মেরিকামায়া সাতকাহন : আমেরিকার খ্রিস্টান ও তাদের হাজার গির্জার কথা বলতেই হবে

ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা-জীবন এবং স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন – পর্ব ১৮

আমেরিকার ওয়াল স্ট্রীটের ‘ট্রিনিটি’ গির্জা

সপ্তদশ পর্বের পর

মেরিকার গল্প বলতে গেলে এদেশের খ্রিস্টান ও তাদের হাজার গির্জার কথা বলতেই হবে। গির্জা মানে চার্চ।

অবশ্য এখন গির্জা কথাটা আরো অসংখ্য কথার মতোই প্রায় অবলুপ্ত হয়ে গেছে। গ্রামের দিকে হয়তো বলা হয় এখনো। কিন্তু কলকাতা শহরে বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে বা তার পরে যারা জন্মেছে, তারা কেউ গির্জা শব্দটার অর্থ জানে বলেই আমার মনে হয়না। ঠিক যেমন বন্ধু বা বান্ধবী শব্দের জায়গায় এখন ফ্রেন্ড কথাটারই চল বেশি। বাংলাদেশের বাঙালিদের মধ্যে আমি সবসময়ে ফ্রেন্ড কথাটা শুনি। অথবা, বলে দোস্তো।

‘ট্রিনিটি’ গির্জার অভ্যন্তর

এমনিতে ভালোই লাগে শুনতে। তবে, বন্ধু বলে আর কেউ কারুকে ডাকবে না – ভাবলেই কেমন যেন খুব দুঃখ হয়। “পরানসখা বন্ধু হে আমার” না বলে ঝড়ের রাতে দোস্তোর কাছে অভিসার করতে যাওয়া? নাঃ, এ জীবনে তা আর হলো না।

কলকাতার শহুরে বাঙালিরা বলে ব্রেকফাস্ট। জলখাবার বা জলযোগ বললে বেশ কয়েকটা মাথা হঠাৎ আপনার দিকে ঘুরে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে। ব্রেকফাস্টও খুব পোশাকি কথা। তার চেয়ে স্ন্যাক্স বললে “ওকে” হবেন। “কূল” হবেন। শ্যামও রাখবেন, কূলও। পূর্ব বাংলায় বলে নাস্তা। খাস্তা, নাস্তা, দোস্তো, আর কেমন আছেন না-বলে এখন শুনি “কী অবস্তা?” বাংলা ভাষার অবস্থা এখন “সস্তার সেস”।

ভাষাতত্ত্ব এখনকার মতো স্থগিত রেখে জীবনের গল্প বলে যাই – যেমন দেখেছি, তেমন।

সেই পঁচাশি থেকে সাতাশি – ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে একটু একটু করে গড়ে ওঠা আমেরিকার নতুন জীবনে নতুন বন্ধু ও বান্ধবী – মানে ফ্রেন্ড – যারা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ড্রাইভিং টীচার কৃষ্ণাঙ্গিনী লিসা হ্যারিসের মতো, ছাত্রীসমা বান্ধবী ডায়ান যে দুই ক্লাসের মধ্যে একঘণ্টা গ্যাপ পেলেই আমাদের হ্যারিসনের বাড়ির রান্নাঘরে বসে এক কাপ চা খেয়ে যেতো, কিংবা “কিংকো কপি” নামক জেরক্সের চেন দোকানকে চোখ টিপে “কিংকি কপি” বলার এবং নিজের বাড়ির পিছনে কেবলমাত্র আংটি বদল করে বিয়ে করার গর্ডন যেমন ছিল, যারা চার্চ নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাতো না, সেরকম আবার ছিল দুই ছাত্রী লিসা স্মিড, আয়েন ভ্যান্ডেনব্রুক, অথবা কার্ডিনাল কোর্টের প্রতিবেশী দম্পতি শ্বেতাঙ্গ জোনাথন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বংশোদ্ভূত মীনা।

