ঠার দিবস নিয়ে তথ্য সন্ধান করে অনুমান করা হয় ১৮৩৭ সালের ২ জানুয়ারি স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ঔপনিবেশিক সময়ের শেষ পর্যন্ত স্কুলটি উপ-রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় চলেছে। লর্ড অকল্যান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী গভর্নর জেনারেলরা বিদ্যালয়টি রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে লেডি এবং লর্ড ক্যানিং ছিলেন এই স্কুল সম্পর্কে অত্যন্ত উৎসাহী। শার্লট, কাউন্টেস ক্যানিং স্কুলটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং স্কুলটির অনুকূলে তাঁর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর, লর্ড ক্যানিং সম্ভবত তাঁর স্ত্রী’র স্মরণে স্কুল ভবনের সম্প্রসারণের জন্য নিজের তহবিল থেকে একটি আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন।

স্কুলের অন্যতম ঐতিহ্য ছিল, স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণীর কৃতী ও মেধাবী স্কুলের ছাত্রকে গভর্নর নিজের হাতে পুরস্কার দিতেন। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যপাল নিজে কৃতী ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন। লর্ড অকল্যান্ডের আমল থেকে শুরু করে ছাত্ররা এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্যারাকপুরের গঙ্গার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা ধরে স্কুল থেকে গভর্নর জেনারেল হাউসের দিকে মিছিল করে যেত। সাধারণত এই বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানগুলি ছাত্ররাই আয়োজন করত, সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হত এবং গভর্নরের সংক্ষিপ্ত অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ থাকত এই অনুষ্ঠানে। ঔপনিবেশিক যুগের পরেও ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত এই ঐতিহ্য অব্যাহত ছিল, রাজ্যপালই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কৃতীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতেন। এসব ঘটনা এখন অতীত।

বিদ্যালয়ের প্রাচীনতম নিও-গথিক স্থাপত্য শৈলীতে তৈরি ভবনটি এখনও রয়েছে। ওই কাঠামোটির প্রধান স্থাপত্যটির চূড়ার উপরে নকশার ছোটোখাটো পরিবর্তন ছাড়া প্রায় পুরোটাই এখনও অপরিবর্তিতই। ভবনটি এখন প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে খুব জরাজীর্ণ দশা। 


স্কুলের বাম পাশে বিস্তৃত ভবনটি পুরোনো স্থাপত্য। বিটি রোড বরাবর বিস্তৃত ডান দিকের অংশটি তুলনামূলকভাবে নতুন। উত্তর-পশ্চিম দিকের ভবনটিও নতুন; এটি বিজ্ঞান ভবন এবং এখানেই সব পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরি রয়েছে। তার পাশেই পুরোনো ভবনটি সম্ভবত প্রথম ছাত্র হোস্টেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংযোজন হল ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিম কোণের বহুতল ভবন।স্কুলের উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন, ডাঃ ভোলা নাথ বসু। তিনি তৎকালীন একজন অগ্রণী ভারতীয় এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন। তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি, এমনকি স্বর্ণপদকটিও দান করেছিলেন এই স্কুলকে। তিনি তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য মেডিকেল কলেজ থেকে এই স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। দরিদ্রদের সেবা করার জন্য স্কুলের বিপরীতে তাঁর নামে “ডাঃ. বি.এন. বোস হসপিটাল” নামকরণ হয়েছে।

ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের প্রাক্তনী সুরজিৎ মজুমদার জানান, “রাজ্যের ৪২টি সরকারি স্কুলের মধ্যে আমাদের স্কুলের একটা আলাদা ঐতিহ্য হচ্ছে যেহেতু স্কুলটি বড়লাটের বোন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাই স্কুলের শুরু থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যপাল স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুস্থানে উপস্থিত হয়ে কৃতি ছাত্রদের পুরস্কার দিতেন নিজের হাতে। তাই এই স্কুলকে ‘গভর্নর স্কুল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বলা হয়। ভারতের কোথাও আমাদের মতো স্কুল ভবন নেই। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন স্কুলের মূল ভবনটিকে হেরিটেজ ভবন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে বর্তমানে সংস্কারের অভাবে স্কুলের এই মূল ভবনের খুব খারাপ অবস্থা। সরকারের কাছে এবং অন্যান্য জায়গায় আমরা এই ভবনটি সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। ভবনটি দেখলে এখন কষ্ট হয়। এছাড়াও শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় স্কুলের অন্য সমস্যা হচ্ছে। ননটিচিং স্টাফ-এর সংখ্যাও যথেষ্ট কম। স্কুলে ভেতরটা খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। আমরা Ex Student’s Association থেকে নিজেরা চাঁদা তুলে স্কুলের টয়লেট, স্যানিটারি, ওয়াটার পিউরিফায়ার ইত্যাদি করে দিয়েছি। স্কুলের একটা বড়ো মাঠ আছে, যেটা খারাপ অবস্থায় ছিল। আমরা সেটার সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছি। প্রতি ২ বছর অন্তর ২৫ ডিসেম্বর আমাদের স্কুলের গ্রান্ড রিইউনিয়ন হয়। সারা পৃথিবীতে যেখানে আমাদের ছাত্ররা আছেন তাঁরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাওয়াদাওয়া হয় সারাদিন ধরে। এ বছরও এর অন্যথা হবে না।” সারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই স্কুলের ২ শতাংশ ছাত্র রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ডাক্তার, আইএএস, আইপিএস, প্রশাসনের পদাধিকারী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় কর্মরত। প্রায় সর্বত্রই ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট স্কুলের কাউকে না কাউকে পাওয়া যাবেই। স্কুলের উল্টোদিকেই রয়েছে বি এন বোস হাসপাতাল। বি এন বোস হচ্ছেন ডাঃ ভোলানাথ বসু, এশিয়ার প্রথম এমবিবিএস ডাক্টার। তিনি এই স্কুলেরই প্রাক্তনী। নাট্যবিদ ক্ষীরোদ প্রসাদ বিদ্যাবিনোদ ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। বাচিক শিল্পী প্রদীপ ঘোষ, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সচিব স্বামী নিত্যানন্দ মহারাজ, অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী প্রমুখ এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। 

বর্তমানে স্কুল ভবনের খারাপ অবস্থা দেখে চলতি বছরে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ক্লাস রুমের খারাপ অবস্থা, বিপদের ঝুঁকি নিয়ে পড়ুয়ারা ক্লাস করে, পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাও নেই। অথচ স্কুলে ১২০০-র উপরে ছাত্র। স্কুলে ১৯ জন শিক্ষক কম আছেন। উচ্চমাধ্যমিকে ইংরেজি মাধ্যম আছে। এই সময়কার মানুষের মধ্যে পুরনো জিনিষকে গুরুত্ব দেওয়া কমে গেছে। তাই পুরোনো, ঐতিহ্যশালী স্কুলগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। এদিকে স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্কুল সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি সরকারি স্কুলের আধিকারিক হিসেবে স্কুলের সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না।”তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক শিক্ষক জানান, “এই মুহূর্তের স্কুলের অবস্থা খুব খারাপ। স্কুলের ইতিহাস খুব উজ্বল, তবে তাকে ধরে রাখার কোনও সদিচ্ছা তেমন নেই। মাস দেড়েক আগে স্কুলের অভিভাবকরা স্কুলের খারাপ পরিকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি, ক্লাস না হওয়া, ক্লাস রুমের চাঙড় ভেঙে পড়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমরা চাই সরকার আমাদের স্কুলের ক্লাস রুম থেকে শুরু করে, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যার ঘাটতি সহ যে সমস্ত সমস্যা আছে সেগুলো মেটাক। না হলে এই ঐতিহাসিক গৌরব জড়িত স্কুলের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ জায়গায় পৌঁছে যাবে। এই মুহূর্তে আমাদের স্কুলে ১৯টি পদে শিক্ষক নেই। জানুয়ারী মাসে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও মর্নিং বিভাগের টিচার-ইন-চার্জ অবসর গ্রহণ করলে ২১টি শিক্ষকের পদ খালি হয়ে যাবে। ১০টি গ্রুপ ডি পদ খালি। হেরিটেজ ভবন যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে। অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখা যাচ্ছে না। সব ক্রমেই ধ্বংসস্তূপের রূপ নিতে যাচ্ছে। শুধু পুরোনো, গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে গর্ব করলেই হবে না, স্কুলের বর্তমান দুর্দশার কাটানোর কথা অবশ্যই ভাবতে হবে, বলতে হবে।”

তথ্যসূত্র: অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাই স্কুল
সুরজিৎ মজুমদার, স্কুলের প্রাক্তনী
অভিভাবক, ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাই স্কুল  
ছবি: সংগৃহীত
*কলকাতা, শহরতলি বা জেলার কোনও না কোনও স্কুলের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে গর্বের ইতিহাস রয়েছে, রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বুনিয়াদি গল্প। এবার সেদিকেই ফিরে তাকিয়ে চলছে নতুন ধারাবাহিক ‘আমাদের ইস্কুল’। সমস্ত পর্ব পড়তে
এখানে ক্লিক করুন। চোখ রাখুন প্রতি বুধবার সন্ধে ৬টায়, শুধুমাত্র বঙ্গদর্শনে।

Developed by DXDasia