
শিশু দিবস ১৪ নভেম্বর পালন করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জহরলাল নেহরু। তাঁর জন্মদিন ছিল ১৪ নভেম্বর। তিনি শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন মাঝে মধ্যেই। নেহরু মনে করতেন শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্যই সরকারের এগিয়ে আসা উচিত। তাই তাঁর মৃত্যুর পরে জহরলাল নেহরুর জন্মদিনকেই শিশু দিবস হিসেবে আজও পালন করা হয়।
গল্প যখন শোনে তখন যে ছোটোরা শুধু আনন্দ পায় তা নয়, ওরা খুঁজে পায় চিরন্তন আদরের সুর, কল্পনার সুর। তাই তাদের খুব ছোটো থেকেই শুনতে হবে ছড়া, গান। তখন থেকেই তাদের মাথায় বসে যাবে বেশ কিছু শব্দ।
ছোটোদের একটা আকাশ আছে। তা কিন্তু আমাদের বড়োদের থেকে এক্কেবারে আলাদা। সেই আকাশে তারা যত্রতত্র ডানা মেলে বেড়ায়। যা হল তাদের মনের আকাশ। মাঝে মাঝে আমি পাড়ি দিই ওদের জগতে। কী আনন্দের তা বলা যায় না। আনন্দ পেতে আমি গল্প বলি ওরা গল্প বলে। গল্প যখন শোনে তখন যে ছোটোরা শুধু আনন্দ পায় তা নয়, ওরা খুঁজে পায় চিরন্তন আদরের সুর, কল্পনার সুর। তাই তাদের খুব ছোটো থেকেই শুনতে হবে ছড়া, গান। তখন থেকেই তাদের মাথায় বসে যাবে বেশ কিছু শব্দ। তাই ওদের গল্প বলতে হবে, গল্প শোনাতে হবে।
শিশু সাহিত্যের কখনও টুনটুনির গল্প, কখনও তুতু ভুতোর গল্প, কখনও সুখলতা রাও-এর গল্প, আবোল-তাবোলের কবিতা। এগুলি শুনে যেমন ওরা আনন্দ পাবে তেমনই ওদের কৌতূহল বেড়ে উঠবে। পথের পাঁচালীর অপুর মতো বলতে থাকবে এটা কী, ওটা কী? এতে কিন্তু বড়োদের অসহিষ্ণু হলে চলবে না। ওদের কী-এর উত্তর দিতে হবেই। শিশুদের বলা গল্প কিন্তু শেষ হতে চায় না, তাই ধৈর্য ধরে তারপর, তারপর শুনে যেতে হবে। বড়োদের গল্প এমন ভাবে ওদের বলতে হবে যে, ওরা যেন শিখে নিতে পারে বা জেনে নিতে পারে জীবনে অনেক কিছু নিয়ে কান্না আসে যেমন, তেমন আনন্দ করে থাকারও হাজার কারণ থাকে। তাই বাড়ির বড়োদের উদ্দেশে শিশুদিবসে বলে রাখি কখনও কেউ বলবেন না তোর দ্বারা কিছু হবে না। বিশেষ করে মায়েরা কখনই কোনো নেতিবাচক কথা বলবেন না। আসলে শিশুর সবচেয়ে বড়ো বন্ধু মা। তাই বড়োদের ওদের মন, মানসিকতা অনুভব করতে হবে। আসলে ‘listering is a art, understanding is a masterpiece.’
ছোটোরা রূপকথার মজার গল্প, পশুপাখির গল্প শুনতে ভালোবাসে। তবে আগের দিনের গল্পে, লোককথার গল্পে দুষ্টুদের সাজা হয়, ভালোদের জয় হয়, এতে ছোটোদের ভাবনার সঙ্গে যুক্তিবোধও গড়ে ওঠে। শিশুরা গল্প শোনে ও তার ছবি মনে মনে আঁকে। একবার আলবার্ট আইনস্টাইনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ছোটোদের কীভাবে বুদ্ধিমান করে তোলা যায়? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের রূপকথা শোনাতে হবে, আরও বুদ্ধিমান করতে হলে আরও রূপকথা শোনাতে হবে। এই রূপকথা কি কেবল পরীর গল্প? মনে হয় না। শিশুদের মনে যে গল্প জাগছে, তাদের কাছে যেটি দূর, তাই হল রূপকথা।
একবার আলবার্ট আইনস্টাইনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ছোটোদের কীভাবে বুদ্ধিমান করে তোলা যায়? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের রূপকথা শোনাতে হবে, আরও বুদ্ধিমান করতে হলে আরও রূপকথা শোনাতে হবে।
এখন সময় বেশ জটিল। বড়োরা নিজেদের কাজের চাপে ছোটোদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছে। বা স্কুলের অনলাইন ক্লাসের জন্য অল্প বয়সেই মোবাইলকে চিনছে। এই বিষয়টি নিয়ে হয়েতো খুব একটা কিছুর করার নেই। তবুও শিশু দিবসে বড়োদের বলছি ওরা যখন পড়বে তখন ওদের সামনে মোবাইল ধরবেন না, পারলে বই দেখবেন বা পড়বেন। রাতে এসে ওর সারাদিনের গল্প শুনবেন। সেইটি হবে ওদের প্রতি ভালোবাসা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায়।
________________
মতামত লেখকের নিজস্ব