হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ: অভিজ্ঞ সম্পাদনায় ‘অমূল্য রতন’

বঙ্গদর্শন আয়োজিত বইমেলায় বইপড়া : ২

বইমেলা কড়া নাড়ছে দরজায়। শীতের এমন বই-উন্মুখ মেজাজে পরিশ্রমী পাঠক নানারকম লিস্ট হাতে মাঠে নামার জন্য তৈরি হচ্ছেন জানি, তাঁদের আগ্রহ আরও একটু উসকে দিতেই আজ একটা প্রায় থ্রিলারকে হার-মানানো সম্পাদনার গল্প বলব, যেখানে সম্পাদক ফেলুদা-ব্যোমকেশের চাইতে কিছু কম নন। বইটি বিদ্যায়তনিক পরিসরে খুবই মূল্যবান, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রবীন্দ্রনাথের কথা আর কবির কথা বই দুটিকে একত্র করে পাঠকের দরবারে হাজির করেছেন সম্পাদক দেবাঙ্গন বসু। হরিচরণ-গবেষক হিসেবে ইতিমধ্যে তাঁর সুনামও যথেষ্ট। কিন্তু শুধু বইটির তাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণেই যে বইটির দিকে আমি বিশেষ নজরে তাকাতে বলব, তা নয়। আসলে এ বইটির নানা প্রবন্ধ নানা আয়োজনে আগেও বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের প্রকাশবৃত্তান্ত নিয়ে নানা ভুল রয়ে গেছে তাতে, আর রীতিমতো প্রচলিত ভুলের জং-ধরা মোড়কে থাকতে থাকতে ভুল তথ্যটিই কখন যে পাঠকমানসে গেড়ে বসে গেছে, তা কেউ খেয়ালই করেননি! কী আশ্চর্য কায়দায়, ধারালো গোয়েন্দার চোখে দেবাঙ্গন যে এ বইটি সংক্রান্ত নানা তথ্য খুঁটিয়ে, যাচিয়ে, পরখ করে দেখতে দেখতে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন তাঁর সম্পাদকীয় ভূমিকায়, সেই কথাটাই বলি এবার।

দেবাঙ্গন খুঁজে পেয়েছেন আলোচ্য বইটির প্রথম সংস্করণের এমন দুটি কপি, যে দুটির একটি হরিচরণ স্বয়ং উপহার দিয়েছিলেন রবীন্দ্রভবনে এবং অন্যটি শিল্পী মুকুল দে আর তাঁর স্ত্রী বীণা দে-কে, উপহারের তারিখ যথাক্রমে ১৩৫৩ সনের ৩১ চৈত্র এবং ১৩৫৪ সনের পয়লা বৈশাখ।

যে-কোনো সম্পাদনাকর্মের একেবারে প্রাথমিক কাজ, আলোচ্য রচনাটিকে নির্দিষ্ট স্থানিক ও কালিক পরিসরে পেশ করা। এর দুটো অভিমুখ থাকে। এক, মূল রচনাটি যে সময়ে, যে পরিসরে প্রকাশিত হয়েছিল, তার নির্ভুল দিনক্ষণ ও প্রকাশনাবৃত্তান্ত উল্লেখ করে তার কালগত গুরুত্বটি দেখানো। এবং দ্বিতীয়ত, এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই রচনাটি পুনঃপ্রকাশের সিদ্ধান্ত কেন তাৎপর্যপূর্ণ, তা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া। দুটি কাজই দেবাঙ্গন করেছেন অত্যন্ত অভিনিবেশের সঙ্গে। বিশেষত, হরিচরণ স্বনামধন্য হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর গ্রন্থের প্রকাশকাল নিয়ে যেখানে প্রচুর ধোঁয়াশা, সেখানে সম্পাদক হিসেবে সত্যের কাছাকাছি পৌঁছোনোর জন্য নানা পরোক্ষ অনুষঙ্গের ওপরে অবলম্বন করতে হয়েছে তাঁকে। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই দুটি বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশের দীর্ঘদিন পর্যন্ত আর দ্বিতীয় মুদ্রণসৌভাগ্য লাভ করেনি। অনেকদিন পর, মাত্র বছর পঁচিশ আগে (উল্লেখ করা আছে ‘মাঘ, ১৪০৬ বঙ্গাব্দ’), বিশ্বভারতী থেকে রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ নাম দিয়ে বই দুটি একত্র করা হয় ঠিকই, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কথা বইটির প্রথম প্রকাশবৃত্তান্ত হিসেবে যা ছাপা হয়েছিল সেখানে, ‘১৩৫০ বঙ্গাব্দ’, সেটি সম্পূর্ণ ভুল। ভালো সম্পাদক হতে গেলে যে আগে কূটসন্দেহপ্রবণ অনুসন্ধান বজায় রাখা জরুরি, ঠিক এইখানে তার প্রমাণ রেখেছেন দেবাঙ্গন, নইলে এ ভুল ধরতে পারা মুখের কথা নয়। বিশেষত, ভুল বছর আর ঠিক বছরের তফাত যেখানে মাত্র দু-বছরের। সম্পাদক হিসেবে বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় সংস্করণবৃত্তান্তটিকে মোটেই নির্বিচারে মেনে নেননি তিনি, নিখুঁত গোয়েন্দার মতো মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিশ্বভারতী প্রকাশিত আদি সংস্করণটির সঙ্গে, আর সেখানেই ধরা পড়েছে গোলমাল।

