কেউ রেললাইনে শুয়ে পড়ছে, কোথাও পার্টি অফিসে তালা-বিক্ষোভ; প্রার্থীতালিকা ঘিরে ধুন্ধুমার বিজেপিতে

সোমবার দিনভর বিজেপি-র নির্বাচনী কার্যালয় হেস্টিংসেও বিক্ষোভ দেখান দলের কর্মীরা

মাত্র দু’সপ্তাহ আগেও প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা নিয়ে তৃণমূলকে কথায় কথায় বিঁধছিল বিজেপি। কিন্তু, ব্যাপারটা যে ‘বুমেরাং’ হয়ে যাবে, তা আশা করেননি বিজেপি নেতা-কর্মীরা। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৃতীয় ও চতুর্থ দফার প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করার পর থেকেই জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়েছে। এমনকি, হুগলির ত্রিবেণীতে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন নিরুপম মুখোপাধ্যায় নামের স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। রেললাইনে শুয়ে পড়েন তিনি। রেল পুলিশ (জিআরপি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোট-সমরে দলের নেতা-কর্মীদের এহেন আচরণ নিয়ে কী বলা উচিত ভেবে দিশা পাচ্ছেন না তাবড়-তাবড় রাজনীতিবিদরা।

কেউ বলছেন, প্ল্যানিং না করেই বাংলার মসনদ দখল করতে মাঠে নেমেছে বিজেপি। আবার কেউ বলছেন, ভোটে দাঁড় করানোর মতো কোনও প্রার্থীই পাচ্ছে না গেরুয়া শিবির। “আমাদের পার্টিতে কোনও অশান্তি নেই। বিক্ষোভ নয়, এটা আসলে প্রমাণ, কত মানুষ বিজেপিতে আসতে চায় সেটার। বিজেপির প্রতি আবেগ-ভালোবাসার প্রকাশ এসব।” জনৈক সংবাদমাধ্যমে বিক্ষোভ নিয়ে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেন বিজেপি নেতা সৌরভ সিকদার। “আত্মহত্যার হুমকি, ভাঙচুর এগুলোও আবেগ-ভালোবাসা!?” সৌরভবাবুকে পাল্টা প্রশ্ন করা হলেও, কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি তাঁর কাছ থেকে।  

প্রসঙ্গত, প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় রাজ্য জুড়ে দফায় দফায় বিক্ষোভের সঙ্গে সঙ্গে দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। তারই মধ্যে সোমবার দিনভর বিজেপি-র নির্বাচনী কার্যালয় হেস্টিংসেও বিক্ষোভ দেখান দলের কর্মীরা। বিক্ষোভের মুখে পড়েন শিবপ্রকাশ, মুকুল রায়, অরবিন্দ মেনন, অর্জুন সিংহ, সব্যসাচী দত্ত-সহ বিজেপি-র একাধিক নেতা। সন্ধ্যায় পুলিশের ব্যারিকেডও ভেঙে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

Developed by DXDasia