
প্রথাগত পেশার পিছনে দৌড়ে বেড়ানো প্রজন্ম এখন থমকে দাঁড়িয়েছে। ভাবতে শুরু করেছে কেন আমি দৌড়ে যাচ্ছি, কেন ছুটে বেড়াচ্ছি মরীচিকার পিছনে? তার চেয়ে আরব বেদুইন হয়ে কাটিয়ে দিতে পারি না, একটা গোটা জীবন? কোনও এক ছোট্ট রেলগেটের গেটম্যান হয়ে সারাদিন ধরে একটা মাত্র ট্রেনের অপেক্ষা করব আর দূরে তাকিয়ে থাকব হলুদ পাখিটার দিকে। নদীতে মাঝির কাজ করব। সারাদিন ভেসে বেড়াব পালতোলা নৌকায়। পাহাড়ে একটা ছোট্ট হোমস্টে খুলব। বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব পাহাড়ের শূন্যতায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গালাগালি খাওয়ার চেয়ে একটা ছোট্ট ছিমছাম ক্যাফে খুলব শহরের বুকে। সেখানে গানবাজনা হবে। আড্ডা হবে।জীবনটা মোলায়েম হবে। কোনও এক সরকারি অফিসের ক্লার্ক হব। সারাদিন গিয়ে দু-একটা ফাইল এইদিক থেকে ওইদিক করেই আমার বেলা কেটে যাবে। মাঝেমধ্যেই ফাঁকি মারব। বেশ হবে। ন্যাশনাল লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান হলে কেমন হয়? শুধু বই পড়ব। দুষ্প্রাপ্য বই, অমূল্য বই। উফফফ! এইরকম একটা জীবনের জন্যই বেঁচে থাকা। কোনও প্রকাশনীর জন্য লেখাপত্র এডিটিংয়ের কাজ করব, কত লেখা পড়তে পারব প্রতিদিন। এইগুলোর মধ্যে কিছুই না হলে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াব, আবিষ্কার করব অজানাকে। এই ইচ্ছে আমাদের সব মধ্যবিত্ত জীবনের দোসর। তবে, বাঁধ সাধে অর্থ। যে অর্থের জন্যই দৌড়, সেই দৌড় আবার থমকে যায়। এই ভেবে যে, ইচ্ছেগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। যা ছাড়া কিছুই হবে না। (বিকল্প পেশা)
সমাজমাধ্যমে একটা ক্লিকেই নিজের বেকারত্ব ঘুচতে পারে, নিমেষেই হওয়া যায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। চাকরি, ব্যবসার পাশাপাশি অতিরিক্ত উপার্জনের নতুন রাস্তা এখন কন্টেন্ট ক্রিয়েশন। কী বানাচ্ছি, সেটা বড়ো কথা নয়। যা ইচ্ছে হয় তাই বানাচ্ছি এবং উপার্জন করছি সেটাই আসল কথা। এর জন্য লাগছে না অতিরিক্ত কোনও স্কিলস।
আমরা এমন একটা বিকল্প পৃথিবীর কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটছি, যে পৃথিবীতে রাখা আছে জাদু কাঠি।সমাজমাধ্যমে একটা ক্লিকেই নিজের বেকারত্ব ঘুচতে পারে, নিমেষেই হওয়া যায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। চাকরি, ব্যবসার পাশাপাশি অতিরিক্ত উপার্জনের নতুন রাস্তা এখন কন্টেন্ট ক্রিয়েশন। কী বানাচ্ছি, সেটা বড়ো কথা নয়। যা ইচ্ছে হয় তাই বানাচ্ছি এবং উপার্জন করছি সেটাই আসল কথা। এর জন্য লাগছে না অতিরিক্ত কোনও স্কিলস। আমাদের জীবনযাত্রার প্রাথমিক কিছু উপাদানকে এদিক ওদিক করে কাজে লাগিয়ে দিব্যি আসছে অর্থ। ব্যক্তিগত জীবনকে আর গোপন না রেখে সবটাই উজাড় করে দিচ্ছি লোকারণ্যে, তার বদলে মিলছে মোটা টাকা। বাড়ছে লোভ, লালসা। কমছে প্রথাগত চাকরির মায়া। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একবার গালাগাল দিয়ে দেখুক, সঙ্গে সঙ্গে চাকরিটা ছেড়ে দেব। কন্টেন্ট ক্রিয়েশন করে পেট চালাব। আবার এক শ্রেণির মানুষ ভাবছে ষাট নয় চল্লিশেই অবসর নেব। তাই অবসরের আগে চাকরি এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন করে কামিয়ে নিই। তারপর ছেড়েছুড়ে পাহাড়ে। এর ফলে কিন্তু প্রথাগত চাকরির কাঠামো আরও শক্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিক উপার্জনের হার হ্রাস পাচ্ছে। (বিকল্প পেশা)