দেখা যাচ্ছে, প্রথম সংস্করণটিতে কোনো প্রকাশকালের উল্লেখই নেই! বিশ্বভারতী ছুঁইয়ে-রাখা পাথরকেও সোনা বলে দাবি করতে ছুটে আসবেন, এমন এক শ্রেণির মাফিয়া মনোভাবসম্পন্ন ভক্ত পাঠককুল বাংলায় যে আছে, তা বেশ ভালোই বোঝেন সম্পাদক। সেইজন্যই তিনি শুধু এই তথ্যটুকু জানিয়েই ক্ষান্ত দেননি, বরং বমাল হাজির করেছেন তাঁর ‘এভিডেন্স’টিকে— একেবারে মূল গ্রন্থের আখ্যাপত্র থেকে তুলে দিয়েছেন প্রকাশনবৃত্তান্ত অংশটি। এখন প্রশ্ন হল, প্রকাশকালের উল্লেখ যদি এখানে না-ই থেকে থাকে, তাহলে দ্বিতীয় সংস্করণের ওই প্রকাশকালটি পাওয়া গেল কীভাবে? যেহেতু এ প্রশ্নের উত্তর মূল আকরটিতে নেই, তাই তাকে সরিয়ে রেখে সম্পাদক এবার কাজে লাগাতে শুরু করেছেন ‘সেকেন্ডারি রেফারেন্স’ তথা সহায়ক তথ্যগুলিকে। একেবারে খাঁটি গোয়েন্দার মতো শুরু হল এই দফার অনুসন্ধান। দেবাঙ্গন খুঁজে পেয়েছেন আলোচ্য বইটির প্রথম সংস্করণের এমন দুটি কপি, যে দুটির একটি হরিচরণ স্বয়ং উপহার দিয়েছিলেন রবীন্দ্রভবনে এবং অন্যটি শিল্পী মুকুল দে আর তাঁর স্ত্রী বীণা দে-কে, উপহারের তারিখ যথাক্রমে ১৩৫৩ সনের ৩১ চৈত্র এবং ১৩৫৪ সনের পয়লা বৈশাখ। বিশ্বভারতী দ্বিতীয় সংস্করণে উল্লিখিত প্রকাশকালটিকে ঠিক বলে ধরে নিলে, বইটি প্রথমবার প্রকাশিত হওয়ার তিন বছর পরে। প্রিয়জনকে স্বলিখিত বই তিন বছর পরে উপহার দেওয়ার মতো বেয়াড়া কাজ হরিচরণের মতো মানুষের পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব, আর শুধু প্রিয়জনকে নয়, রবীন্দ্রভবনেও কিনা তিনি দিচ্ছেন তিন বছরের পুরোনো কপি? এখানেই আরও তীক্ষ্ণধার হয়েছে সম্পাদকের সন্দেহ। অবশেষে, তাঁর সপক্ষে তিনি হাজির করেছেন অভ্রান্ত প্রমাণ— রবীন্দ্রভবনের অভিলেখ্যাগারে রক্ষিত একটি নথি। এখানে ‘ইস্ট পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি’-র পাবলিকেশন ব্যুরো-র সেক্রেটারি, জনৈক প্রীতম সিং-কে একটি ফরমায়েশি চিঠিতে নিজের যাবতীয় গ্রন্থের একটি বিশদ তালিকা পাঠাচ্ছেন হরিচরণ। সেখানে তালিকার চতুর্থ গ্রন্থ হিসেবে রয়েছে এই রবীন্দ্রনাথের কথা বইটির নাম, আর তার প্রকাশসাল হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে ‘1945 A.D.’, অর্থাৎ ১৩৫২ বঙ্গাব্দ। খুব সম্ভবত ১৩৫২ বঙ্গাব্দেরই শেষ দিকে এর প্রকাশ এবং কেন যে ঠিক ওই সময়টাই হওয়ার কথা, তা-ও দেখিয়েছেন দেবাঙ্গন। হরিচরণের জীবনের ‘ম্যাগনাম ওপাস’ বঙ্গীয় শব্দকোষ-এর কাজ শেষ হচ্ছে ওই বছরেই। ওই বিপুল পরিশ্রম ও অভিনিবেশ দাবি-করা কাজটির সমান্তরাল গতিতে আর-একটি প্রকাশনা প্রয়াস চালানো কি আদৌ সম্ভব ছিল? পাঠক কি বলেন?

