জাল নন্দলাল এবং খাঁটি পিস্তলের কাহিনি

ঘণ্টা খানেক সঙ্গে এক জাল ছবির মাফিয়ার

আমার কারবার নিতান্তই ছবি আঁকার ইতিহাস নিয়ে। কিন্তু এহেন কারবারে মাঝেমধ্যেই পাতিহাঁসের দলও যে ভিড় করে তাতে সন্দেহ নেই। কেউ ডানায় ঝাপট দিয়ে নিজেকে ভ্যান গখের দোসর মনে করে তো কেউ আবার ফুঁকো দেরিদা ছাড়া কথা কয় না। আবার এমনও অনেক নাক টিপলে দুধ বেরোয় বয়সের তুলি চালিয়ে আছেন যারা অপাংক্তেয় দেশপুঞ্জে ভ্রমণ সেরে দেশের কালচারের গুষ্ঠির ষষ্ঠীপুজো করে থাকেন। সেসব হল গিয়ে পুরস্কার বা জলপানির ঝক্কি। এসব লয়ে যখন দিব্য মজা চালাই দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা শিল্পী বা শিল্প ঐতিহাসিকদের সঙ্গে এমন সময়েই একদিন আমার মাথায় চাপল আরেক ভূতের নেত্য। এরকমই একদিন…।

এরকমই একদিন দু’বাহু তুলে ভূতের নেত্য করতে করতে আমি গিয়ে পড়লাম লোহার ওপর তামার, রুপোর ও সোনার নকশা করা একখানি অহঙ্কারী সুন্দরী পিস্তলের ইয়া লম্বা নলের মুখে। সেটির কারুকার্যখচিত চেহারা আমাকে মনে করিয়ে দিল পাইরেটসদের লম্বা নলের বা ইংরেজদের ডুয়েল লড়ার পিস্তলগুলিকে। সাধারণত এমন পিস্তল আমি দিল্লী-র কিছু সর্বশেষ পদ মর্যাদার ব্যুরোক্র্যাটসদের বাংলো-র দেওয়ালে বাক্সের মোড়কে টাঙানো দেখেছি, যার পিছনে আবার পৃথিবীর মানচিত্র আঁকা থাকে। যাই হোক, এসব দেখে ততক্ষণে আমার মুখে গ্যাঁজলা উঠে গিয়েছে আর আমি ডাক ছেড়ে চলেছি ‘এ হি নন্দলাল আছে, এ হি নন্দলাল আছে, এ হি নন্দলাল আছে!’

ঘটনাটা একটু খোলসা করেই বলি। মাথায় তখন ভূত চেপেছে, আমাদের দেশের যেসব শিল্পীরা ভারত শিল্পের আসনকে জগৎসভায় মহান করেছেন তাঁদের নিয়ে কিছু কাজ করব। যাতে কিনা দেশের শিল্পের প্রতি আমাদের অনীহা খানিকটা কমে। কলকাতার এক নামী চিত্রশালায় নিজের পরিকল্পিত এই ভাবনা অনুসারে প্রদর্শনীও সাজিয়েও ফেললাম একদিন। একে একে তিন দফায় নন্দলাল বসু, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়, রামকিঙ্কর বেইজের অসামান্য সব কাজের নিদর্শন হাজির করলাম সেখানে। প্রাণ ভরে লোকে দেখল। যে পরিমাণ মানুষ সেই প্রদর্শনীগুলো দেখতে এসেছিলেন তা হিসেব মতো রোজের তুলনায় একশো গুণ বেশি।

তো এই কাজগুলি করার জন্যে আমি আমার পাগলামির পন্থা নিয়ে তখন ছবির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছি। পাগলামির পন্থা বলছি কারণ – আমি জানি নামকরণ ঠিক করে তার সঙ্গে খাপে খাপ খাইয়ে কোনও ছবির প্রদর্শনী করা আমার ধাতে সইবে না। অন্য দিকে আমি কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছেও ছবির জন্যে দরবার করব না। আমি যেটা করতে চাই তা হল আমার নিজস্ব যেটুকু যোগাযোগ আছে তার ভিত্তিতে ব্যাক্তিগত বা পারিবারিক সংগ্রহ থেকে ভারত বিখ্যাত শিল্পীদের অজানা ছবি দেখাতে চাই। দেখাতে চাই সেইসব ছোট ছোট অজানা কাজের অন্দরে ওই শিল্পীদের অন্য এক নিবিড় আত্মপরিচয়। যদিও হুগলী নিবাসী এক ধেড়ে পণ্ডিতশিল্পী মন্তব্য করেছিলেন – ‘এসব তো আর সিগনিফিক্যান্ট কাজ নয়’। যাই হোক, সেই সূত্রেই শুরু হল ঘোরাঘুরি। প্রথমে করব নন্দবাবুর ছবির প্রদর্শনী। সে কারণে আমার জন্যে তখন প্রাণপাত করে ছবি খুঁজে চলেছেন শান্তিনিকেতনের সুশোভন অধিকারী এবং অনাথনাথ দাসের মতো বিদগ্ধ মানুষেরা। বলতে দ্বিধা করব না যে নন্দলাল বসুর পরিবার, প্রভাতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার, নন্দবাবুর ছাত্রদের কয়েকজন এবং অমর্ত্য সেনের ভাই সহ বহু মানুষ সেদিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। আবার একই সঙ্গে তাঁরা শোনাতে লাগলেন গা ছমছম করা নানা কাহিনীও। সেসব কাহিনী শুনে আমাকে ভালোবাসেন এমন সব আই পি এস পুলিশ কর্তারা বললেন ‘কুছ পরোয়া নেহি’। ফলে দেখা গেল কলকাতা পুলিশের ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সহায়তায় বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছবি এল পুলিশি পাহারায়।