আবার ভারতীয় কমিউনিটিতেও দু চারজন খ্রিস্টান ছিল, যাদের সঙ্গে কোনো বন্ধুত্বই কখনো গড়ে ওঠেনি। মার্কিনি মৌলবাদী খ্রিস্টানদের খুব কাছ থেকে দেখেছি – সেই নরম্যাল-ব্লুমিংটনের দারিদ্র্যপীড়িত জীবন থেকে কার্বনডেলের পিএইচডি স্কলার ছাত্রজীবন থেকে কুয়াশা ও বরফে ঢাকা অলব্যানির শুরু-করা ইমিগ্রেন্ট থেকে আজকের এই নিউ ইয়র্ক শহরের স্বচ্ছল, সয়ে যাওয়া নাগরিক জীবন পর্যন্ত। কখনোই এই অতি-রক্ষণশীল শ্রেণীকে ভালোবাসতে পারিনি। ঠিক যেমন কথায় কথায় কোরানের উদ্ধৃতি দেওয়া মৌলবাদী মুসলমানদের, গোঁড়া প্রাগৈতিহাসিক লাইফস্টাইলের ইহুদিদের, এবং ভারতে ও আমেরিকায় বসবাস করা ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদীদের কোনোদিন ভালোবাসতে পারিনি।

এদের নিয়ে অনেক প্রবন্ধ আর ফেসবুক-হোয়াটস্যাপ-ব্লগ লেখা লিখেছি। কিন্তু সেসব লেখা হলো বেশির ভাগ… ওই যে, যা লেখা এখানে বারণ। মেরিকামায়ার সাতকাহনে এদের কথা মাঝে মাঝে আসবে। কিন্তু এখানে আসবে জীবনের গল্প হিসেবে। নির্জলা সাতকাহন।

এদের কাছে ধর্মভীরুতা নয়, ধর্ম-আচ্ছন্ন জীবন শুধু দেখেছি। আধুনিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষ কীভাবে বিজ্ঞানবিরোধী জীবন কাটাতে পারে, তার নমুনা দেখেছি। আজকে এই “পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দেশ” আমেরিকায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ করোনা অতিমারীতে মৃত। এ এক অবিশ্বাস্য মহাবিপর্যয়। এই ক্যালামিটির এক প্রধান কারণ হলো এক বিশাল সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনির এবং তার সাথে সাথে আমেরিকায় বসবাস করা আরো হাজার জাতির মধ্যে চরম বিজ্ঞানবিরোধিতা, আধুনিক জীবনপদ্ধতির প্রতি ঘৃণা, এবং অতি দক্ষিণপন্থী মিডিয়া ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধবিশ্বাস। খ্রিস্টান, জু, মুসলমান, হিন্দু, অথবা অন্য যে কোনো ধর্মের। করোনা ক্রাইসিস হয়তো আজকের মতো কেটে গেলো, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শোচনীয় সামাজিক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা সারা পৃথিবীর কাছে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গেছে। মিডিয়া যতই চেষ্টা করুক না কেন সেসব সত্যকে ধামাচাপা দেবার।

আমেরিকান ফর্ক প্রেসবিটারিয়ান গির্জা

মৌলবাদী ধর্মান্ধতা এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি স্তরে বিজ্ঞানবিরোধিতা – এই দুইএর সাঁড়াশি আক্রমণ আজ আমেরিকায় দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর জন্যে দায়ী।

ঠিক হিন্দু, মুসলমান, ইহুদি, বৌদ্ধ অথবা কমিউনিস্ট-ক্যাপিটালিস্ট ধর্মমতের অধিকাংশ মানুষের মতোই খ্রিস্টানদের অধিকাংশ মানুষই মডারেট – মধ্যপন্থী। অনেকটা আমার মতোই। হিন্দু হয়ে জন্মেছি, শৈশব থেকে রামায়ণ মহাভারতের গল্প দিদিমা কিংবা মামা মাসির কাছে শুনে বড়ো হয়েছি, দুর্গাপুজোতে নতুন জামা আর নতুন জুতো পরে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঠাকুর দেখেছি, বন্ধুদের নিয়ে সরস্বতী পুজো করেছি শীতকালে, আর অঙ্ক বইয়ের ভেতরে বিদ্যাস্থানে ভয়ে বচঃ এড়াতে দেবী সরস্বতীর গাঁদা ফুল ঢুকিয়ে রেখেছি ইস্কুলের শেষ পরীক্ষার ঠিক আগে। আমেরিকায় এসে পঁচাশি এবং ছিয়াশি – এই দুবছর দুর্গাপুজো দেখতে পাইনি, এবং ও হ্যাঁ, সে গল্পটাও বলতেই হবে ঠিক সময়ে। কিন্তু, এই আমার হিন্দুধর্ম। ওই হিন্দুত্ববাদী মোল্লাদের আরএসএস থেকে বেরিয়ে এসেছি বহুকাল আগে। সেসব কথা তো অনেকেই জানেন। বেঁচে গেছি ঠিক সময়ে বেরিয়ে এসে।

