
প্রত্যেককে দেওয়া হবে প্রতিষেধক
২০২১ বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগামী ২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ভোটগ্রহন, নির্বাচন হবে মোট ৮ দফায়। এ দিকে, নতুন করে দেশজুড়ে করোনার প্রভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই তার ছাপ পড়েছে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, কেরল ইত্যাদি রাজ্যে। আর সেকারণেই পূর্ণ সতর্কতা মেনে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
এ বার করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মীদের মতো প্রথম সারির যোদ্ধার সম্মান ও স্বীকৃতি পাবেন ভোটকর্মীরাও। তাঁদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে প্রতিষেধক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশে, ‘ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ’-এর সুপারিশ মেনে প্রত্যেক ভোটকর্মীকে প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ভোটের কাজে যুক্ত হয়ে কারও মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।এ ছাড়া অন্যান্য বছরের মতোই ভোটের সময় কোনও রকম নাশকতা বা হিংসায় কারও মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণের আওতায় থাকবেন তাঁর পরিবারও। বাইরে থেকে যাঁরা ভোটের কাজে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন, কমিশন তাঁদের নিখরচায় চিকিৎসা করানোর নির্দেশেও দিয়েছে রাজ্য সরকারকে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে কতটা আশ্বস্ত হলেন ভোটকর্মীরা? বাবলু মুখোপাধ্যায়(রেলকর্মী) জানাচ্ছেন, “প্রতি বছরই ভোটের ডিউটি পড়ে। আমার বয়স ৫৯, প্রতিবছরই চাপে থাকতে হয় ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা হতে পারে, এই আশঙ্কায়, এবারে বাড়তি চাপ করোনা। প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে, নিয়েছি। এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশনের ঘোষনায় কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছি।”
সৌভিক ঘোষাল(শিক্ষক)-এর কথায়, “ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে এখনও কোনও চিঠি পাইনি। আমরা ভোটের কাজে যাবার আগে ভ্যাকসিন প্রথম ডোজ নিয়েছি, ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারটা বীমা জাতীয় কিছু হবে নিশ্চয়ই। সাধারণভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বীমা থাকে। সেটা থাকুক। কিন্তু নিরাপত্তা, সেটা সাধারণ ও স্বাস্থ্য – সবই যেন খাতায় কলমে না থেকে কার্যক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, সেদিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া দরকার।এ ক্ষেত্রে অনেক শিথিলতা থাকে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আলাদা রকমের হয়ে পড়েছে। অশান্তি মারামারি বোমা গুলি যেন ভবিতব্য ভোটের দিন। এই সংস্কৃতির বদল দরকার। এটা ভোটকর্মীদের তাদের পরিবারের দুশ্চিন্তার একটা প্রধান কারণ।”
অনিমিখ পাত্র(শিক্ষক) জানাচ্ছেন, “প্রত্যেকবছরই ভোটের কাজ পড়ে।এ বছর কিছু টেকনিক্যাল ঝামেলা থাকায় ভোটের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবো কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নই। নির্বাচন কমিশন থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মৃত্যুর পর পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে, তা নিঃসন্দেহে ভালো। তবে, ঘটনাটা যাতে মৃত্যু অবধি না গড়ায়, সেদিকে নজর দেওয়া হোক, সেটাই কাম্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করা হয়েছে, নিয়েছি।”
বাংলায় এ বার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১,০১,৯১৬। ভোটের কাজে যুক্ত থাকবেন অন্তত সাড়ে ছ’লক্ষ কর্মী। তাঁদের মধ্যে ২০% থাকবেন রিজার্ভে। তবে, অন্যান্য রাজ্যগুলিতে করোনার প্রকোপ বাড়লেও, বাংলায় সংক্রমণের হার ক্রমশ কমছে। অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা বিমানযাত্রীদের কাছে কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু, ট্রেনেও বহু মানুষ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসেন, তাই কোভিড সুরক্ষার দিক থেকে কোনও রকম ঝুঁকি রাখতে চাইছে না প্রশাসন।
