
আড়াই দশক পরেও এই জাদুঘরের জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি
তখনও প্রমাণ সাইজের ভয়ঙ্কর ডাইনোসরগুলো আমাদের শহরে পা রাখেনি। কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন ১৯৯৪ সালে মোট ৪৯.০৬ একর জমির ব্যবস্থা করে দেয় সায়েন্স সিটি নির্মানের জন্য। তার মধ্যে ৩০ একর জমি দান করা হয় এবং ১৯.০৬ একর জমি লিজে। সায়েন্স সিটির যাবতীয় স্থাপত্যের প্রাথমিক নকশা তৈরি করে M/s. Development Consultants Pvt. Ltd.নামে একটি সংস্থা এবং প্রযুক্তিগত ভাবে সাহায্য করে জাপানের সংস্থা M/s Goto Inc.।
ধীরে ধীরে আকার পেতে শুরু করে কলকাতার জনপ্রিয় এই বিজ্ঞান জাদুঘরটি। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ মধ্যে গড়ে ওঠে কনভেন্সন সেন্টার কমপ্লেক্স, স্পেস ওডিসি, ডাইনামিক হল, ক্যাম্পাস, প্রকাণ্ড বাগান। এর মধ্যেই ওই বছরই সায়েন্স সিটিতে প্রদর্শিত হয় ‘জ্যান্ত ডাইনোসর’ শীর্ষক প্রদর্শনী। ৪৫ দিন ধরে চলা ওই প্রদর্শনী দেখতে ভিড় জমে ছিল কাতারে কাতারে। ১৯৯৬-এর ২১ ডিসেম্বর কনভেনশন সেন্টার কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন রসায়নে নোবেলজয়ী ও বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক Paul J. Crutzen। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী শ্রী ইন্দর কুমার গুজরাল, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী-গর্ভনর শ্রী জ্যোতি বসু এবং শ্রী এস আর বোমাই সায়েন্স সিটির শুভ উদ্বোধন করেন।

সায়েন্স সিটি উদ্বোধনের দিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু
১৯৯৭-এ প্রতিষ্ঠার পর দেখতে দেখতে ২৫ বছর পেরল সায়েন্স সিটি। কলকাতার জনপ্রিয় স্থানগুলির মধ্যে সাধারণের আগ্রহের বেশ ওপরের তালিকাতেই রয়েছে এই জাদুঘর। আড়াই দশক পরেও সায়েন্স সিটির ডাইনোসরের জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি। ১ জুলাই জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সায়েন্স সিটির ২৫ তম বর্ষপূর্তি পালন করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতি হিসাবে হাজির ছিলেন বোস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর এবং পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক শিবাজি রাহা, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামের (এনসিএসএম) ডিরেক্টর জেনারেল এল কে মুখোপাধ্যায়, এনসিএসএম-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর এবং কিউরেটর এডি চৌধুরী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কনভেনশন সেন্টার কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করছেন Paul J. Crutzen
অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘কলকাতা: দ্য সিটি অফ জয়’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র দর্শকদের সামনে পরিবেশন করা হয়। যাতে কলকাতার ইতিহাস, সংস্কৃতিকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘সায়েন্স সিটির ২৫ বছর উপলক্ষে একটি প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয় এদিন। এদিন সায়েন্স সিটির বর্তমান অধিকর্তা অনুরাগ কুমার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রদীপ জালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন।
পরিত্যক্ত জমিতে কীভাবে শহরের জনপ্রিয় বিজ্ঞান জাদুঘরটি গড়ে উঠলো, সেসবের ক্রমবিবরণীই তুলে ধরা হয়েছিল বিশেষ প্রদর্শনীতে। আর হ্যাঁ, এবার সায়েন্স সিটিতে গেলে উপভোগ করতে পারবেন দৈত্যকার সুর্যঘড়ি। বিশেষ চমক হিসেবে এটি ছাড়াও থাকছে আরও নানা কিছু, যা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, আগামী দিনে দর্শকদের ভালো লাগার মতো অনেক কিছুই আসবে এখানে।

করোনার ধাক্কা সামলে ফের স্বমহিমায় সায়েন্স সিটি। কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গাগুলির মধ্যে খুব উপরের দিকেই এই বিজ্ঞান জাদুঘরের স্থান। সায়েন্স সিটি মিউজিয়মের রজতজয়ন্তী বর্ষে দর্শকদের জন্যে একাধিক চমকের আয়োজনের পাশাপাশি সায়েন্স সিটি দর্শকসংখ্যার নিরিখেও নতুন রেকর্ড করে ফেলেছে বলে জানা গিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেন, ”এ বছর মে মাসের ভিড় ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৯৮-এর মে মাসে সায়েন্স সিটিতে এক লাখ ৪৯ হাজার দর্শক এসেছিলেন। এ বছর মে-তে এক লাখ ৫৪ হাজার।” ২০২০-তে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়া থেকে প্রায় দু'বছর দর্শকশূন্য থাকার পরে এমন ভিড় অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।