অত্যন্ত পরিশ্রমী সম্পাদনার নজির ছড়িয়ে আছে গ্রন্থ সংকলনের নীতিতে। গোড়ায় একটি দীর্ঘ ভূমিকায় সম্পাদক তাঁর যাবতীয় সম্পাদকীয় নীতি যেমন খোলসা করেছেন, ঠিক তেমনই তিনি শুধু এই বই দুটি পুনর্মুদ্রণ করেই ছেড়ে দেননি।

অভিধানপ্রণেতা শব্দসন্ধানী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রমের কিছু পরিচয় নিশ্চিত রাখেন দায়িত্বসচেতন বাঙালি পাঠকরা। শব্দ নিয়ে ভাষার প্রাথমিক কারবার, সেই তদারকিতে তাঁর খোঁজ পড়ে বারবার। ঠাকুর পরিবারের জমিদারি সেরেস্তায় যাঁর কর্মজীবন শুরু, তিনি যে ঠিক কোন্‌ অমূল্য যোগাযোগের পথে এসে পড়লেন শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমের সংস্কৃত অধ্যাপক হয়ে, সেই বহুশ্রুত কাহিনি এখনও আমাদের বিস্মিত করে। এমনকি, তাঁর ওই বিপুল বিরাট শ্রমের সাক্ষ্য বঙ্গভাষায় প্রতিদিনের সঙ্গী করে নেওয়ার পরেও, রবীন্দ্রনাথের চোখে ঠিক কোন্‌ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এই অতিসাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, আত্মপ্রচারবিমুখ, পাঠের নিভৃতিতে নিজের জীবনকে ডুবিয়ে-রাখা মানুষটি, এই কৌতূহল আমাদের যায় না। কিন্তু তাঁর একটু ভিন্ন স্বাদের প্রবন্ধগুলি, যেখানে মিলে যেতে পারে এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর, তা সবই রয়ে গেছে ছড়িয়েছিটিয়ে, কিছু একেবারেই অধরা। জীবদ্দশায় রবীন্দ্রসান্নিধ্য এবং সেই সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রবন্ধ একত্র করার চেষ্টা তিনি করেছিলেন দু-বার। একবার, ১৯৪৫ সালে, রবীন্দ্রনাথের কথা বইটিতে, আর-একবার, ১৯৫৪ সালে, মৃত্যুর ঠিক তিন বছর চার মাস আগে, কবির কথা বইটিতে। রবীন্দ্রপ্রসঙ্গ, অনুষঙ্গে রবীন্দ্রস্বজনপ্রসঙ্গ, রবীন্দ্র-অনুসারী শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর কথা আর রবীন্দ্রসাহিত্যসমালোচনা— মূলত এই নিয়েই লেখা প্রবন্ধগুলি। রবীন্দ্রনাথের কথা বইটির কিছু প্রবন্ধ আবার প্রকাশিত হয়েছিল দেশ এবং প্রবাসী পত্রিকাতেও। প্রবন্ধগুলির একত্র সমাবেশ প্রথমবার ঘটেছিল বিশ্বভারতী কর্তৃক প্রকাশিত রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ গ্রন্থে। অনেকদিন হল, সে বইও পাঠকের দরবারে অমিল। অন্য আর-একটি সুবিখ্যাত প্রকাশনা অবশ্য এর মধ্যে একটি বই প্রকাশ করেছিল, মাত্র বছর পাঁচেক আগে। কিন্তু আস্ত একটি প্রবন্ধ থেকে প্রায় চারশোরও বেশি শব্দ বাদ পড়েছে সেই সংস্করণে, বিনা সংশোধনে এই অঙ্গহানি নিয়েই বইটি পড়ে আছে এখনও। সেই ভুলে-ভরা বইটিকে আংশিক সংযোজন হিসেবে যদিও বা ধরি, তবুও রবীন্দ্রচর্চার বৃত্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হরিচরণের এই সবকটি প্রবন্ধ একসঙ্গে আর দেখা যায় না কোথাওই।

