ডাফলির সঙ্গে ‘হাল্লা বোল’ বা ‘আজাদি’; চেনা স্লোগানেই বাংলায় সাড়া জাগাচ্ছেন ঐশী-দীপ্সিতারা

বাংলার ভোট প্রচারে নতুন ছন্দ এনেছেন দুই তরুণী

একপক্ষ বলছেন রাজনীতির ময়দানে ওরা বড্ড ‘ছোট’, অন্যপক্ষের মতে ওরাই দেশের ভবিষৎ। পক্ষ-বিপক্ষ যাই বলুক, ডাফলির তালে তালে তাঁরা বলছেন ‘হাম ছিনকে লেঙ্গে আজাদি’ অথবা ‘বোল রে সাথী, হাল্লা বোল’। ঐশী ঘোষ এবং দীপ্সিতা ধর, জামুড়িয়া এবং বালির সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত এই দুই ‘তরুণ’ সিপিএম প্রার্থী ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছেন বঙ্গ রাজনীতিতে।

‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি, বামপন্থীরা বার বার আজাদির স্লোগান দেন কেন এ নিয়ে বারংবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এমনকি ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কলকাতার একটি সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে এসে বামপন্থী ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে আজাদি স্লোগানের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়, একটি আজাদ দেশে আজাদির স্লোগান উঠলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। দেশ আজাদ হলেও আসলে এখনও অনেক কিছু থেকে আজাদি মেলেনি। সেই কারণেই সেইসব দিকগুলো তুলে ধরে আমরা আজাদির স্লোগান দিই।’

তবে, ২০২০ সালে দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়(জেএনইউ)-এর প্রতিবাদী ছাত্রদের যে স্লোগান আলোড়ন ফেলেছিল সারা দেশে, এবার ছাত্র আন্দোলনের সেই চেনা স্লোগানেই মুখরিত পশ্চিমবঙ্গের জামুড়িয়া এবং বালি। সৌজন্যে অধুনা ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ঐশী ঘোষ এবং দীপ্সিতা ধর। সব বিতর্ক দূরে রেখে এই স্লোগানেই বাংলার ভোট প্রচারে নতুন ছন্দ এনেছেন এই দুই তরুণী। হাল্লা বোল বা আজাদি স্লোগানের সঙ্গে ডাফলিও বাজাচ্ছেন বাম নেত্রী যুগল। আর তাতেই উজ্জীবিত নতুন প্রজন্ম থেকে সাধারণ নাগরিক।

কখনও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক, কখনও কাজি নজরুল ইসলামের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারে কয়েকদিনেই যথেষ্ট সাড়া ফেলেছেন বছর পঁচিশের ঐশী। ইস্তেহার অনুযায়ী শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাবকেই এবার প্রচারের মূল ইস্যু করেছে সিপিএম। ঐশী ঘোষ ছাড়াও প্রচারে নজর কেড়েছেন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার(এসএফআই) ছাত্রযুবনেতা দীপ্সিতা ধর।

প্রচারে গিয়ে মানুষের দরজায় দরজায় যখনই যাচ্ছেন, তখনই কেউ মুখে মিষ্টি তুলে দিচ্ছেন অথবা আশীর্বাদের হাত মাথায় রাখছেন, এ দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে দীপ্সিতাকে ঘিরে। অন্যদিকে, ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম, এই জিজ্ঞাসে কোন জন হে, কাণ্ডারী বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র’। কাজি নজরুল ইসলামের মূর্তিতে মাল্যদান করা ছবি দিয়ে কবির এই লেখাই নিজের ট্যুইটারে পোস্ট করেছেন ঐশী। সাম্প্রাদায়িকতার রাজনীতির যে তিনি তীব্র বিরোধী, তা পোস্টের মাধ্যমে যেমন বুঝিয়েছেন, তেমনই প্রচারেও তা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন।

জেএনইউ আর জামুড়িয়াকে এক সুরে বেঁধেছেন দুর্গাপুরের ঐশী। খনি ও দূষণে ঢাকা শিল্পাঞ্চল জামুড়িয়ায় শিক্ষার হার নজর কাড়া নয়। তাই জেএনইউয়ের এই ছাত্রনেতাকে প্রার্থী করায় অনেকেই নাক সিঁটকেছিলেন। কিন্তু ঐশী কয়েকদিনের প্রচারেই জামুড়িয়ার নিজস্ব দাবি দাওয়াকে যেমন বুঝতে পেরেছেন, ছাত্র আন্দোলনের সংস্কৃতিকেও এখানকার যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

Developed by DXDasia