মেরিকামায়া সাতকাহন : আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু… আর আছে ভয়ঙ্কর অন্ধকার

ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা-জীবন এবং স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন – পর্ব ৫১

সেই সময়ে অলব্যানির হাইওয়ে দেখেই অবাক হয়েছিলাম। কার্বনডেল নামক পাড়াগাঁ থেকে এসে।

পঞ্চাশৎ পর্বের পর

মেরিকা সম্পর্কে যত গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি লেখা হয়েছে, তার বেশ কিছু আমি পড়েছি। সেই এপার বাংলা ওপার বাংলা দিয়ে শুরু হয়েছিল। ইস্কুল পালিয়ে টাইগার সিনেমায় ব্লো হট ব্লো কোল্ড দেখতে গিয়েছিলাম। নিউ এম্পায়ারে সুপারম্যান দেখে বেরিয়ে নিজেকেই সুপারম্যান মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আমিই বোধহয় ওরকম করে আকাশছোঁয়া লাফ দিয়ে আকাশে সাঁতার কেটে পাড়ি দিতে পারি – ওরকম একটা হাত সামনের দিকে মুঠো করে ধরে।

আসলে, প্রায় সব লেখাই বলতে গেলে ফাঁকা আওয়াজ। ওই হলিউড সিনেমার মতোই। ট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে ই টি থেকে জুরাসিক পার্ক থেকে হোম অ্যালোন – নিরবচ্ছিন্ন মগজধোলাই আর মিথ্যা। বাস্তব জীবনের সঙ্গে মার্কিন সিনেমার কোনো সম্পর্কই নেই। আমাদের বিখ্যাত লেখক লেখিকাদের ঐসব রম্যরচনাও ঠিক তেমনি।

কেউ জানেও না, আর তাই কেউ চ্যালেঞ্জও করে না।

যাঁরা লিখেছেন, তাঁরা আমেরিকায় কখনো দীর্ঘকাল থাকেননি, এবং ওই কয়েকদিন থেকেই বড়ো বড়ো নামকরা পত্রপত্রিকার সৌজন্যে বড়ো বড়ো কথা লিখে দিয়েছেন আমেরিকা সম্বন্ধে। সেসব হটকেক লেখা পড়েই সাধারণ শিক্ষিত বাঙালি, ভারতীয় আমেরিকা সম্পর্কে ধারণা করে নিয়েছেন। আমরাও যেমন শংকর, সুনীল, সমরেশ পড়ে স্বপ্ন দেখতাম।

আর দীর্ঘ রচনা যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের পা ওই যে আগের অধ্যায়ে যেমন বলেছিলাম, লেক্সাস মার্সিডিজ ক্যাডিলাকের ভেতর থেকে আমেরিকার ধুলোমাখা রাস্তা কখনো স্পর্শ করেনি। তাঁরা আমেরিকাকে দেখেছেন প্রাসাদ থেকে। সে লেখার মধ্যে আমেরিকার গুণকীর্তন আছে, আর নিজের কথায় নিজের ঢাক পেটানো আছে।

নিউ ইয়র্ক শহরে পিপলস ক্লাইমেট মার্চ

আমার লেখায় আছে অন্য আমেরিকার কথা। দুঃখের কথা, মৃত্যুর কথা, দারিদ্র্যের কথা, রোগ শোক অবহেলা অবিচার অত্যাচার কান্না বিষাদ অবসাদ আত্মহত্যা বঞ্চনার কথা। আহত মানুষগুলোর হৃদয় থেকে রক্ত ঝরে ঝরে পড়ার কথা। আর কেউ কখনো সেসব কথা লেখেননি, আমিই প্রথম লিখছি, তেমন অহঙ্কার ঔদ্ধত্য আমার নেই। তবে, তার সংখ্যা হয়তো একশোর মধ্যে এক বা দুই। আমি হলাম তিন কি চার।