সদ্য প্রকাশিত শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রপ্রসঙ্গ বইটিতে সেই দায়িত্বটিই পালন করেছেন দেবাঙ্গন বসু। রবীন্দ্রনাথের কথা আর কবির কথা বই দুটির যাবতীয় প্রবন্ধ দু-মলাটের ভেতরে সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন তিনি। অত্যন্ত পরিশ্রমী সম্পাদনার নজির ছড়িয়ে আছে গ্রন্থ সংকলনের নীতিতে। গোড়ায় একটি দীর্ঘ ভূমিকায় সম্পাদক তাঁর যাবতীয় সম্পাদকীয় নীতি যেমন খোলসা করেছেন, ঠিক তেমনই তিনি শুধু এই বই দুটি পুনর্মুদ্রণ করেই ছেড়ে দেননি। বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় প্রসঙ্গ খুঁজে খুঁজে উপস্থিত করেছেন বইতে, যা হরিচরণের এই রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ পড়ার ক্ষেত্রে হয় সহায়ক, নয় সম্পর্কিত। যেমন, বইয়ের শুরুতেই দিয়েছেন একটি মানচিত্র আর সেই মানচিত্র-নির্দেশিকা— ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম, আদিযুগের মানচিত্র’। কতটা নিখুঁত স্থপতি হলে, একটি বাড়িতে ঢোকার আগে দর্শনার্থীকে কক্ষসন্নিবেশ বুঝিয়ে দেওয়ার মতো করে, একটি আস্ত মানচিত্র বুঝিয়ে বলার ধৈর্য রাখেন সম্পাদক, শুধুমাত্র হরিচরণের লেখায় সেযুগের শান্তিনিকেতনীয় উল্লেখগুলি পাঠক তাঁর আয়নায় ফেলে যাতে বুঝতে পারেন, সেই কথা ভেবে! এ ছাড়াও রয়েছে একটি প্রবন্ধের অপ্রকাশিত টীকা, প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হরিচরণের আরও দুটি প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ। সেই সঙ্গে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর প্রবাসী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী একটি গ্রাম্য শব্দকোশ প্রণয়নের যে প্রস্তাব রেখেছিলেন হরিচরণ, তার চিন্তাহরণ চক্রবর্তী কর্তৃক প্রদত্ত একটি উত্তর, অবশ্যই প্রবন্ধের আকারে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রবন্ধটি, সেটি ভূপেন্দ্রনাথ সান্যালের ‘রবীন্দ্র প্রসঙ্গ’। এই প্রবন্ধের সূত্র ধরেই হরিচরণ তাঁর বইয়ের একটি প্রবন্ধ লেখেন, ফলে এটির সংযোজনের গুরুত্বই প্রশ্নাতীত।

হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একটি বিশাল বিদ্যাচর্চার বিষয়। ফলে এ বই সচেতন পাঠকের অনুসন্ধিৎসা তো মেটাবেই, সে কথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সম্পাদনা কীভাবে করা উচিত, সম্পাদকের অনুসন্ধানের সংকীর্ণ পথে প্রত্যেকটা নুড়িপাথর কীভাবে উলটে দেখতে হয়, আর অভিজ্ঞ চোখে কীভাবে ছাই কুড়িয়ে ‘অমূল্য রতন’ পাওয়া যায়— বাংলা বই সম্পাদনার সেই শিক্ষাটুকুর জন্যও এ বই অবশ্য দ্রষ্টব্য হয়ে রইল। আজকাল পুরোনো টেক্সট পুনর্মুদ্রণের হিড়িক পড়েছে বেশ। দেড় থেকে দু-পাতার দায়সারা সম্পাদকীয় প্রবন্ধে শিশুসুলভ কিছু অকারণ তথ্যের জোগান দিয়ে যাঁরা সেসব বইয়ের ‘প্রথিতযশা’ সম্পাদক সেজে বসছেন, দেবাঙ্গন বসুর এই কাজ তাঁদের সামনে একটা মূর্তিমান উত্তর। একটু খাদ মিশলে তবেই নাকি পাকা সোনা মেলে। সেই প্রবাদ মিলিয়ে বলতে পারি, শুধু বানান বিষয়ে কয়েকটি মুদ্রণপ্রমাদ সম্পর্কে আর-একটু সচেতন হওয়ার একটু শূন্যস্থান রয়ে গেছে, আশা করি পরবর্তী সংস্করণে সে ভুল শুধরে নেওয়া যাবে।

______ 
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ/ সম্পাদনা: দেবাঙ্গন বসু/ প্রকাশক: পার্চমেন্ট/ ডিসেম্বর, ২০২৪/ মুদ্রিত মূল্য: ৭০০ টাকা

 

Developed by DXDasia