
এই প্রথম অনলাইন বিপণিতে পাওয়া যেতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকার ১৪টি ভিন্ন সংখ্যা
একটা বই শুধু তথ্য দেয় না, প্রশ্ন করায় এবং চিন্তা করতে শেখায়। কলেজ স্ট্রিট (College street), গোলপার্কের মতো এ শহর জুড়ে রয়েছে বহু পুরোনো বইয়ের ঘাঁটি। বইপোকা হোক বা গবেষক, তাঁদের কাছে তো এইসব ঘাঁটি তীর্থক্ষেত্র। তাঁরা বিচক্ষণ জানেন, “যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন”।
এ পর্যন্ত তো সব ঠিকই ছিল, কিন্তু সময়? জীবন মানে এখন ‘ঘড়ির তাড়া’। কত কম সময়ে কত বেশি কিছু করে ফেলতে পারা যায়। এহেন অবস্থায় ঘুরে ঘুরে পুরোনো বইয়ের সন্ধান করার মতো সাবলীল জীবন খুব কমজনের ভাগ্যেই জোটে। যাদের ভাগ্যে বেরিয়ে পড়ার সময় জোটে না, তারা কেউ কেউ সাগ্রহে, কেউ অনাগ্রহে ‘তীর বেঁধা পাখি’র মতো মেনে নিয়েছেন অদৃষ্টের লিখন ‘ইন্টারনেট’ ব্যবস্থা। ই-বুক, পিডিএফ, অনলাইন বুক রিডিং বা অনলাইন বই বিপণি তাদের ভরসা। বিজ্ঞানের মতোই আশীর্বাদ ও অভিশাপ সবকিছুতেই কমবেশি আছে। আমরা যতই গেল গেল রব তুলি না কেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু ‘অনলাইন’-এর বিকল্প হয় না। যেমন এই প্রথম অনলাইন বিপণি The Bengal Store-এ পাওয়া যাবে বেশ কিছু ঐতিহাসিক দলিল, অমূল্য রত্ন; যার মধ্যে একটি হলো- ‘পশ্চিমবঙ্গ’ (Paschimbanga) পত্রিকা। পাওয়া যাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটির দু'দশক বা তারও আগের মোট ১৪টি ভিন্ন সংখ্যা।
সংখ্যাগুলি দেখে নিন এক নজরে-
রবীন্দ্র সংখ্যা (১৪০১)
প্রাণের পুরুষ রবি ঠাকুরের স্মরণে প্রকাশিত এই সংখ্যায় রয়েছে বিশ্বভারতী রবীন্দ্রভবন, রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি, রবীন্দ্রভারতী প্রদর্শশালা, মার্টিন কেমশ্যেন প্রভৃতি সূত্র থেকে সংগৃহীত আলোকচিত্র, প্রতিকৃত, পাণ্ডুলিপি, রেখাচিত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, সাহিত্য এমনকি ব্যক্তিগত পরিসরের নানা কিছু দিয়েই সেজে উঠেছে এই পত্রিকাটি।

বিদ্যাসাগর সংখ্যা (১৪০১)
বিদ্যাসাগর মহাশয়কে নিয়ে প্রকাশিত এই বিশেষ সংখ্যা হাতে নিয়ে সূচিপত্রে চোখ রাখলেই দেখা যাবে দীনবন্ধু মিত্র, গোপাল হালদার, শিবনাথ শাস্ত্রী, গৌতম রায়, বিমান বসু প্রমুখ বিশিষ্ট জনের কলাম। বিদ্যাসগর নামের যে যুগের সাক্ষী ছিল বাংলা সহ সমগ্র দেশ তারই স্মরণে এই সংখ্যা। উল্লেখ্য, এই সংখ্যার শুরুতেই রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের হাতে লেখা বিদ্যাসাগর মহাশয়ের উদ্যেশে কিছু কথা।
অবনীন্দ্র সংখ্যা (১৪০২)
নন্দলাল বসু, রাজশেখর বসু, বিষ্ণু দে, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন, সৈয়দ মুজতবা আলি -শিল্পসাহিত্য জগতের বিশিষ্টদের কলমে স্মরণ করা হয়েছে অবনীন্দ্রনাথকে। বাংলা শিল্পচর্চা থেকে তাঁর আর্টের ঘরাণা সবকিছুই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পত্রিকার এই সংখ্যায়। পত্রিকার শুরুতেই রয়েছে উপরি পাওনা স্বরূপ স্বয়ং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু চিত্রকলার নিদর্শন।
বঙ্কিম সংখ্যা (১৪০২)
সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক যে যুগে বঙ্কিমের আবির্ভাব এবং বিকাশ, সেকালে স্ববিরোধিতা ও দ্বৈত ব্যক্তিত্ব স্বাভাবিক ছিল। তার মধ্যেও বঙ্কিমের অনন্য উজ্বল অবস্থান ও কর্মকান্ড প্রাজ্ঞজনদের বিস্মিত করেছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত। এই সংখ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, অজিত গুহ, গোপাল হালদার প্রমুখ জনের পাশাপাশি রয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের নিজস্ব কিছু প্রবন্ধ।
রবীন্দ্রসংখ্যা (১৪০৩)
বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের বিকল্প রবীন্দ্রনাথই। তাঁকে স্মরণের যে কোনো অবকাশই তাই কম পড়ে যায়। ১৪০১-এর পর ১৪০৩-এ তাই আবারও প্রকাশিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকার রবীন্দ্র সংখ্যা। নেপাল মজুমদার, পল্লব সেনগুপ্ত, অনিতা মুখোপাধ্যায়, সুধীর চক্রবর্তী ইত্যাদি কলমে সেজে উথেছে এই সংখ্যাটি। আলোচিত হয়েছে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আঙিনায় একাধিক দৃষ্টিকোণ।
