
দু’দিন পর পুলিশ এল বাড়িতে
যা হোক, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে আমি ওই হোটেলের নির্দিষ্ট ঘরে পৌঁছে দুয়ারে টোকা দিতেই দু’জন চিনা ব্যক্তি আমাকে ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। একটা ছোট্ট ট্রানজিস্টার রেডিও চালিয়ে আমার সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করলেন। আলোচনা সবটা চলল লেখালেখিতে। প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে তাঁরা মূলত আমার কাছ থেকে আমাদের অংশগ্রহণে পরিচালিত কমিউনিস্ট আন্দোলন, পার্টি ও গ্রুপগুলোর অবস্থান সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। আমি সাধ্যমতো ইংরেজিতে লিখে লিখে তাঁদের উত্তর দিলাম।
আলোচনা শেষে ওঁরা আমাকে ইংরেজিতে ছাপা একটা ‘রেড বুক’ উপহার দিলেন। একজন সেক্রেটারি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “চিনে রেডিও পিকিং-এর বাংলা বিভাগ চালু হচ্ছে, আপনি কি সেখানে যোগদান করতে রাজি?” আমি ইংরেজিতে লিখলাম, “After completing Indian Revolution I can go to China, if situation permits”। ওঁরা আমার করমর্দন করে হেসে বিদায় জানালেন। আমি সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নেমে রাস্তায় পা রাখলাম।
এর দু’দিন পরেই এক দুপুরে পুলিশ হানা দিল আমাদের বাড়িতে। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল সেই ছেলেটিকে, যে বৈদ্যবাটি পোস্ট অফিসের সামনে থেকে ওই চিনাম্যানদের আমাদের বাড়ি চিনিয়ে দিয়েছিল। আমি তখন আপিস বেড়িয়ে গিয়েছি। আমাকে না পেয়ে ওই গমকলের মালিককে নানা প্রশ্ন ও ধমকধামক দিয়ে ফিরে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন
সেরা কমরেডরা গ্রামে চলুন
ক’দিন বাদেই আমার হাতে পৌঁছল আমাদের জেলা থেকে প্রকাশিত একটি কমিউনিস্ট বিরোধী সাপ্তাহিক পত্রিকা। তাতে ছাপা হয়েছিল, চিনারা নাকি আমার সঙ্গে দেখা করে আমাকে অস্ত্রশস্ত্র ও টাকাপয়সা দিয়ে গিয়েছে, আর আমি নাকি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি ‘ম্যাপ-ট্যাপ’ ইত্যাদি।
এখন সে কাহিনি মনে পড়লে কেমন যেন হাসি পায়। উল্লেখ্য, এর কিছুদিন পরেই চিনা দূতাবাসের ওই দুই অফিসারকে নেপালের পথে চিনে ফিরে যেতে বাধ্য করে ভারতের দক্ষিণপন্থী একটি রাজনৈতিক দলের হামলাকারীরা। ওই দূতাবাস আক্রমণ করেছিল তারা। দূতাবাসের কিছু ক্ষতিসাধন করতে পেরে ওই ‘দেশপ্রেমিক’রা খুব উল্লাস প্রকাশ করেছিল সেই সময়ে।
(চলবে)
