ইউ.এস.মিলিটারির ফোটোগ্রাফার ক্লাইড ওয়াডেল ক্যামেরায় কলকাতা

ক্যামেরায় পথ চলতে চলতে কলকাতা। তাও কার্যত এক সেনাবিভাগের পদস্থ কর্মীর ক্যামেরায়

ক্যামেরায় পথ চলতে চলতে কলকাতা। তাও কার্যত এক সেনাবিভাগের পদস্থ কর্মীর ক্যামেরায়। ইউ.এস.মিলিটারির ফোটোগ্রাফার ক্লাইড ওয়াডেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১৯৪৬-এ কলকাতায় এলেন মাউন্ট ব্যাটেনকে সহযোগীতার জন্য। তার পর রাজভবনের সামরিক দপ্তরে কাজের পাশাপাশি চলল তাঁর অনবরত ক্যামেরা হাতে পথ চলা। আর তার পর একটা করে ছোট্ট ক্লিক আর ছবি উঠিয়ে ফেলা।

হাওড়া ব্রিজ, মনুমেন্ট, কালীঘাট মন্দির তো আছেই পাশাপাশি এই সামরিক উর্দিধারী মিলিটারি প্রেস ফোটোগ্রাফার আরও এমন সব ছবি তুলে রাখলেন যা সেই সময়ের বাঙালী জীবনের ও মননের দলিল হয়ে উঠল।

কোথাও ধরা পড়ল যানজটে আটকে পড়া একবগির ট্রামের গা ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা গরুর গাড়ি, কোনও ছবিতে দেখা গেল পঞ্জাবি ট্যাক্সিওয়ালার অস্টিন গাড়িতে চেপে বসা আমেরিকান সেনার দল। আবার ক্লাইড ওয়াডেলের কোনও ছবিতে ধরা পড়ল চারের দশকের কলকাতার বাঙালী কী অপরিসীম দাপটের সঙ্গে ট্রামের পিছনের জানালা দিয়ে ট্রামে উঠছে।

তাছাড়া চিৎপুর ও বাক্সের মতো ঘোড়ার গাড়ি দৌড়ের এক বিচিত্র চেহারা ধরা পড়েছে ক্লাইড ওয়াডেলের ক্যামেরায়। সেই ছবিতেই এক ঝলক চোখ রাখলে দেখা যাবে বিজ্ঞাপনে শহরের মুখ ঢেকে যাওয়ার সেকালের চেহারাটিও।

গত চব্বিশ জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতার আকৃতি আর্ট গ্যালারিতে ক্লাইড ওয়াডেলের তোলা কলকাতার ষাটটি অনবদ্য ফোটোগ্রাফি দেখা গেল। প্রত্যেকটিই ছিল ওয়াডেলের নিজের করা জিলাটিন সিলভার প্রিন্টস। এক কথায় বলতে গেলে এই আলোকচিত্রগুলি আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে অতীতের স্বর্ণালী ঐতিহ্যকে অভিজ্ঞতা করার। আমরাও পা ফেললাম ক্লাইড ওয়াডেলের সঙ্গে কলকাতার টালা থেকে টালিগঞ্জ। আসলে মিলিটারি প্রেস ফোটোগ্রাফারদের ছবি তোলার একটা নির্দিষ্ট দায় থাকে। তাঁরা মূলত তুলে রাখেন যুদ্ধের সাফল্য। সমর নায়কদের কৃতিকলাপ বা সামরিক অনুষ্ঠানের নথি অথবা যুদ্ধ বন্দীর ছবি। কলকাতায় এসব কাজের পাশাপাশি সম্পূর্ণ ভীন্ন ধারার ছবি তুললেন ওয়াডেল। যা সামরিক ভাবনার ও উর্দির দায়বদ্ধতার বাইরে বেড়িয়ে এসে তোলা। এখানে তিনি ক্যামেরা হাতে এক পথচারী। এই পথচারীর দৃষ্টিভঙ্গিটাই আমাদের মুগ্ধ করে।

ছবি সূত্রঃ আকৃতি আর্ট গ্যালারি।   

Post Tags
Developed by DXDasia