নেতাজি সংখ্যা (১৪০৩)
দেশনায়ক সুভাষ চন্দ্র বসুকে স্মরণ করছে পশ্চিমবঙ্গ পত্রিকার এই সংখ্যাটি। একদিকে সুভাষের ছাত্রজীবন থেকে রাজনৈতিক জীবন, অন্যদিকে তাঁর সঙ্গে বিশিষ্ট ব্যক্তির সম্পর্কের বিস্তার সবকিছুকে ঘিরেই সেজে উঠেছে নেতাজি সংখ্যা। উল্লেখ্য, এই সংখ্যার ভূমিকা লিখেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (১৪০৪)
স্বাধীনতার অন্তরালে থাকা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির প্রসঙ্গ ধরেই এই সংখ্যা। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সোনালি স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটেছে আত্ম-বিশ্লেষণ এবং আত্ম-সমালোচনার বুনটে।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যা (১৪০৪)
বাংলা সাহিত্যের জগতে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এক যুগের নাম। তাঁর লেখা যেন ছিল সমকালীন সমাজের দর্পণ। তাঁর নারী চেতনা, প্রকৃতি ভাবনা, রোমান্টিক চেতনা প্রভৃতি নানা দিকের উল্লেখ রয়েছে এই পত্রিকায়। লিখেছেন, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রভাত কুমার দাস, সমরেশ মজুমদার, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, ভূদেব চৌধুরী প্রমুখেরা।

রবীন্দ্র সংখ্যা (১৪০৫)
১৪০৩ এর দুই বছরের মাথায় আবার প্রকাশিত হয় রবীন্দ্র ভাবনার সংখ্যা। রবীন্দ্র সাহিত্যে জাতীয়তাবোধ থেকে নারী চেতনা সবকিছুকে নিয়েই লেখা হয়েছে এই সংখ্যায়। দীপ্তি চক্রবর্তীর কলমে “রবীন্দ্র সাহিত্যে নারী”, কিংবা মানস মজুমদারের কলমে “রবীন্দ্রনাট্যে প্রতিবাদ” এর মতো বিশেষ লেখায় আলোকিত এই বিশেষ সংখ্যা।
উৎপল দত্ত স্মরণ সংখ্যা (১৪০৮)
পত্রিকায় শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে প্রবাদ প্রতিম নাট্যকার উৎপল দত্তকে। এই সংখ্যার বিশেষ আকর্ষণ উৎপল দত্তের নিজস্ব কলাম। এছাড়াও রয়েছে গোলাম কুদ্দুস, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস সেন, অজিত বসু, দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ জনের লেখা।
শৈলজানন্দ জন্মশতবর্ষে বিশেষ সংখ্যা (২০০১)
বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসর জুড়ে ছিলেন সাহিত্যক শৈলজানন্দ। এই বিশেষ সংখ্যা তাঁকে স্মরণ করে কলম ধরেছেন প্রভাতকুমার দাস, সন্তোষ চক্রবর্তী, বাঁধন সেনগুপ্ত, অনির্বাণ রায়চৌধুরী প্রমুখ বিশিষ্টজনেরা। এছাড়াও পত্রিকার প্রথমেই রয়েছে তাঁর স্মরণে প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং আশাপূর্ণা দেবীর কলম।
কবি কৃত্তিবাস স্মরণ সংখ্যা (ফেব্রুয়ারি, ২০০৬)
কৃত্তিবাসী রামায়ণের কাহিনি, প্রেক্ষাপট, লোকজ উপাদান, জীবনবোধ কিংবা রবীন্দ্রচেতনা – সবকিছু ঘিরেই প্রকাশিত হয় এই সংখ্যাটি। সংখ্যায় লিখেছেন, দীপক দে, মোহিত রায়, অজয় দে প্রমুখেরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত এই সংখ্যায় সম্মান জানানো হয়েছে বাংলার প্রবাদপ্রতিম সেই কবিকেই।
শম্ভু মিত্র স্মরণ সংখ্যা
অজিত বসু, অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রভাতকুমার দাস, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদের মতো বিশিষ্ট জনেরা লিখেছেন এই সংখ্যায়। স্মরণ করেছেন বাংলা নাট্য জগতের অন্যতম প্রাণপুরুষ শম্ভু মিত্রকে। এই সংখ্যায় প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী কৃষ্ণ দে।
গান্ধি সংখ্যা
গান্ধিজির প্রয়াণ দিবসকে স্মরণ করে তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় এই বিশেষ গান্ধি সংখ্যাটি। পত্রিকার শুরুতেই রয়েছে চিনা শিল্পীর আঁকা গান্ধিজির অসাধারণ প্রতিকৃতি। সংখ্যায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন একাধিক নামজাদা ব্যক্তিত্ব, যাঁদের মধ্যে অন্যতম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নারায়ণ চৌধুরী, পান্নালাল দাশগুপ্ত, প্রিয়রঞ্জন সেন।
সংখ্যাগুলি সংগ্রহ করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন
