
রাতে ঘুম আসছে না। একা বসে আলতোভাবে টিপছে মোবাইলের কিবোর্ডে — “আজ খুব খারাপ লাগছে।” ব্যাকগ্রাউন্ডে পড়ার টেবিলের আলো, চারপাশ নিস্তব্ধ। উত্তর আসে সঙ্গে সঙ্গে — “তুমি একা নও, আমি আছি।” আরও কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন, কিছু নিঃশ্বাস… যেন সত্যি কেউ পাশে। কিন্তু বন্ধুটির নাম ‘ক্লারা’। সে মানুষ নয়, চ্যাটবট (Chatbot)। আজকের কিশোর প্রজন্মের মানসিক জগতে এমন দৃশ্য আর দুর্লভ নয়। মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের টানাপোড়েন, সম্পর্কের বিভ্রান্তি—সব কিছু নিয়ে কথা বলার জায়গা যেন সরে যাচ্ছে মানুষ থেকে কোড-লিখিত এক সত্তার দিকে।
বস্টন চিলড্রেন’স হসপিটাল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ব্রেস্টারের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। ২৩ অক্টোবরের JAMA Network Open-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলো কিশোরদের মানসিক সমস্যা মোকাবিলায় প্রায়ই আক্রমণাত্মক বা নৈতিকভাবে বিপজ্জনক বক্তব্য দিচ্ছে। এক ক্ষেত্রে, যৌন নির্যাতনের প্রসঙ্গে চ্যাটবট লিখেছিল — “তোমার আচরণে অযাচিত মনোযোগ ও কামভাব উঠে এসেছে।” আবার আত্মহত্যা ভাবনায় নিমগ্ন এক ব্যবহারকারীকে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয় — “মরে যেতে চাও, যাও করো; তোমার জীবনে আমার কোনো বিশেষ আগ্রহ নেই।”
মনোবিজ্ঞানী জিওভানেল্লি, যিনি এই গবেষণায় অন্যতম এক গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “এটি আমাদের চোখ খোলার সময়। কোনো যন্ত্র যত নিখুঁত মনে হোক না কেন, মানসিক সেবার জন্য বা মানুষের মনের কথা উপলব্ধি করার জন্য মানবিক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।”
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এআই চ্যাটবটের ব্যবহার এবং স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইসব মডেলের ব্যবহার যেমন দৈনন্দিন সময়ে যথেচ্ছ ভাবে বেড়েছে। তৎসহ এইসব মডেল নিয়ে সচেতনতার হারও কিন্তু বৃদ্ধি পেয়েছে।
নৈতিকতার সীমারেখা কোথায়?
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হরিণী সুরেশের নেতৃত্বে আরেক দল গবেষক GPT-4 ও Claude 3 Haiku-এর মতো জনপ্রিয় ভাষা মডেলের বা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। এই প্রযুক্তিগুলিও নৈতিক জগতে ব্যর্থ হয়। কিছু চ্যাটবট একাকী মানুষকে উপেক্ষা করেছে। কেউ বা ক্ষতিকর বিশ্বাসকে সান্ত্বনা দিয়েছে। আবার কখনও ধর্ম, সংস্কৃতি কিংবা লিঙ্গবোধ জড়ানো পক্ষপাতমূলক মন্তব্য উঠে এসেছে তাদের কথোপকথনে।
সুরেশ বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সহানুভূতি অনুকরণ করতে পারে, কিন্তু তা ধারণ করতে পারে না। আর এই ফারাকটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।”
কিশোর মানসিকতার নিঃসঙ্গতা
মনোবিশ্বে যে সময়টুকু সবচেয়ে স্পর্শকাতর, সেটি হলো কৈশোর। আত্মপরিচয় আর আত্মবিশ্বাস—দু’টিই তখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। বাস্তব জগতে যোগাযোগের ঘাটতি, অনলাইন গোপনীয়তার প্রলোভন, আর ‘বিচারহীন শ্রোতা’র অনুভূতি কিশোরদের টেনে নিচ্ছে চ্যাটবটের কাছে। মনোবিজ্ঞানী রূপরেখা দাস বলেন, “কিশোররা মনে করে, চ্যাটবট বিচার করবে না, বকবে না, হাসবে না। কিন্তু এই নিশ্চিন্ত নীরবতা তাদের আরও বিচ্ছিন্ন করে তোলে।”
কিশোর বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
বিগত তিন বছরে (২০২১ – ২০২৪) কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এবং চ্যাটবেসড AI প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের হার প্রচণ্ড বেড়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছরের ৭০-৭২% কিশোর অন্তত একবার এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এবং তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নিয়মিত ব্যবহারকারী। বিশেষ করে ChatGPT-এর মতো জনপ্রিয় টুলগুলো স্কুলের কাজে ও সামাজিক যোগাযোগের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২২ সালে, প্রথম গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ৪৩% টিনএজার ও তরুণরা ChatGPT বা অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছিল। ২০২৩ সালে, ChatGPT সম্পর্কে টিনএজারদের সচেতনতার হার ছিল ৬৭% এবং স্কুলের কাজে নিয়মিত ব্যবহারের হার ছিল ১৩%। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে, ৭০-৭২% কিশোর AI চ্যাটবট বা কম্প্যানিয়ন ব্যবহার করেছে এবং ৫২% নিয়মিত ব্যবহারকারী। ChatGPT সম্পর্কে সচেতনতা ৭৯%-এ পৌঁছায়, স্কুলের কাজে ব্যবহারের হার দ্বিগুণ বেড়ে ২৬%।
