
ভোটের হার বাড়াতে জেলা নির্বাচন দফতরের চমক
ভোটের বাজারে উত্তর কলকাতা মাতাতে আসছে সত্যজিৎ রায়ের ‘এক ডজন গপ্পো’, সঙ্গে টেনিদা-সহ চারমূর্তি। বেমালুম গুল-গল্প নয়। উত্তর কলকাতার বাসিন্দাদের বুথমুখী করতে সত্যিই এমন পরিকল্পনা নিয়েছে উত্তর কলকাতা জেলা নির্বাচন দফতর। ঠিক হয়েছে, উত্তর কলকাতার স্থানীয় সংস্কৃতি, আবেগকে পুঁজি করে ১২টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করা হবে। প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য হবে একমিনিট করে। এই ১২টি ছবির সিরিজের নামই ভাবা হয়েছে ‘এক ডজন গপ্পো’। সরাসরি সত্যজিৎ রায়ের গল্প না হলেও, তাঁর কাছেই ঋণী এই নামকরণ।
টেনিদা-সহ চারমূর্তি, কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া, হাতে টানা রিক্সা, রাজাবাজারের ঘোড়ার গাড়ি, ডেকার্স লেন, শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড়ের মতো উত্তর-মধ্য কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে লেপ্টে থাকা নানা কিছুকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে এই ছবিগুলি। উদ্দেশ্য, উত্তর কলকাতার মানুষদের ভোট দিতে উৎসাহী করা। উত্তর কলকাতার ভোটদানের হার বেশ কম। ২০১৪ সালের লোকসভায় এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৬৬.৬৭ শতাংশ। ২০১৬-র বিধানসভায় তা কমে দাঁড়ায় ৬৪.২৭ শতাংশ। ভোটের এই নিম্নমুখী হারকেই উর্ধ্বমুখী করে তুলতে স্থানীয় আবেগ-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে ব্যবহার করতে চাইছে জেলা নির্বাচন দফতর।
এমনিতে উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে ভোটদাতাদের একটা বড়ো অংশ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসার ব্যস্ততাই ভোটদানের হার কম হওয়ার কারণ বলে অনেকের ধারণা। এই অংশটিকে বুথমুখী করা নির্বাচন কমিশনের কাছে নিশ্চিত বড়ো চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই কলকাতার একটি নামকরা নাটকের দলের ১০ জনকে নিয়ে একটি দল তৈরি হয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন ৫ জন ক্যামেরাম্যান ও টেকনিশিয়ান। তথ্যচিত্রগুলির শ্যুটিং-ও শুরু হয়ে গেছে বলেই জেলা নির্বাচন দফতর সূত্রে খবর। এই তথ্যচিত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হবে মহিলা বুথ এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের ওপরেও। এক-এক মিনিটের এই তথ্যচিত্রগুলি জেলা নিরবাচন দফতর প্রচার করবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং তাদের ওয়েবসাইট মারফত। অন্যভাবেও তথ্যচিত্রগুলি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে।
উত্তর কলকাতার আবেগ, সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত বইয়ের নাম-অনুষঙ্গ এবং টেনিদা-সহ চারমূর্তি ভোটের হার বাড়াতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার।
