
‘আগে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে ঢুকুক’
রবিবার বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ ইস্তক কটাক্ষ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মহিলাদের সরকারি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ থেকে শুরু করে অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন, ভাতা দেওয়া, বিজেপির এমনই একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে সোমবার বাঁকুড়ার কোতলপুরের সভা থেকে তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে, বিজেপির ইস্তেহারের যে অংশটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তা হল ‘অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন'। বিজেপির এই প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল থেকে নেটদুনিয়া সর্বত্রই চর্চা তুঙ্গে।
বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ করে অমিত শাহ জানান, ‘রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন খোলা হবে। দিনে তিন বার ৫ টাকা মিলবে খাবার।’ এই প্রতিশ্রুতি কেন্দ্র করেই সোশাল মিডিয়ায় খোঁচা আসতে থাকে নেটনাগরিকদের তরফে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের এই সংক্রান্ত পোস্টের নীচে ‘কমেন্ট’ আসতে থাকে, ‘পুরোটাই জুমলা’, ‘টুকলি করে পাস করা যায়, ফার্স্ট হওয়া যায় না’, ‘আপনারা যেখানে যেখানে ক্ষমতায় আছেন সেখানে এই জাতীয় কিছু করছেন না কেন?’, ‘আগে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে ঢুকুক’, ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিনের নাম শুনেছেন? অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন আর মা প্রকল্প দুটোই সরকারি প্রকল্প, শ্রমজীবী ক্যান্টিনের সঙ্গে এর তুলনা চলে না’।
প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতি, লকডাউন এবং তার পরে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’-এর বিপর্যয়ের মধ্যে সব গণসংগঠনকে নামিয়ে বিপন্ন মানুষের জন্য ত্রাণ ও সহায়তার কাজ শুরু করে বামেরা। বিনামূল্যে বা নূন্যতম মূল্যে (২০ টাকা) ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ খুলেছিল তারা। এই কর্মকাণ্ডে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাতে চায়নি বামেরা। বছর পেরিয়ে গিয়েছে, এখনও রমরম করে চলছে সেই ক্যান্টিন। প্রথমে যাদবপুর, তারপর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’। এমনকি এই কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্যান্টিন চালানোর জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সাধারণ মানুষরাও। কেউ অর্থ সাহায্য করেন, কেউ চাল, ডাল, চিনি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেন।
অন্যদিকে, ভোটের আগে আগেই ‘মা’ প্রকল্পের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পে ৫ টাকায় দু’বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। সেই ধাঁচেই রবিবার অমিত শাহ ঘোষণা করেন, রাজ্যেজুড়ে তৈরি হবে অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন। দিনে তিনবার ৫ টাকায় পাওয়া যাবে খাবার। এর পাশাপাশি রেশন চাল, গমের সঙ্গে থাকছে ন্যূনতম দামে ডাল, চিনি ও লবণ। সোমবার বাঁকুড়ার কোতলপুরের সভা থেকে বিজেপির সেই সদ্য প্রকাশিত ইস্তেহার নিয়ে কটাক্ষ করে জনসভা থেকে তিনি বলেন, “মমতাকে টুকলি করে কোনও লাভ নেই। ‘মা কিচেনে’র নাম পালটে ‘অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন'! সবটাই তো দেখে করেছে ওরা। চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিজেপির ভাঁওতা। ভোট শেষ হয়ে গেলেই পালিয়ে যাবে ওরা। কিছু করবে না। বিজেপি আগে বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা দেবে। এখন ভোটের আগে বলছে চাল-ডাল দেবে। চাল-ডালের দাম কমিয়ে লাভ নেই। গ্যাসের দাম কমাও। আমাদের সরকার চাল বিনামূল্যেই দেয়। সেই চাল ফোটাতে অনেক টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়। তাহলে গৃহস্থের চলবে কী করে? গ্যাসের দাম না কমালে বড় আন্দোলন হবে।”
