কলকাতায় ভোট-প্রচার যখন চিনা ভাষায়

ভোটের প্রচার চালাতে দেওয়াল সেজে উঠেছে চিনা লিপিতে

ভাবছেন তো, বাংলার ভোটের সঙ্গে চিনের আবার কীসের সম্পর্ক? এতদিন না থাকলেও এবারের বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে চিনা ভাষা। ভোটের আবহে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক-সহ চিরাচরিত লিখনেও ভরেছে শহরের দেওয়াল। তারই মধ্যে কসবা বিধানসভা এলাকার একাংশের দেওয়াল। কারণ, সেখানে ভোটের প্রচার চালাতে দেওয়াল সেজে উঠেছে চিনা লিপিতে!

কসবা বিধানসভা এলাকায় ইস্ট তপসিয়া রোডের উপর দিয়ে গিয়েছে মা উড়ালপুল। আর তার নীচে পরপর দেওয়াল জুড়ে চিনা লিপিতে লিখে নির্বাচনী প্রচার করেছে তৃণমূল। নিছক ভোট প্রচারই নয়, নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোট পাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদও বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে এই চিনা লিপিতেই— ‘দিদির জন্য প্রার্থনা, শত্রুদের ছাড়ব না’। পাশের দেওয়ালে আবার বাংলায় লেখা ‘খেলা শুরু’। 'ছন্দ মিলিয়ে প্রতিবাদ', এমন অভিনব ভোট প্রচারে বেশ খুশি শহরের চিনা বাসিন্দারা। 

শহরে চিনাদের লোকসংখ্যা ক্রমশ কমছে। ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের সময়ে তাঁরা এক সময়ে প্রায় খোলসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন। অবিশ্বাসের সেই চোরাবালি এখনও কিছুটা আছে। ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে এ দেশেই জন্মানো চিনাদের আজও ভারতীয় নাগরিকত্ব নেই। অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন কানাডা, ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ায়। তবু টেনেটুনে বর্তমানে কলকাতায় চিনাদের সংখ্যা হাজার পাঁচেক হবে বলে ধারণা শহরের আধ ডজন চিনা রেস্তরাঁর কর্ত্রী মনিকা লিউয়ের। মা উড়ালপুলের নীচে ওই দেওয়াল লিখন এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি তাঁর। তবে অভিনব ওই প্রচার খুশি করেছে ট্যাংরার বাসিন্দারা। 

তবে দলীয় রাজনীতিতে কলকাতার চিনাদের এখনও পর্যন্ত ততটা সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ২০০৯ থেকেই এ তল্লাটে চিনা ভাষায় দেওয়াল লিখন দেখা যায়। গত লোকসভা ভোট থেকে এর চল বেড়েছে। কিন্তু যে ভাবে স্রেফ প্রচার করতে নয়, মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদও করা হয়েছে চিনা ভাষায়, সেই অভিনবত্বে মজেছেন শহরের চিনারা। ইস্ট তপসিয়া রোডের উল্টো দিকের বসবাসকারী কয়েকটি চিনা পরিবারের সাহায্যেই এই বার্তা দেওয়ার কাজ হয়েছে।

Developed by DXDasia