খ্যাতনামা শিল্পীদের আঁকা ছবি স্থান পাবে সেনেট হলে
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শশীকুমার হেশের আঁকা মাত্র দুটি পোট্রেট এখনও পর্যন্ত ভারতে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে একটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এক কোণে অযত্নে পড়েছিল এতদিন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি, বরেণ্য দেশপ্রেমী উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সেটি। আরেক খ্যাতনামা শিল্পী অতুল বসুর আঁকা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ছবি, ইশা মহম্মদের আঁকা বিদ্যাসাগরের ছবি একইভাবে সেনেট হলের পাশের ঘরে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অবহেলিত কোনো জায়গায় রাখা ছিল। ছিল আরও সব অমূল্য তৈলচিত্র। সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। কিছু ছবিকে তো চেনাই যাচ্ছিল না। উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার সেইসব শতাব্দীপ্রাচীন ছবি পুনরুদ্ধার করে ওগুলো দিয়ে নতুন করে সেনেট হল সাজানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এইভাবে তার ঐতিহ্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে নজির সৃষ্টি করছে ভারতের প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে ছবিগুলো পুনরুদ্ধার করার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়েছিল রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের সভাপতি এবং প্রখ্যাত চিত্রকর শুভাপ্রসন্নের সঙ্গে। তিনি ছবিগুলো দেখে সেগুলিকে নতুনভাবে শিল্পরসিকদের কাছে পৌঁছে দিতে আগ্রহী হন। মাস ছয়েক ধরে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন অক্লান্তভাবে ছবিগুলোকে সংরক্ষণের কাজ করে চলেছে নিখরচায়। শুভাপ্রসন্নের তৈরি করা সংস্থা আর্টস একরের রয়েছে নিজস্ব কনজারভেশন ল্যাব। সেখানকার দক্ষ রেস্টোরেটরদের নিয়ে কাজটির তত্ত্বাবধান করছেন শিল্পী পার্থপ্রতীম সাহা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলেরই পাশে একটা ঘর দেওয়া হয়েছে তাঁদের। নতুন ফ্রেম লাগানো, উপরের নোংরা সাফ করা, রং মেলানোর মতো নানান কর্মকাণ্ড সেখানে চলছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব দুর্লভ তৈলচিত্রের সম্ভার রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের সংগ্রহ বিরল। চিন্তামণি করের আঁকা গান্ধিজি, জে পি গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা রাসবিহারী ঘোষ, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমারের দেওয়া তাঁর বাবা জগজীবন রামের ছবি – যে কোনো আর্ট গ্যালারির কাছেই তালিকাটি বেশ ঈর্ষণীয়। যে গতিতে সংরক্ষণের কাজ এগোচ্ছে, তাতে মোটামুটি আর তিন-চার মাসের মধ্যেই ছবিগুলি সেনেট হলের দেওয়ালে স্থান পাবে। হঠাৎ কোনো কারণে ছিঁড়ে যাওয়া বা সেরকম অন্যান্য কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আরও ৫০ বছর এই ছবিগুলি বহাল তবিয়তে থাকবে বলেই জানা গেছে। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে সিন্ডিকেট হলের সংস্কার। এবার সেনেট হলকে অভিনব সাজে সাজানোর পালা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তা যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।