
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে পাঠদান
করোনাকালে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু সবার কাছে স্মার্টফোন কিংবা ইন্টারনেট যোগাযোগ নেই। চা বাগানের দরিদ্র শিশুদের কাছে অনলাইন ক্লাস অলীক স্বপ্ন মাত্র। সেই সব অসহায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালু রাখতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শিলিগুড়ির নন্দী দম্পতি।
অনির্বাণ নন্দী এবং পৌলোমী চাকী নন্দী – দু’জনেই খড়গপুর আইআইটিতে গবেষণার কাজে নিযুক্ত। গত কয়েক বছর ধরে ‘মোবাইল লাইব্রেরি’র মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে বই পৌঁছে দিচ্ছেন। এই লাইব্রেরির বই পড়েই বহু ছেলেমেয়ে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা, এমনকি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছে। আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে অনির্বাণ এবং পৌলোমী অনলাইনে গড়ে তোলেন ডিজিটাল লাইব্রেরি। পাশাপাশি, দুঃস্থ মহিলাদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ, গ্রামের মেয়েদের বিনা পয়সায় ন্যাপকিন বিলি ইত্যাদি নানা উদ্যোগ তাঁরা গ্রহণ করেছেন।
করোনা পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি লাগোয়া মেরিভিউ, গঙ্গারাম এবং কিরণচন্দ্র চা বাগান এলাকার গরিব ছেলেমেয়েদের টিউশন পড়ানো শুরু করেন এই দম্পতি। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে তাঁরা মাসে দশ টাকা করে নিচ্ছেন। রয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও। প্রশিক্ষণের শেষে মিলবে সার্টিফিকেট। পড়ানোর জন্য কয়েকজন স্কুলশিক্ষক এবং গৃহশিক্ষকদের নিয়ে টিম গড়ে তোলা হয়েছে। এখন ১৬টি বাগান এবং ৩০টি গ্রামের দেড় হাজার ছেলেমেয়েকে স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান করছেন তাঁরা। যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে ক্লাস।