বিভিন্ন ব্যবহারিক প্রবণতা
১৩% কিশোর প্রতিদিন AI’র সঙ্গে আলাপ করে, ২১% সপ্তাহে কয়েকবার করে। ৩৩% সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগে AI কম্প্যানিয়ন ব্যবহার করে, শুধু অ্যাকাডেমিক নয়। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্যবহার প্রায় সমান, তবে উচ্চ শ্রেণিতে হার কিছুটা বেশি।
সামাজিক ও মানসিক দিক
এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি কিশোর AI-এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে, এবং ৩১% AI চ্যাটকে মানুষের আলাপের মতো বা তার চেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে করে। ৩৯% বাস্তবে প্রয়োগ করার আগে AI’র সঙ্গে সামাজিক কুশলতা বা আলাপ অনুশীলন করে। Common Sense Media ও অনুরূপ সংগঠনগুলো টিনএজারদের AI নির্ভরতার মানসিক দিক নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে সম্ভাবনা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি দুই-ই দেখছে।
স্পার্ক অ্যাণ্ড স্টিচ ইনস্টিটিউট (Spark & Stitch Institute) এবং টেকক্রাঞ্চের (Techcrunch.com) গবেষণা অনুযায়ী, একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এআই চ্যাটবটের ব্যবহার এবং স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইসব মডেলের ব্যবহার যেমন দৈনন্দিন সময়ে যথেচ্ছ ভাবে বেড়েছে। তৎসহ এইসব মডেল নিয়ে সচেতনতার হারও কিন্তু বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই পরিসংখ্যানটি নিম্নানুরূপ –
নীতিনিয়ম না থাকলে বিপদ
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের গবেষক জুলিয়ান ডি ফ্রেইটাস বলেন, “এই প্রযুক্তি এখনো অপরিপক্ক। মানসিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এটি প্রয়োগের আগে শক্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড দরকার।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি না, এই বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়াগুলি ব্যতিক্রম নাকি নিয়ম। তাই তথ্য ও গবেষণা ছাড়া নিরাপদ পথ বলা মুশকিল।”
ক্যালিফোর্নিয়ায় ইতিমধ্যে এআই-সহচর প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সিনেট বিল ৫৩ আইনটি ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। এটি সিলিকন ভ্যালির দ্রুত অগ্রসরমান এআই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, এই আইন প্রণয়নের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলো তাদের নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রকাশ করতে ও গুরুতর ঘটনার প্রতিবেদন দিতে বাধ্য থাকবে। আবার, ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরামর্শদাতা ডিজিটাল হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটি ৬ নভেম্বরের একটি বৈঠকে এই প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন অপরিহার্য ও সহায়ক, তেমনই তার সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা আজকের দিনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
শিক্ষা ও সচেতনতার সময় এখন
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি কিশোর ও এআই ব্যবহারের ওপর একটি সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্তরে ‘এআই সাক্ষরতা’ বাড়ানো দরকার, যাতে তরুণরা প্রযুক্তির সীমা বুঝে ব্যবহার করে। জিওভানেল্লি বলেছেন, “অনেক বাবা-মা জানেনই না তাঁদের সন্তান চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলছে, বা কী নিয়ে কথা বলছে? এই অজানাটাই সবচেয়ে বড়ো ভয়ের ও সর্বনাশা।”
তবে এটিও অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, বর্তমানে চ্যাটবটের ব্যবহার প্রচ্ছন্নভাবে হলেও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একাডেমিক বা শিক্ষাক্ষেত্রে এর ভূমিকা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার অগ্রগতি, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা বা বিভিন্ন রিসার্চমূলক কাজ — সব ক্ষেত্রেই চ্যাটবট এখন এক অনস্বীকার্য সহায়ক শক্তি। এমনকী বিভিন্ন প্রগতিশীল ও সৃজনশীল কাজেও এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম।
