
গোপীবল্লভপুরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল নেত্রী
নন্দীগ্রামে শেষ সফরে বাঁ-পায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পরেই হুইলচেয়ারে করে প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। প্রথমে কলকাতার রাজপথে মিছিলে এবং তার পর পুরুলিয়ায় প্রচার সেরে ফেলেছেন তিনি। বুধবারও তাঁর জঙ্গলমহলে প্রচার রয়েছে। দু’টি নির্বাচনী জনসভা সেরে তাঁর কলকাতায় ফিরে বিকেলে তৃণমূলের ইস্তাহার প্রকাশ করার কথা। তার আগে গোপীবল্লভপুরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল নেত্রী।
যা যা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:
ঝাড়গ্রামকে খুব ভালবাসি। যখন এখানে শুধু খুন হত, কেউ আসত না, তখন আমি আসতাম। আমাদের সরকারের আমলে একটা খুন হয়নি। এত উন্নয়ন হয়েছে যে ঝাড়গ্রামকে মানুষ এখন জঙ্গলসুন্দরী বলে। ঝাড়গ্রামে সার্কিট ট্যুরিজম কাজ চলছে। বিনা পয়সায় রেশন দিই। আগামি দিন আপনাদের রেশনে যাওয়ার দরকার নেই। দুয়ার সরকার দুয়ারে দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিয়ে আসবে। মাহাতদের জন্য কুর্মি বোর্ড তৈরি করে দিয়েছে। বিরসা মুণ্ডা, রঘুনাথ মুর্মুর জন্মদিনে আমরা ছুটি দিয়েছি। সবাইকে সম্মান দিয়েছি আমরা। আমি চাই এখানে অনেক শিল্প হোক। মানুষ ঝাড়গ্রাম, গোপীবলভপুর, লালগড়কে দেখতে আসুক।
ভারতবর্ষে দুঃশাসন রাজ চালাচ্ছে বিজেপি। বিজেপি কিছু জানে না। কী জানবে কোনওদিন বাংলায় ছিল? লোকসভা নির্বাচনে জিতে কিছু করেছে আপনাদের জন্য? বিজেপি ঝাড়গ্রামের মানুষদের সমস্যা জানে না। ২ বছর আগে যে জিতল, জেতার পর কিছু করেছে? মিথ্যে কথা বলে ভোট নিয়েছে। কাউকে বলেছে ৫০০ টাকা নাও মিছিলে যাও। কাউকে বলেছে ৫০০০ টাকা নাও বিজেপিকে ভোট দাও। মনে রাখবেন এটা বিজেপি-র টাকা না। ওরা কিছু করেনি। একেবারে শূন্য। ওদের এ বার শূন্য করে দিন।
নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের সময় মাইক লাগিয়ে বড় বড় কথা বলে। দুটো বাংলায় বলে, কেমন আছেন? তারপরেই মিথ্যে বলতে শুরু করেন।
আমি চাই কোভিডের টিকা সবাইকে দেব। আমি বলছি বিনা পয়সায় দেব। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি দিচ্ছেন না।
সারা দেশে যখন হতাশার চিহ্ন আমি কিন্তু ঝাড়গ্রামের জন্য যতটা পেরেছি ততটা করেছি। যদি আপনারা চান আমি থাকব না। নিশ্চয়ই আপনারা আপনাদের মতো ভোট দিতে পারেন। এটা আমার মা-ভাই-বোনদের উপর ছেড়ে দেব। যদি চান আমি থাকি, তাহলে খগেন মাহাতোকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া।