ফ্রিল্যান্সিং এখন আর শুধুই বাড়তি আয়ের পথ নয়, অনেকের কাছে এটা মূল পেশা। লেখা, অনুবাদ, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন, ফুড ব্লগিং, ট্র্যাভেল ব্লগিং, কোডিং যে কোনো দক্ষতাকেই ব্যবহার করে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আয় করা সম্ভব। ভারতে বর্তমানে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ গিগ-ইকোনমিতে কাজ করছে । গিগ ইকোনমি বলতে বোঝায় এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে স্থায়ী চাকরির বদলে মানুষ চুক্তিভিত্তিক, স্বল্পমেয়াদি বা এককালীন কাজ করে আয় করে। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম যেমন ‘আপওয়ার্ক’ বা ‘ফিভার’ ছাড়াও এখন দেশীয় অনেক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। এর ফলে প্রথাগত চাকরির পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনের সুযোগ বাড়ছে। ডেলিভারি সংক্রান্ত কাজের চাহিদা বাড়ছে। নতুন প্রজন্ম চাকরির পাশাপাশি র্যাপিডো, ওলা, উবার বা ডেলিভারি সংক্রান্ত কাজ করছে। অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য তারা প্রায় সারাটা দিন দিচ্ছে। কেউ কেউ সপ্তাহ শেষেও কাজ করছে। (বিকল্প পেশা)
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ক্লিকবেইট নিউজ পোর্টাল এক বিরাট বাজার তৈরি করেছে। মিথ্যা খবর বা অতিরঞ্জিত শিরোনাম দিয়ে পাঠক টেনে এনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপার্জন করা হয়। ভারতে ভুয়ো খবরের বাজার এতটাই বেড়েছে যে ২০২৩ সালে প্রায় ৪০% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অন্তত একবার বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ফাঁদে পড়েছেন।
ডিজিটাল দুনিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপার্জনের পথ হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। ব্লগ, ইউটিউব বা ফেসবুক পেজে কোনও পণ্যের লিঙ্ক শেয়ার করলে সেই লিঙ্ক দিয়ে পণ্য বিক্রি হলে কমিশন মেলে। এভাবে কোনও ইনভেন্টরি ছাড়াই আয় সম্ভব। ভারতের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বাজারে পৌঁছেছে। তবে এখানে সাফল্য নির্ভর করে বিশ্বাসযোগ্যতা ও দর্শক ধরে রাখার ক্ষমতার ওপর। এছাড়া ড্রপশিপিং মডেলে নিজের কোনো স্টক ছাড়াই অনলাইনে দোকান খোলা যায়। ক্রেতা অর্ডার করলে সরাসরি সাপ্লায়ার থেকে পণ্য পৌঁছে যায়, ফলে ব্যবসায়ীর খরচ কমে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ভারতে ২০২৫ সালের মধ্যে ই-কমার্স বাজারের আকার ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।এর পাশাপাশি পাহাড়ি গ্রাম বা শহরের অলিগলিতে আজকাল হোমস্টে আর ছোটো ক্যাফে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। খুব বেশি মূলধন ছাড়াই বাড়ির একটি অংশকে রেনোভেট করে পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেওয়া যায়। এয়ার বিএনবি-র মতো প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন বুকিংও সহজ। ভারতের গ্রামীণ পর্যটন বাজার বছরে প্রায় ১৫% হারে বাড়ছে। আবার শহরের ক্যাফেগুলো এখন শুধু খাওয়ার জায়গা নয় উপরন্তু আড্ডা, সংগীত আর ইভেন্টের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ফলে এখানে ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বাড়ছে। (বিকল্প পেশা)
