
‘ধর্মের রাজনীতি উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে চলতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে নয়’
ধর্মের রাজনীতি উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে চলতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে নয়। তাই প্রয়োজন হলে ভোটের পর বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকে সমর্থন করবে কংগ্রেস। দক্ষিন মালদা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরী তথা ‘ডালুবাবু’ এই মন্তব্য করেছেন। ফলে রাজ্য রাজনীতি তো বটেই ভোটের মুখে মালদা জেলাতেও বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন সংযুক্ত মোর্চার নেতারা।
এই মন্তব্যের পর সংযুক্ত মোর্চার শরিক সিপিএম কর্মীরা ডালুবাবুকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা প্রচার শুরু করেছেন। শিলিগুড়িতে বুধবার বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা প্রতুল চক্রবর্তী ডালুবাবুর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বিজেপির মতো দল, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, যারা সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে কাজ করে, তাদের ঠেকাতে ডালুবাবুদের মতো মানুষেরা আরও বেশি বেশি করে এগিয়ে আসুন। তৃণমূল জাতীয় সংহতির জন্য এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এখন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীর বক্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। মালদহ কংগ্রেসের অন্য নেতারাও ডালুবাবুর বক্তব্যের পর চাপে পড়েছেন। প্রকাশ্যে তাঁরা তাই এই মুহূর্তে সেভাবে বিবৃতি দিচ্ছেন না। তবে ডালুবাবুর অনুগামী হিসাবে পরিচিত কয়েকজন কংগ্রেস নেতা বুধবার নিজেদের নাম না ছাপার শর্তে বলেন, “ডালুদা একশো ভাগ সত্যি কথা বলেছেন। বিজেপির ধর্মীয় জিগিরের জন্য আজ কংগ্রেসের অবস্থা ভালো নয়। কাজেই বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলালে কংগ্রেসের লাভই হবে।”
সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী পরিষ্কার করে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আব্বাস সিদ্দিকি বা আইএসএফের সঙ্গে কংগ্রেস সিপিএমের হাত মেলানো নিয়েও। তিনি বলেছেন, “বিধানসভায় যেহেতু বামফ্রন্ট বেশি আসন পাবে না, তাই আইএসএফের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। অথচ এই আব্বাস সিদ্দিকি ধর্ম নিয়ে কথা বলছেন। এটা আমার পছন্দ হচ্ছে না। তৃণমূল কিন্তু ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না। তাই বিধানসভা ভোটের পর প্রয়োজন হলে তৃণমূ্লের হাত ধরতে রাজি কংগ্রেস। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে চলতে পারে না।” মালদার কংগ্রেস সাংসদের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় সিপিএম নেতারা। তাঁরা সিপিএমের রাজ্য নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। ফলে ভোটের মুখে ডালুবাবুর বক্তব্য ঘিরে মালদায় এখন রাজনীতির হাওয়া অন্যরকম।