আমি দেখেছি অধ্যাপক নিমাই মুখোপাধ্যায়ের ব্রেন ক্যানসারে মৃত্যুর কথা। তখন আমি অলব্যানি ছেড়ে নিউ ইয়র্ক শহরে চলে এসেছি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্ৰী করার জন্যে। স্ত্রী ও মেয়ে এক বছর থাকবে অলব্যানিতে একা, অর্থাৎ ওরা দু’জন – মা ও শিশুকন্যা। মাঝে মাঝে ওরা আসে আমার সঙ্গে দেখা করতে কোনো ছুটির দিন। গ্রেহাউন্ড বাস ধরে অলব্যানি থেকে মিডটাউনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে আসে। সেখান থেকে সাবওয়ে অর্থাৎ মেট্রো ধরে চলে আসে কলাম্বিয়া ক্যাম্পাসে। দুটো দিন আমার সঙ্গে কাটিয়ে আবার ফিরে যায়।

এসআইইউ’তে পিএইচডি কনভোকেশন। রাজপোষাকে আমি।

কলাম্বিয়াতে ভূতের খাটুনি খেটে মাস্টার্স ডিগ্ৰী নামিয়ে দিলাম। তিনশো পঞ্চাশ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তিনশো পঁয়তাল্লিশ জন আমার অর্ধেক বয়স। তাদের মধ্যেই কয়েকটা ভালো ভালো উদারমনা বন্ধু ও বান্ধবী খুঁজে বের করলাম। চাইনীজ-আমেরিকান মাইকেল ইয়েহ, যার সঙ্গে এখনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে গেছে। সে এখন ডাক্তারি পাশ করে মেডিকেল ডক্টর। গরীব রোগীদের জন্যে, ড্রাগ অ্যাডিক্ট অসহায় রোগীদের জন্যে কাজ করে। লিডিয়া পোলগ্রীন এখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সম্পাদক। জ্যোতি থটাম – তা র সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ওই কলাম্বিয়াতেই। সে পড়তো স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টে। মিত্রা কালিতা, পরে সে সিএনএন’এ দীর্ঘদিন কাজ করেছে। 

আর খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল শ্বেতাঙ্গিনী ও কৃষ্ণাঙ্গিনী দু’চারজন সুন্দরী যুবতীর সঙ্গে। ঠিক যেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়েছিল সেই ভার্মন্টের সংযুক্তার সঙ্গে। লোরি, প্যাট এদের সঙ্গে।

চুপিচুপি বলে রাখি, তাদের একজন একদিন আমাকে বললো, “লাইক, পার্থা, ডিডন্ট নো ইউ ওয়্যার ম্যারেড। লাইক, ইফ ইউ ওয়্যারন্ট।” … বলে অর্থবহ একটু হাসলো।

প্যালেস্টাইনের গরিব মানুষের ওপর ইজরায়েলের সাঁড়াশি নিষ্পেষণ নিজের চোখে দেখে এসেছি। আবার ভগবান যীশুখৃষ্টের নামাঙ্কিত বেথলেহেম, পবিত্র জর্ডান নদী, ডেড সী, তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পবিত্র স্থান, জন্মস্থান সব দেখে এসেছি।

আমিও হাসলাম। বৌ শুনলে হাসবে না। হাহা। আমরা দল বেঁধে একটা বিগ স্কলারশিপ পেয়ে ইজরায়েল, জর্ডান আর প্যালেস্টাইনে রিলিজিয়ন অফ দ্য মিডল-ঈস্টের রিপোর্টিং করতে এবং দেশগুলোকে ঘুরে ঘুরে দেখতে গিয়েছিলাম দশ দিনের জন্যে। প্যালেস্টাইনের গরিব মানুষের ওপর ইজরায়েলের সাঁড়াশি নিষ্পেষণ নিজের চোখে দেখে এসেছি। আবার ভগবান যীশুখৃষ্টের নামাঙ্কিত বেথলেহেম, পবিত্র জর্ডান নদী, ডেড সী, তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পবিত্র স্থান, জন্মস্থান সব দেখে এসেছি। পোপ দ্বিতীয় জন পলকে দেখলাম জর্ডানে। আর দেখলাম জর্ডানের রাজা আব্দুল্লাহকে।  

পবিত্র জর্ডান নদী

গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছে।

কাঁটা দিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা আমেরিকায় আরো বেশ কয়েকবার হয়েছে। কলাম্বিয়াতে তখন আমার চল্লিশ পার। কিন্তু লাল্টু লাল্টু দেখতে ছিল তখনো। সুন্দরী, সিঙ্গল মার্কিন যুবতীরা … ইয়ে …

