
“আমরা কি চা খাব না? খাব না আমরা চা?” – খ্যাত মৃদুল দেব
গত বছর ‘জনতা কার্ফু’ চলাকালীন দক্ষিণ কলকাতার এক তরুণী রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকান খোলা দেখে সেখানকার লোকেদের প্রশ্ন করেছিলেন, “রাস্তায় বেরিয়েছেন কেন?” উত্তরে মৃদুল দেব নামক এক বয়স্ক বলেছিলেন, “আমরা কি চা খাব না? খাব না আমরা চা?” সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল সেই ভিডিও। ‘চা কাকু’ প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন নেটিজেনদের। আবার বিদ্রুপও জুটেছিল কপালে। তৈরি হয়েছিল অসংখ্য মিম, রোস্ট ভিডিও। বিজয়গড় শ্রীকলোনির বাসিন্দা মৃদুল দেব তখন থেকেই পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
এবার নিজের পাড়াতেই তিন ফুট বা তিন ফুটের ছোট্ট একটা চায়ের দোকান খুলেছেন মৃদুলবাবু। তিনদিন আগেই পান, চিপস, চকোলেট, সিগারেট এবং চা দিয়ে পসরা সাজিয়েছেন। ফেসবুকে নিজের দোকানের ছবি পোস্ট করে মৃদুলবাবু লিখেছেন, “আমার নতুন দোকান। ছোটো করে শুরু করলাম। যারা যারা আমার দোকানের চা খেতে চাও চলে এসো।”
করোনা পরিস্থিতির আগে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে হিসেবে কাজ করতেন মৃদুলবাবু। লকডাউনে কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচজনের সংসার চালানোটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই এলাকার সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর দ্বারস্থ হন তিনি। মিমি ফিরিয়ে দেননি। মাঝেমধ্যেই ডেকে সাহায্য করেছেন। সংসারের দৈনন্দিন সামগ্রী উপহার পাঠিয়েছেন একাধিকবার। এমনকি মিমি চক্রবর্তী তাঁর সঙ্গে ভিডিও কলে কথাও বলেছেন। জানা গিয়েছে, দুই হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে বাড়ির সামনেই এই দোকান চালু করেন তিনি। রমরমিয়ে চলছে সেই দোকান। অনেকেই আসছেন, চা খাচ্ছেন, ছবি তুলছেন, ইন্টারভিউ নিচ্ছেন।
আপাতত পাঁচ ও দশ টাকার চা পাওয়া যাচ্ছে মাটির ভাঁড়ে। আগামী দিনে আরও বড়ো কিছু করার পরিকল্পনা আছে মৃদুল দেবের।
