নন্দলাল বসু’র অপ্রকাশিত পোস্টকার্ড

শিল্পী নন্দলালের নিবিড় কথোপকথন উঠে আসে ছবি ও লেখার যৌথতায় পৌস্টকার্ডের পটে

চিঠির যুগ এখন হারিয়ে গিয়েছে। একটা পোস্টকার্ড, খানিক খবরাখবর, পৌঁছ সংবাদ, কুশল সংবাদ ডাক বাক্সে ফেলা বা কারও হাতে পাঠানোর চর্চা এখন আর কোথায়? কিম্বা কোনও বিশেষ দিনে কারও জন্যে বা কারো কথা মনে পড়লে তাঁর জন্য দু-একটা শব্দ লেখার চর্চা এখন হারিয়ে গিয়েছে বললে ভুল বলা হবে না। এখন আমরা কিন্তু খুব বেশি জানিও না রাস্তার কোন কোন মোড়ে লাল ডাক বাক্স রয়েছে। অথচ সেই ডাক ঘরের পোস্ট কার্ডে কত স্মৃতি মধুর কথা ও কাহিনী ধরা থেকেছে দিনের পর দিন। ‘রানার চলেছে তাই ঝুম ঝুম’ এর দিন শেষ এখন। সেই রেশ ধরেই দেখে নেওয়া ছোট্ট ছোট্ট ছবি আঁকা পোস্টকার্ড। ছবির শিল্পী নন্দলাল বসু।

নন্দলাল বসু’র অপ্রকাশিত পোস্টকার্ড দেখতে

এ সব ছবি দেখলে বোঝা যায় যে, একটি নিবিড় কথোপকথন যেন উঠে আসে ছবি ও লেখার যৌথতায় পোস্টকার্ডের পটে। মেয়ে যমুনা সেন, নাতি নিমাই ও জামাই সেবক অথবা আরেক কন্যা গৌরী ভঞ্জ, নাতি এবং আরও অনেককে কত পোস্টকার্ডে চিঠি পাঠিয়েছিলেন নন্দলাল, তার তালিকা করতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে। কোথাও বেড়াতে গিয়ে দেখেছেন বিয়ের উৎসবে সাঁত্ততালদের কাঠের ঘোড়ার নাচ, সঙ্গে সঙ্গে তার নিখুঁত স্কেচ করে নাতিকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। গোপালপুরে সামুদ্রিক কাঁকড়ার গায়ের রং দেখে মোহিত হয়েছেন। সেই  আনন্দ ধরে রেখেছেন পোস্টকার্ডের ছবিতে। সঙ্গে ছোট নোট আর তাতে কাঁকড়ার গায়ের রঙের ইনফরমেশন। বাজারে গিয়ে চোখে পড়েছে ন্যাদোস মাছ। নাদুস নুদুস সেই মাছটিকে এঁকে পাঠিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যকে। সঙ্গে থেকেছে কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা, নিজের শরীর বিষয়ক খবর। এই ভাবেই নন্দলালের নিবিড় কালি-কলমে তৈরি হয়েছিল পোস্টকার্ড চিত্র। পরে এই ধারা নন্দলালের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ছবি সৌজন্য – আকার প্রকার
ছবি সংগ্রহ – নিমাই সেন
(নন্দলাল বসু'র কন্যা যমুনা সেনের পুত্র)

Developed by DXDasia