কলাম্বিয়াতে পড়ার সময়ে মৃত্যু খুব কাছে এসে হৃদয়ের একেবারে ভেতরে ভীষণ রক্তপাত করে দিয়ে গেলো।

প্রথম সিমেস্টার। আমি রেডিও সাংবাদিকতার একটা ক্লাস নিয়েছি। সকালবেলা বেরোবো ক্লাস করতে, অলব্যানি থেকে মুক্তির ফোন।

ফোনের ওদিকে ওর কান্নার আওয়াজ।

“কী হলো, কী হয়েছে?” ও কখনো কাঁদে না। সেই আমি দেশ ছেড়ে চলে আসার সময়ে ওকে কাঁদতে দেখেছিলাম একবার।

“তুমি ঠিক আছো তো?”

“হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি ভালো আছি। কী, কী হয়েছে?”

“দেশ থেকে একটা খুব খারাপ খবর এসেছে।”

কয়েক লহমার মধ্যে অনেক কিছু ভেবে নিলাম। বয়স্ক তো অনেকেই আছেন। মুক্তির বাবা, মা, আমার বাবা, আরো কতজন রয়েছে ওখানে।

খবরটা যেটা এলো ফোনের ওদিক থেকে, আর তার সঙ্গে মুক্তির ভেঙে পড়া কান্নার আওয়াজ, সেটার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। কেউ থাকে না।

“সুব্রত মারা গেছে।” আমার শৈশবের বন্ধু সুব্রত ঘোষ, যার সঙ্গে আমার পাঁচ বছর বয়স থেকে গভীর বন্ধুত্ব।

সুব্রত অবসাদগ্রস্ত ছিল। উজ্জ্বল, বুদ্ধিদীপ্ত, হাসির, হৈহৈ ঝড় সুব্রত। সে ছিল অবসাদ রোগে আক্রান্ত। তার কোনো চিকিৎসা হয়নি।

সুব্রত বরানগর এলাকার লোকাল ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল এক সকালবেলা।

সেদিন রেডিও ক্লাস করতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিল খুব কাছের বান্ধবী ও সহপাঠিনী অ্যালেক্সান্ড্রা। ওকে বললাম।

“আজকেও তুমি ক্লাস করতে বেরিয়েছো?”

“বেরোলাম, কারণ না বেরোলে পাগল হয়ে যাবো বোধহয়।”

সেদিন রেডিও রিপোর্টিং করার যন্ত্রপাতি নিয়ে আমরা দুজনের টিম গিয়েছিলাম নিউ ইয়র্কের ফ্যামিলি কোর্টে রিপোর্টিং শিখতে।

অলব্যানি থেকে খবর এলো, নিমাইদা দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত। আসলে, আমি ওখানে থাকতে থাকতেই নিমাইদার ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছিল। দুটো বছর ধরে দুটো বড়ো বড়ো অপারেশন। এখন শেষ অবস্থা।

খবর পেয়ে দেখে করতে গেলাম।

সেই নিমাইদা। আমার পাশে যিনি সবসময়ে ছিলেন। যিনি আমার পূর্বপুরুষের হুগলি জেলার দশঘরা এলাকারই বাসিন্দা। যিনি আমাকে বলেছিলেন দশঘরার পাশের গ্রাম বিদ্যেৎপুরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাবেন এক ছুটিতে। আমি অনেক আশা করে ছিলাম।

 অধ্যাপক নিমাই মুখোপাধ্যায়। সেই তাঁর শেষ দুর্গাপুজো করা। তিনি জানতেন আর বেশিদিন বাঁচবেন না।

সেই নিমাইদা, যিনি আমাদের সঙ্গে হাসির নাটক করেছিলেন কোনো একটা নববর্ষের প্রোগ্রামে – সেই আর পি আই’এর ওয়েস্ট হলে। প্রচণ্ড ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে নাটকের পার্ট মুখস্থ করতেন কনফারেন্স যাবার সময়ে প্লেনে বসে। যিনি আমার রবীন্দ্রসঙ্গীতের একজন প্রধান অনুরাগী ছিলেন। যাঁর কাছে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে অনেক অজানা কথা আমি শিখেছি।

নিমাইদার মুখের বাঁ দিকটা পক্ষাঘাত হয়ে গেছে। একটা চোখে আর দৃষ্টি নেই। তাও আমাকে দেখে হাসলেন। বললেন, “কেমন আছো, পার্থ?”

