বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন আনিসুজ্জামান

বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন আনিসুজ্জামান

ভাষা আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ-সহ বাংলাদেশের সবক’টি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন আনিসুজ্জামান। অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেছেন। পড়ুয়া এবং গবেষকদের আলোর পথ দেখিয়েছে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য। বাংলাদেশ এবং ভারতে নানা বিরল সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। 

এই শ্রদ্ধেয় মণীষীর পুরো নাম আবু তৈয়ব মহম্মদ আনিসুজ্জামান (Anisuzzaman)। ১৯৩৭ সালে তিনি জন্মেছিলেন বসিরহাটে। পার্ক সার্কাস হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়ার পর খুলনা চলে যান। ভর্তি হন খুলনা (Khulna) জেলা স্কুলে। তারপর ঢাকায় (Dhaka) গিয়ে প্রিয়নাথ হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। জগন্নাথ কলেজে অধ্যয়নের পর ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Dhaka University) বাংলা বিভাগে। ১৯৫৬ সালে উত্তীর্ণ হন স্নাতক পরীক্ষায়। ১৯৫৭ সালে স্নাতকোত্তর। দু’বারই ছিলেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছিলেন ‘ইংরেজ আমলে বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা (১৭৫৭-১৯১৮)’ শীর্ষক গবেষণা করে। ১৯৫৬ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় (Chicago University) থেকে অর্জন করেন পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আনিসুজ্জামান কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (Chattagram University) জুনিয়র রিডার হিসেবে যোগ দেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি। পাকিস্তান (Pakistan) সরকার রবীন্দ্রনাথের (Rabindranath Tagore) শতবর্ষ পালনের বিরোধিতা করলে তিনি প্রতিবাদে সক্রিয় হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভারতে এসে ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’-র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। যুদ্ধের সময়ে তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন। তারও সদস্য ছিলেন আনিসুজ্জামান। বাংলাদেশ (Bangladesh) স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধানের বাংলা ভাষ্য প্রণয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য হন। 

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সংযোজনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অক্লান্ত যোদ্ধা। মৌলবাদীরা তাঁকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকার। বহু কালজয়ী গ্রন্থের তিনি প্রণেতা। 

‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’, ‘একুশে পদক’, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ ইত্যাদি নানা সম্মান অর্জন করেছেন বাংলাদেশে। ভারত সরকার তাঁকে প্রদান করেছে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি। এছাড়া ‘আনন্দ পুরস্কার’, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী’ পদক’ লাভ করেছেন। দেশ-বিদেশ থেকে পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। বাংলা সাহিত্য নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। আনিসুজ্জামানের প্রয়াণে শোকাহত গোটা উপমহাদেশ।

Developed by DXDasia