ধর্মান্ধতা, ঘৃণা, মৌলবাদ – আমার জন্যে নয়।

আমেরিকায় বা ভারতে-বাংলাদেশে মৌলবাদী হিন্দু, মুসলমান বা খ্রিস্টানরা যতই নতুন হুঙ্কার দিক না কেন, এখনও মডারেটদের সংখ্যা হুংকারবাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি। কলেজ জীবন থেকে বান্ধবী আশালতার বাড়িতে বড়দিনের কেক খেতে গিয়েও তা দেখেছি। আর স্কটিশ চার্চ ইস্কুলে এগারো বছর পড়েও খ্রিস্টান শিক্ষক, শিক্ষিকাদের মধ্যে কোনো ধর্মান্ধতা বা গোঁড়ামি দেখিনি। কে যে খ্রিস্টান, আর কে যে হিন্দু – বুঝতেই পারতাম না কখনো।

আমেরিকাও ঠিক সেইরকমই দেখেছি চিরকাল। সেই প্রথম দিনগুলোর জীবনে লিসা স্মিড আর ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী আয়েন ভ্যান্ডেনব্রুক কেবলমাত্র বন্ধু বলেই আমাকে সঙ্গে করে তাদের চার্চে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো। অতি-নিঃসঙ্গ ঊনিশশো পঁচাশির শেষে আর তবুও-নিঃসঙ্গ ছিয়াশির প্রথম কয়েকটা মাস অন্ধকার ঘরে বসে আরশোলা আর ইঁদুরের জীবন থেকে টেনে বের করে এনে যে নতুন ছেলেমেয়েগুলো আলোর ঠিকানা দিয়েছে, তার মধ্যে এই দুই শ্বেতাঙ্গিনীর নাম করতেই হবে।

নিউ ইয়র্ক শহরের সবথেকে পুরোনো ক্যাথলিক গির্জা ‘ওল্ড সেন্ট প্যাট্রিক’স ক্যাথিড্রাল’-এর অভ্যন্তর

আয়েন নামের উচ্চারণ ঠিকমতো চেষ্টা করলে এটাই হবে। একটা চোখ অন্ধ মেয়েটা কাজ করতো আই এস ইউ’এর ছোট্ট প্ল্যানেটেরিয়ামে। তারামণ্ডলের অধিকর্তা ছিলেন ফিজিক্সের এক অধ্যাপক। বায়োলজি ক্লাসের ল্যাবে আমার পড়ানো দেখে বোধহয় উজ্জ্বল মেয়েটা আমার দিকে আকৃষ্ট হয়। তখন আমি একেবারে সবে প্রথম আমেরিকায় এসেছি। ভালো করে ইংরিজি বলতে পারি না মোটেই। কিন্তু সেই অদ্ভুত ইংরেজিতেই মাইটোসিস আর মায়োসিস আর তাদের নানারকম দশা বোর্ডে এঁকে দেখিয়ে দিতে পারতাম আসল প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস শুরু করার আগে। আয়েন নিজে থেকে এসেই আলাপ করেছিল। বলেছিলো, “আমার নাম আয়েন। এ ওয়াই ই এন।” বলে একটু হেসে বলেছিলো, “তুমি আমাকে এ্যান বলে ডাকছিলে। বাট ইটস রিয়েলি আয়েন।”

আইএসইউ গির্জা

নিয়ে গিয়েছিলো ওদের চার্চে। কতরকম যে চার্চ আছে এদেশে, আর তাদের কতরকম শাখাপ্রশাখা! দেশে আমরা অনেক কষ্টে কেবলমাত্র জেনেছি প্রোটেস্ট্যান্ট আর রোমান ক্যাথলিক। জেনেছি ইতিহাস বইয়ের সিলেবাস মুখস্থ করতে গিয়ে। এদেশে এসে একটু একটু করে পরিচয় হলো প্রেসবিটারিয়ান, মেথডিস্ট, ইউনিটারিয়ান, লুথেরান, ব্যাপটিস্ট, এ্যাঙ্গলিকান, আরো কত নামের সঙ্গে। পৃথিবীর ইতিহাস ও ঔপনিবেশিকতার ইতিহাস জানতে গেলে ধর্মের ইতিহাস জানতেই হবে। আমেরিকায় এসে খৃষ্টধর্ম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো অনেক।

জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান মেয়ে লিসা স্মিড – আয়েনের মতোই আমার বায়োলজি ক্লাসে আলাপ। বায়োলজি ক্লাস থেকে সোজা বাইবেল ক্লাস। ওদের চার্চের সানডে বাইবেল স্কুলে আমাকে নিয়ে গেলো একদিন। গির্জায় প্রার্থনা, রুটির টুকরো আর ঠোঁটের একটা ক্ষুদ্র ছোঁয়ার ওয়াইন – ভগবান যীশুর দেহ ও রক্তের প্রতীক, যার কথা আমাদের সেই ‘ছুটিস চার্চ’ ইস্কুলের বাইবেল ক্লাসেই শুনেছি। তারপর চার্চের নীচের তলার হলঘরে স্যান্ডউইচ এবং অরেঞ্জ জুস। লাঞ্চের পরে একঘণ্টা রবিবারের বাইবেল ক্লাস। গির্জার ফাদার হাসিমুখ মধ্যবয়েসী ভদ্রলোক। ভারতীয় ছাত্র নিজের ইচ্ছেতে সানডে স্কুলে এসেছে – এতেই তাঁর আনন্দের শেষ নেই।

কলকাতার স্কটিশ চার্চ স্কুলে খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন

“গাড ব্লেশিউ মাই ফ্রেন্ড। উজিউ হ্যাভ লাঞ্চ উইথ আস?”

লিসা বললো, “কেমন লাগলো, পার্থা?”

আমি বললাম, “ভালোই লাগলো। তবে, ধর্ম টর্ম নিয়ে আমি ঠিক বেশি…” তারপর রবীন্দ্রনাথ নিয়ে জ্ঞান দিলাম ওকে একটু।

লিসা আর কখনো আমাকে চার্চে যাবার জন্যে অনুরোধ করেনি। বন্ধুত্ব অবশ্য ওর সঙ্গে আই এস ইউ জীবনের শেষদিন পর্যন্তই থেকে গেছে। তারপর আমি চলে গেলাম অনেক দক্ষিণে সাদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করতে। আর কখনো দেখা হয়নি।

আমার ফ্যামিলি, কলকাতা শহর, ইন্ডিয়া – অনেককিছু নিয়েই জানতে চেয়েছে লিসা। উষ্ণ বন্ধুত্ব দিয়েছে। লিসার বয়ফ্রেণ্ড ডেভ। ওর সঙ্গেই পড়তে এসেছিলো উত্তর ইলিনয়ের ছোট্ট গ্রাম গ্রাম শহর অ্যালিডো থেকে। লিসা চাইল্ডহুড এডুকেশনে বি এ ডিগ্রীতে। আর বয়ফ্রেণ্ড ডেভ কুস্তিগীর। আমেরিকার হার্টল্যাণ্ডের অতি পরিচিত ছবি। কলেজ পাশ করার পরে লিসা ফিরে যাবে হোমটাউন অ্যালিডোতে। সেখানে বাচ্চাদের স্কুলে টীচার হয়ে জীবন কাটাবে। ডেভ হয়তো ওখানেই চাকরি পাবে রেসলিং ইন্সট্রাক্টর বা স্পোর্টস অফিসারের।

ওদের বিয়ে হবে, দুটো একটা বাচ্চা। তারপর ওরা হয়তো কোনো একদিন একসঙ্গে ইতালি আর জার্মানি বেড়াতে যাবে। কিংবা আমেরিকার ভেতরেই গ্র্যাণ্ড ক্যানিয়ন।

ঠিক যেমন আয়েন ভ্যান্ডেনব্রুক ওর বাবার বংশের উৎস খুঁজতে একদিন ডাচ নেদারল্যান্ডে যাবে – তিন সপ্তাহের জন্যে। একাই চলে যাবে হয়তো।

(চলবে)

*আমেরিকা-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রখ্যাত মানবধিকার কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলামে চলছে ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’।

ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছে শুধুমাত্র বঙ্গদর্শন-এ।

‘মেরিকামায়া সাতকাহন’-এর সমস্ত পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

 

Developed by DXDasia