স্বয়ং মান্না দে-র সামনে বসে গান শোনানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিল পিন্টু গোস্বামীর
এই বাংলার সঙ্গীত জগতের বহু অমর প্রতিভার মধ্যে একজন মান্না দে। আসছে পয়লা মে প্রয়াত এই প্রতিভাবান শিল্পীর জন্মদিন। তার জন্মদিন পালনের জন্য বিভিন্ন ভক্তের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কিন্তু শিলিগুড়ি শহরের সঙ্গীত শিল্পী পিন্টু গোস্বামীর কাছে প্রতিদিনই মান্না দের জন্মদিন।
২০১৬ সালে এক পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন শিলিগুড়ির মান্না দে কণ্ঠী হিসাবে খ্যাতি লাভ করা সঙ্গীত শিল্পী পিন্টু গোস্বামী। পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংহতি মোড়ের কাছে তাঁর বাড়ি। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তার শরীরের ডান দিকের একটা অংশ অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। শরীরের ডান দিকের একটা অংশ বেশ দুর্বল। বয়স মাত্র ৫৩। অথচ এখনও হাঁটাচলা করতে একটু সমস্যা হয়। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁর প্রিয় গায়ক মান্না দে-কে ভোলেননি। কখনও গানে, কখনও ছবি আঁকায় স্মরণ করে চলেছেন প্রিয় শিল্পীকে।

মান্না দে যখন বেঁচে ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে চারবার সাক্ষাতও করেছিলেন পিন্টু। মান্না দে-র গান তিনি মান্না দে-র সামনেই তিনি গেয়ে শোনান ১৯৮৩ সালে, রায়গঞ্জে। সেবার মান্না দে রায়গঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। এরপর ২০০০ সালের আগে একবার এবং ২০০০ সালে শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠান করতে এলে তিনি আবার মান্না দে-র সঙ্গে সাক্ষাৎ পান। ২০০৮ সালের ১৮ মে শেষবার সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁদের। পিন্টু নিজের হাতে আঁকা মান্না দে-র ছবি উপহার দিয়েছিলেন স্বয়ং মান্না দে-কেই।
বিভিন্ন সংস্থা থেকে পিন্টুবাবু সংবর্ধনা পেয়েছেন মান্না দে-র গান গাওয়ার জন্য। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে মান্না দে প্রয়াত হওয়ার পর পিন্টুবাবু শিলিগুড়ির একটি ক্লাবে রাত নটা থেকে একটা পর্যন্ত টানা মান্না দে-র ৫৪টি গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গের কোনো স্থানে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলে মান্না দে খ্যাত শিল্পী হিসাবে তাঁর ডাক পড়ছে বিভিন্ন স্থানে। মান্না দে-র গাওয়া সাতশোর বেশি গান তাঁর গলায় ফুটে ওঠে বেশ ভালোভাবেই। মান্না দে কণ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া পিন্টুবাবু মান্না দে-র গান গেয়েই তার সংসার টেনে চলেছেন। কোনোদিন চাকরির কথা ভাবেননি। বাড়িতে গান শেখানোর স্কুলও খুলেছেন। সঙ্গীত শিখতে আগ্রহী কোনো দুঃস্থ প্রতিভাবান পেলে তাঁকে বিনা পয়সাতেই ক্ল্যাসিকাল সহ অন্য গান শেখান তিনি। তবে আক্ষেপ, নতুনদের মধ্যে আজকাল ভালোভাবে সঙ্গীত শিখে বা রেওয়াজ করে ফাংশন করার প্রবণতা কমছে। আজকাল স্টার মেকারে অনেক গানের ট্র্যাক পাওয়া যায়। তাতে মিলিয়েই সহজে গান গাইতে থাকে অনেকে। সব রেডিমেড। ফলে কমছে রেওয়াজ। কমছে সৃজনশীলতা।
মায়ের হাত ধরেই ছোটবেলায় ত্রিপুরার আগরতলায় গানের পথ চলা শুরু পিন্টুবাবুর। পরবর্তীতে শিলিগুড়ি এসে দাদা অনিলবরণ গোস্বামীর কাছে কিছুদিন গান শেখা। এরপর আশির দশক থেকে উত্তরবঙ্গ জুড়ে তাঁর পরিচিতি আসতে থাকে মান্না দে কণ্ঠী হিসাবে। বাকি জীবনটাও এই পরিচয়েই কাটিয়ে দিতে চান তিনি।