আসুন প্রত্যেকে শপথ নিই, অন্তত ১০০ লিটার বৃষ্টির জল আমরা সংরক্ষণ করব

রিবেশকে দূষণমুক্ত করা আমাদের সভ্যতার এক বড়ো চ্যালেঞ্জ। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হল বৃষ্টির জল সংরক্ষণ। জল আমাদের সম্পদ। কিন্তু আমাদের মানসিকতা অন্যরকম। বৃষ্টির জল আমরা ঘরে ঢুকতে দিই না। অথচ পান করা ছাড়াও আমাদের নানা কাজে জলের দরকার হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা মাটির নিচের জল অথবা ভৌম জল ব্যবহার করি। অনবরত তোলার ফলে ভূগর্ভে জলের স্তর খালি হয়ে যাচ্ছে। অ্যাকুইফারের আর্সেনিক, ফ্লুরাইড প্রভৃতি ক্ষতিকারক পদার্থ উঠে আসে জলের সঙ্গে। সেই জল আর কাজের উপযোগী থাকে না।

আগেকার দিনে গ্রামে দেখা যেত, একটা নির্দিষ্ট পুকুরকে সবাই মিলে পানীয় জলের আধার হিসেবে রক্ষা করতেন। সেখানে কেউ স্নান করতেন না। পশুদেরও স্নান করতে দিতেন না। ওই জলই সবাই খেতেন। পুকুর বৃষ্টির জল ধরে রাখে। জলের একটা অংশ মটির তলাতেও যায়। ফলে ভৌম জল বাড়ে।

ইকো ব্রিকের গাঁথনি

আগেকার দিনে গ্রামে দেখা যেত, একটা নির্দিষ্ট পুকুরকে সবাই মিলে পানীয় জলের আধার হিসেবে রক্ষা করতেন। সেখানে কেউ স্নান করতেন না। পশুদেরও স্নান করতে দিতেন না। ওই জলই সবাই খেতেন। 

বৃষ্টির জল সংরক্ষণকে জটিল করে ভাবলেই সমস্যা দেখা যায়। অনেকে চৌবাচ্চা তৈরি করে রাখে। চৌবাচ্চায় জল জমে মশার প্রজনন শুরু হয়। এই পদ্ধতি ব্যয়বহুলও বটে। তার থেকে সহজ উপায় হল পরিবারে জল কতটা লাগে তার হিসেব নেওয়া। ধরা যাক এক মাসে ৫ জনের জল লাগে ৫০০ লিটার। এই প্রয়োজন বৃষ্টির জলে মেটানো যায়। আমরা একটি নির্দিষ্ট পন্থা নিয়েছি। ছোটো ছোটো অনেকগুলো ড্রামে একসঙ্গে নানা জায়গায় বৃষ্টির জল জমাই। তাতে খরচ কম হয়। অল্প সময়ে অনেকটা জল ধরে রাখা যায়। গোয়ালঘরের জল, ছাদের জল ইত্যাদিও সংরক্ষণ করা যায়। বুদ্ধি খরচ করলে স্কুলেও বৃষ্টির জল ধরে রাখা সম্ভব। বাচ্চাদের টয়লেট ইত্যাদিতে সেই জল কাজে লাগবে। ২০১৯ সালে মেদিনীপুর পুরসভা জানিয়েছিল বৃষ্টির জল সংরক্ষণের বন্দোবস্ত না থাকলে মিলবে না বাড়ির অনুমোদন।

আসুন, প্রত্যেকে শপথ নিই যে অন্তত ১০০ লিটার বৃষ্টির জল আমরা সংরক্ষণ করব। তারপর ধীরে ধীরে জল সংরক্ষণ বাড়াতে হবে। আমাদের ইচ্ছে এবং আগ্রহের ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।

প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ও র‍্যাপার দিয়ে বানানো ‘ইকো ব্রিক’ দিয়ে তৈরি সেন্টার টেবিল

রাস্তাঘাটে প্লাস্টিক পড়ে থাকতে সবসময়েই দেখা যায় (যদিও এখন মিষ্টির দোকান, মুদির দোকান, সবজিওয়ালার দোকানে প্লাস্টিক দেওয়া অনেকখানি কমেছে)। বাড়িতে প্লাস্টিক জমিয়েও রাখেন অনেকে। সেগুলো ডাস্টবিনে দেওয়া হয়। আমি দেখেছি, ডাস্টবিনে আলাদা আলাদা রং করে বর্জ্য পৃথক করার ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে। বরং অন্য একটি পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে নানা জায়গায়। প্লাটিকগুলো আলাদা করে রেখে দু’লিটারের বোতলে ভরে দেওয়া যেতে পারে। কাঠি দিয়ে প্লাস্টিকগুলো ঢোকাতে হবে। ব্যাটারি, চিকিৎসার বর্জ্যও ভরে দেওয়া যায় বোতলে। এইভাবে তৈরি হয় ইকো ব্রিক। ইটের বদলে ইকো ব্রিক বাড়িঘরের গাঁথনিতে ব্যবহার করা যায়। তাতে ইটের দাম বাঁচবে। যে মাটি দিয়ে ইট তৈরি হয়, সেটা বাঁচবে। মাটি পুড়িয়ে ইট বানানোর দূষণ আর হবে না। বাড়ির ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের এটি খুব ভালো পন্থা।

আমার কাছে মাঝেমাঝে পাখিদের জন্য গ্রীষ্মকালে পানীয় জল রাখার অনুরোধ করে মেসেজ আসে। গরমে পাখিদের জন্য শুধু জল রাখলেই হয় না। তাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হয়। অনেক সময়ে দেখা যায়, মুরগি নিজের ডিম খেয়ে ফেলে। সেটা করে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটার জন্য। আমরা বাড়িতে যে ডিম খাই, তার খোলাগুলো জমা করবেন। পাউডার করে ব্যালকনিতে জলের পাশে রেখে দেবেন। পাখি সেগুলো খাবে। তাতে বাড়ির আবর্জনাও কমে যাবে। গাছেরও ক্যালসিয়াম দরকার হয়। ওই পাউডার গাছের গোড়াতেও দেওয়া যেতে পারে। পশুদের খাবারের সঙ্গেও মিশিয়ে দেওয়া যায়।

১০০ লিটার বৃষ্টির জল কিছুই নয়, আমাদের পক্ষে আরও বেশি পরিমাণ বৃষ্টির জল ধরে রাখা সম্ভব। আর সেটার জন্য প্রথমেই বৃষ্টির জলকে সমস্যা হিসাবে দেখার অভ্যাসটা বদলে তাকে সম্পদ হিসাবে ভাবা শুরু করতে হবে।

লকডাউন চলাকালীন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট 

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, ১০০ লিটার বৃষ্টির জল কিছুই নয়, আমাদের পক্ষে আরও বেশি পরিমাণ বৃষ্টির জল ধরে রাখা সম্ভব। আর সেটার জন্য প্রথমেই বৃষ্টির জলকে সমস্যা হিসাবে দেখার অভ্যাসটা বদলে তাকে সম্পদ হিসাবে ভাবা শুরু করতে হবে।

Written by