শিক্ষা-দক্ষতাকেও আজ অনায়াসে রোজগারের উপায় বানানো যায়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজের কোর্স বানিয়ে বিক্রি করা বা সরাসরি টিউশন নেওয়া এখন সাধারণ ঘটনা। ভারতের অনলাইন এডুকেশন বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা এবং আগামী কয়েক বছরে তা দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভাষা শিক্ষা, কোডিং ও প্রফেশনাল স্কিলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ব্র্যান্ড এখন বিজ্ঞাপনের বড়ো অংশই সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের হাতে তুলে দিচ্ছে। শুধু সেলিব্রিটি নয়, মাইক্রো-ইনফ্লুয়েন্সাররাও (যাদের ১০ থেকে ৫০ হাজার ফলোয়ার) মোটা অঙ্কে উপার্জন করছেন। ভারতের ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেট ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২,২০০ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে অনুমান।
রিলসের বাজারও এখন বেশ ভালো। বিষয়ভিত্তিক বা জীবনভিত্তিক রিলস বানিয়ে অনেকে উপার্জন করছে। রিলস দেখে কোনও কোনও সংস্থা তাঁদের বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করছে। উপার্জন হচ্ছে। ভিন্ন পৃথিবীর কাঁধে হাত রেখে এগিয়ে চলছে জীবন। সোশ্যাল মিডিয়ার এখন অন্যতম হটফেভারিট পডকাস্ট। সেই পডকাস্টের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে তন্ত্র, ভূত, জ্যোতিষ। যে যা ইচ্ছে বলে দিচ্ছে। সেটাই চলছে এবং চলবেও। কারণ আমরা ভয় পেতে ভালোবাসি। কলিযুগে তন্ত্র এবং জ্যোতিষের যে বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাবে সেটা অনেকেই বলেছিলেন তবে স্রোত যে দিকে বইছে তা মোটেও অনুকূল নয়। একটা ভ্রান্ত ধারণার পিছনে ছুটছি। যে কাউকেই এনে বসিয়ে দিচ্ছি মাইকের সামনে। প্রথাগত চাকরির পাশাপাশি বেশ উৎসাহের সঙ্গে চলছে পডকাস্টের শ্যুটিং। দু-তরফা উপার্জন হচ্ছে। এছাড়াও তাবিজ, পেন্ডেন্ট, ব্ল্যাক ম্যাজিক রিমুভাল, ভবিষ্যৎবাণী এইসব সেবার আড়ালে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য। একেকজন ‘ইনস্টা-তান্ত্রিক’ মাসে কয়েক লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ক্লিকবেইট নিউজ পোর্টাল এক বিরাট বাজার তৈরি করেছে। মিথ্যা খবর বা অতিরঞ্জিত শিরোনাম দিয়ে পাঠক টেনে এনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপার্জন করা হয়। ভারতে ভুয়ো খবরের বাজার এতটাই বেড়েছে যে ২০২৩ সালে প্রায় ৪০% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অন্তত একবার বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ফাঁদে পড়েছেন। ক্রিকেট বেটিং থেকে শুরু করে ক্যাসিনো—সবই অনলাইনে চলছে। অনেক তরুণ এতে ঝুঁকে পড়ছে দ্রুত উপার্জনের লোভে। লাভও হচ্ছে, ক্ষতিও। এই ঝুঁকিপূর্ণ যুগে ঝুঁকি না নেওয়াটা বিরাট ঝুঁকি। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জুয়া এবং গেমিং-এর মাধ্যমে আয়ের উৎস খুঁজে পাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। বাড়ি বসেই আসছে মোটা টাকা। লাগছে না বিশেষ বুদ্ধি। প্রথাগত শিক্ষারও প্রয়োগ এখানে নেই। তাই সহজেই আমরা ঢুকে পড়ছি অন্য দুনিয়ায়।
পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকেই যৌনতা এবং যৌনতাকে গড়ে ওঠা ব্যবসার হালহকিকত নিয়ে সমাজ নাক সিটকালেও, যৌনতাকে ভিত্তি করে একটা বিপুল ব্যবসার উপর নির্ভর করে প্রায় কয়েক কোটি মানুষ। ঠিক না ভুল, সেই প্রসঙ্গে না যাওয়াই ভাল। কারণ পৃথিবীতে আদর্শ বলে কিছু হয় না। আমার কাছে যেটা ঠিক সেটা অন্যের কাছে ভুল হতেই পারে। তাই এই বদলের যুগে যৌনতা এখন ডিজিটাল পণ্য হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে কলকাতার এক দম্পতি তাঁদের যৌনতা লাইভ স্ট্রিমিং