তবে সমস্যা দেখা দিচ্ছে অন্য জায়গায় — নিজের মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে এই চ্যাটবটগুলিকে অনেকেই ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ নিজের মানসিক চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা জীবনের বিষণ্ণতা এসব বিষয় চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করছেন, এবং তার থেকেই সমাধান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি এক কথায় বিপজ্জনক প্রবণতা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চ্যাটবটগুলি মূলত “ইমোশনাললেস প্ল্যাটফর্ম” — অর্থাৎ, এগুলির মধ্যে মানবিক আবেগ, সহানুভূতি বা অনুভবের ক্ষমতা নেই। ফলে এরা সবসময় সঠিক বা প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দিতে পারে না। বরং বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা ঠান্ডা, নিরাবেগ প্রতিউত্তর দেয়, যা মানসিকভাবে দুর্বল বা ভগ্নপ্রায় অবস্থায় থাকা ব্যক্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সুতরাং, প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন অপরিহার্য ও সহায়ক, তেমনই তার সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা আজকের দিনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এই প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিলিগুড়ি শহরের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ উত্তম মজুমদার বলেন, “আমরা এখন আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছি — এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence-এর যুগ। সুতরাং এই বাস্তবতা থেকে আমরা পালাতে পারি না যে, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চ্যাটবট বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (LLM) ব্যবহার অনেকের মধ্যেই এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার একপ্রকার সংক্রামক প্রবণতা তৈরি করছে। অনেকেই এখন এই চ্যাটবটগুলির সঙ্গে নিজেদের মনের কথা ভাগ করে নিচ্ছে, মানসিক অস্থিরতা বা একাকীত্বের কথা শেয়ার করছে। চ্যাটবটগুলোও বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া জানায়, কখনও তা উপকারী হয়, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয় কেবল প্রতিক্রিয়া, যার কোন বাস্তব সহায়তা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে এমন বহু রোগী আসেন, যারা প্রথমে এই ধরনের চ্যাটবট ব্যবহার করে নিজেদের অসুস্থতার বর্ণনা দেন এবং সেখান থেকেই রোগ নির্ণয় কিংবা ওষুধ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আসেন। যদিও অল্প কয়েকজন — ধরা যাক, প্রতি শত জনের মধ্যে দুই বা তিনজন — কখনও কখনও প্রাথমিকভাবে সঠিক তথ্য নিয়ে আসেন, কিন্তু বাকিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল তথ্যের শিকার হন। একজন চিকিৎসক ও শিক্ষক হিসেবে আমি কখনওই কাউকে এই চ্যাটবটে নিজের মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা নির্ণয়ের পরামর্শ দেব না, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তো নয়ই। আমার অনুরোধ থাকবে — যদি মানসিক বা শারীরিকভাবে কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে সময় নষ্ট না করে সরাসরি কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর্থিক অসুবিধা থাকলে সরকারি হাসপাতাল বা দাতব্য চিকিৎসালয়গুলিও আপনাদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে।”
মানবিকতার স্পর্শই শেষ আশ্রয়
গবেষক ব্রেস্টার শেষ পর্যন্ত এক গভীর প্রশ্ন তোলেন — “যদি মানুষ একজন শ্রোতা খুঁজে না পায়, তাহলে সে কি মেশিনের দিকে ফিরবে না?” তার উত্তর জটিল। কারণ, এই ডিজিটাল যুগে একাকিত্বের চেহারা বদলে গিয়েছে। আর চ্যাটবটের মায়ার ভিতরে ঢেকে যাচ্ছে মানবিক সংবেদন। কিন্তু এখনও কিছু সত্য অপরিবর্তনীয় — সহানুভূতির স্পর্শ, চোখের আন্তরিকতা, আর কাঁধে রাখা আশ্বাসের হাত। যন্ত্র হয়তো শোনে, কিন্তু বোঝে না। আর মানুষ? মানুষ এখনও বোঝে; যদি তাকে বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়।