আমার খুব বলার ইচ্ছে হলো, “নিমাইদা, আমি কি আপনাকে একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনাবো?” কিন্তু কেমন যেন খুব অহঙ্কার দেখাবে এই শেষ সময়ে, তাই আর বলা হলো না।

আমি নিউ ইয়র্কে ফিরে এলাম। কয়েক সপ্তাহ পরে খবর পেলাম, নিমাইদা চলে গেছেন। সুহাসিনী বৌদি জানালেন, শেষ হয়ে যাবার পরেও আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব একটা মায়াদয়া দেখায়নি। শুনেছিলাম, নিমাইদার মৃতদেহ একটা বডি ব্যাগে ভরে শেষবারের মতো বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

হিন্দুধর্মের আজন্ম অনুসারী, এবং মন্দিরের সহকারী পুরোহিত অধ্যাপক ডঃ নিমাই মুখোপাধ্যায়ের শেষটা এই শ্রেষ্ঠ দেশে হলো এইভাবে।

অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।

অলব্যানিতে থাকার সময়ে পরিচয় হলো আমেরিকার আর এক দিক সম্পর্কে।

স্যারা বলে একটি বালিকা আমাদের বাড়ির খুব কাছ থেকেই কিডন্যাপ হয়ে গেলো। আমার মেয়ে বা তার নতুন বান্ধবী কেটি, অথবা আমাদের ল্যাথাম ভিলেজের ফেলিশা, তার বোন এরিকা, অথবা ইন্দোনেশিয়ার মেয়ে শীলা, শেরিজার বয়েসের একটু এদিক ওদিক।

 অ্যালবানিতে মেয়ের নতুন বন্ধু কেটি গোল্ডস্টেন

স্যারাকে কে বা কারা যেন একটা ভ্যানে তুলে নিয়ে চলে গেছে। যথারীতি মিডিয়া তোলপাড়। কিন্তু মেয়েটাকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না।

আরো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটলো তারপর।

আমাদের ল্যাথাম ভিলেজে আমাদের ফ্ল্যাটের ঠিক পাশের ফ্ল্যাটের দোতলায় রবিন নামক এক প্রৌঢ় এবং তার সঙ্গিনী ন্যান্সি – তাঁদের একদিন একঝাঁক পুলিশের ভ্যান এসে হাতে হাতকড়া দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেলো। পরের দিন অলব্যানি টাইমস ইউনিয়ন কাগজের প্রথম পাতায় খবর পড়লাম।

ল্যাথাম ভিলেজ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। তখন এই বারান্দাগুলো ছিলো না।

তাদের একটা গোপন কাল্ট ছিল। একা একা ঘুরে বেড়ানো, বাবা অথবা মা-পরিত্যক্ত শ্বেতাঙ্গিনী কিশোরী মেয়েদের তারা নানা লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসতো নিজের ফ্ল্যাটে। তারপর তাদের অং বং চং মন্ত্র পড়ে, আর খৃস্টান ধর্মের নাম করে ব্ল্যাক ম্যাজিক করতো তাদের নিয়ে। তারপর তাদের “বিয়ে” করতো, এবং যৌন নির্যাতন চালাতো। এইভাবে বহুদিন চলেছে।

আমাদের ঠিক পাশের ফ্ল্যাটে। রোজ দেখতাম দম্পতিকে। হাসিমুখে কথাও বলেছে কয়েকবার আমাদের সঙ্গে।

আমার মেয়ে এবং আমরা দুজন এবারে ঠিক করলাম, এই ল্যাথাম ভিলেজে আর নয়।

গ্লেনমন্ট বলে একটা উচ্চবিত্ত পাড়ায় নতুন ভাড়াবাড়িতে উঠে চলে গেলাম আমরা। তখন সাতানব্বই।

সেখানে নাকি স্কুল সিস্টেম অনেক ভালো।

(চলবে)

*আমেরিকা-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রখ্যাত মানবধিকার কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলামে চলছে ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’।
ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছে শুধুমাত্র বঙ্গদর্শন-এ।
‘মেরিকামায়া সাতকাহন’-এর সমস্ত পর্ব পড়তে
এখানে ক্লিক করুন

Developed by DXDasia