করে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছিল তাঁরা দুজনেই একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত। তাঁদের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত অ্যাডাল্ট সাইটে লাইভ স্ট্রিমিং করে উপার্জন করতে আপত্তি নেই। সেই উপার্জনও বেশ ভালো। প্রায় লাখ টাকার সমান। সেই টাকাও যে পথে আসছে, তাঁদের দাবি অনুসারে সেটা স্বচ্ছ এবং সেখানে ট্যাক্স কাটা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন অ্যাপলিকেশন যেমন জয়েন মাই অ্যাপ, প্যাটরিয়ন, অনলি ফ্যানস ইত্যাদিতে নিজেদের খোলামেলা ছবি আপলোড করা এবং সেই ছবি কেউ চাইলে সাবস্ক্রিবশনের ভিত্তিতে দেখতে পাবে। একদম জলভাত বিষয়। যে কেউই এই উপায় অবলম্বন করতে পারেন এবং উপার্জনও হতে পারেন।
কলকাতার এক গৃহবধূ জানিয়েছিলেন যে তিনি মাসে প্রায় লাখ দুয়েক উপার্জন করেন এই ধরনের অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে। আজকাল যখন দশ পনেরো হাজার টাকার জন্য মারপিট চলছে চাকরির বাজারে, তখন এই ধরনের প্রলোভন আমাদের হাঁটতে শেখাচ্ছে অন্য দুনিয়ার প্রতি। দুনিয়ায় বিশুদ্ধ বলে কিছু হয় না। পৃথিবী সৃষ্টির থেকে একটা অন্য দুনিয়া প্রথাগত দুনিয়ার পাশেপাশে হেঁটেছে, প্রলোভন দিয়েছে। চাকরি দিয়েছে। তবুও সেই দুনিয়াটা চিরকালই অল্টারনেটিভ বা সমান্তরাল ছিল আছে এবং থাকবে।
প্রথাগত শিক্ষা আমাদের চিরকাল মূল্যবোধ কী, কেন সেটা বুঝিয়েছে। প্রতিটা পরিবারের গুরুজন আমাদের শিষ্টাচার শিখিয়েছেন। সবসময় ন্যায় অন্যায়ের মধ্যে বিভেদ করতে বলেছেন। সৎ হতে পরামর্শ দিয়েছেন। তারপরও আমরা এমন একটা পথে হেঁটেছি যা সমাজবিরুদ্ধ। কখনও স্বেচ্ছায় আবার কখনও উপায় না পেয়ে ঝাঁপ দিয়েছি বিকল্প দুনিয়ার হাতছানিতে। শুধু নবপ্রজন্ম বলে নয়, আট থেকে আশি অনেকেই বিকল্প পেশাকে পাথেয় করে হেঁটে গিয়েছে বহুদূর। এককালে তাঁদের দেওয়া পরামর্শ নিজেরাই ভেঙে ফেলেছে। বলেছে সময়ের সঙ্গে পাল্টে না ফেললে আর অভিব্যক্তি কোথায়? সৎ আর অসৎ-এর মধ্যে বিভেদ রাখেনি। তখন বেঁচে থাকাটাই জরুরি হয়ে উঠেছে। বেঁচে থাকার জন্য যা করা যায় তখন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। পাতা ঝরেছে। লেগ স্ট্যাম্পের বল অফ স্ট্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছে বাউন্ডারি লাইনে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স বা বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত ক্রমশ তলানিতে এসে ঠেকেছে। তবুও ভোটে জিতে ধর্ম আর রাজনীতি নিয়ে পাশা খেলা হয়েছে। মন্দির মসজিদ নিয়ে সমীকরণ তৈরি হয়েছে তবুও প্রথাগত শিক্ষা এবং চাকরির বাজারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই আমরা ক্যামেরা আর ট্রাইপড কিনে বেড়িয়ে পড়েছি সমাজের ক্রাইসিসগুলো এবং নিজের জীবনের গোপনীয়তাকে ব্লগ বানাতে। পা বাড়িয়েছি নীল নীলিমায়। তুচ্ছ করেছি প্রথাগত পড়াশুনার ভিত্তি। আবার বিস্তর পড়াশুনা করে কিচ্ছু হয়নি বলে অর্থহীন গানে রিল বানিয়েছি। এ দুনিয়ার সবকিছুর সঙ্গে সবকিছুর সংযোগ আছে। এমনি এমনি কিছু হয় না। এই লেখাটাও যারা পড়ছেন, সেটাও তো একটা সংযোগ। যে সংযোগ হয়তো আপনাকে বোঝাচ্ছে বিকল্প দুনিয়ার পেশা কী কী অথবা বোঝাতে পারছে না। পারছে না বলেই মাঝপথ থেকে আপনি ঢুকে পড়েছেন অন্য লেখায় বা কোনও রঙিন বিজ্ঞাপনে। যে বিজ্ঞাপন আপনাকে বলছে একটা গেম খেললেই দু-হাজার টাকা পাবেন। কী করবেন, ঝাঁপ দেবেন নাকি বিকল্প দুনিয়ায়? মায়া, আমরা মায়ার বৃত্তে ঘুরছি।
______
মতামত লেখকের নিজস্ব