এরকম যখন একের পর এক ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে ছবি আসা শুরু হল সেরকমই একদিন কলকাতার এক প্রখ্যাত ঘড়ি সংগ্রাহক আমাকে অনুরোধ করলেন তাঁর সঙ্গে একজায়গায় যেতে। যেখানে কিছু নন্দলালের পোস্টকার্ড মিলতে পারে। তিনি আমার প্রদর্শনীর কথা জানেন। তাই বললেন চলুন দেখে আসি। আপনারও কাজে লাগবে আর আমারও ইচ্ছে আছে কয়েকটা পোস্টকার্ড কিনব। আমি তো আনন্দে গদ গদ হয়ে রাতের ঘুম বিদায় করলাম। আমার শয়নে স্বপনে তখন কেবলই নন্দলাল আর নন্দলাল। এইবার ঘটল এক গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘটনা। পাঠক, এক বিন্দুও বাড়িয়ে বলছি না, আমার সঙ্গে যার দেখা হল তিনি হলেন…

পার্ক স্ট্রিট থেকে যে রাস্তাটা ওই মির্জা গালিব স্ট্রিটের দিকে বাঁক নিল, সেই রাস্তার ওপরেই এক রাজার প্রাসাদ। সেই প্রাসাদের কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠে ঘড়ি সংগ্রাহক দরজায় বেল দিলেন। বেল তো নয় যেন নোতারদমের ঘণ্টা। হাফ প্যান্ট পরা চাকর এসে দরজা খুলে দিল। তার হাতে রুটি করার বেলুন চাকিটা ধরা। চাকরের গোটা শরীরে লেগে আছে আটার গুঁড়ো। জিজ্ঞাসা করল ‘সাহাব কি আপনাদের আসতে বলেছিলেন?’ আমার সঙ্গী সাহেবী কেতায় বললেন ‘হাঁনজী।’ আমাদের নাম জেনে সে ভেতরে গেল। তারপর মিনিটখানেক আমাদের দাঁড় করিয়ে রেখে ফিরে এসে বলল ‘আসুন।’

আমরা ভিতরে ঢুকলাম। আমার মনে হতে লাগল এবার আমি বোধহয় চিচিং ফাঁকের গুহার অন্দরে ঢুকেছি। একটু বলি। পোর্সিলিনের মানুষপ্রমাণ গোটা চারেক ভাস কাটিয়ে বাঁচিয়ে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে গেলাম এক দণ্ড। দেখলাম ভাসের গায়ে অঙ্কিত রয়েছে চিনা ছবির ড্রাগনের প্রমোদ ভ্রমণ। সঙ্গে মেঘের খেলা আর বাতাসের দোলায় গাছের বাহার। তার ফাঁকে ফোঁকরে চীনা রমণীদের অবাধ যৌন বিলাসিতার ক্রিয়াকলাপ। তাদের সাথে লীলায় মত্ত যেসব খর্বাকৃতি পুরুষের দল তারা আবার নিজেদের উদ্যত অঙ্গ মন্থনে ব্যস্ত। সঙ্গে কারও কারও অঙ্গুলি সঞ্চালিত হচ্ছে রমণীদের আপন ত্রিভুজ দেশে। তাদের শরীর জুড়ে মেঘেদের অন্তরঙ্গ আলিঙ্গন। এরকম ভাসের পাশেই আবার রাখা আছে আবলুশি কাঠের মস্ত এক শ্বেতপাথরের আয়না টেবিল। সেই আয়নায় চোখে পড়ে উল্টোদিকে টাঙানো ‘সোয়ান অ্যান্ড লিডা’-র তৈলচিত্র। মাথার ওপরে নেমে এসেছে চেনে ঝোলানো বিশাল এক ঝাড়বাতি। আলো-আঁধার মাখা বাড়িটার দাবার ছকের মতো সাদা-কালো মেঝেতে হাজারো গণ্ডা কিউরিও অবজেক্টের অবাধ ছড়িয়ে থাকা। সেগুলোকে রীতিমতো পাশ কাটিয়ে গিয়ে ঢুকলাম আরেকটা কক্ষে।

এই ঘরের আলোও মৃদু হলদে। দেওয়ালের রঙ লাল। দু পাশের জানালায় বাফ রঙের সাথে কলাপাতা রঙের পর্দা ঝুলছে। আমাদের সামনে ঘরের এ-মাথা ও-মাথা একটা টেবিল। তাতেও আবার মিনে করা জটিল পার্সিয়ান পেইন্টিং কাচে মুড়ে টেবিলের সঙ্গে আটকানো। ছবিতে চীনা ভাবের আধিক্য। লোকটা সেই টেবিলে বসে আছেন। বিশাল বপু চেহারা, গায়ে গোলাপি শার্ট। লোকটার গায়ের রঙের সঙ্গে তাঁর শার্টটিকে আলাদা করা যাচ্ছে না বললেই চলে। তাঁরও পিছনে বেলজিয়ান গ্লাসের আয়না। তাতেই দেখা যাচ্ছে এই অর্ধচন্দ্র আকৃতির টেবিলের কালো লাল – কালো লাল ড্রয়ারগুলো। সঙ্গে আমরা আমাদের মুখও দেখতে পাচ্ছি। আর দেখছি ড্রয়ারগুলোর গায় সোনালি রঙের হাতল। ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গী ঘড়ি সংগ্রাহক-কে আপ্যায়ন করলেন। তিনি জানতে চাইলেন সঙ্গের আমি লোকটা কে বা আমার পরিচয় কী? ঘড়ি সংগ্রাহক বললেন আমি একজন শিল্প সমালোচক। আমি একজন রিসার্চ স্কলার। তারপর শুরু হল নানা কথা। সেই কথার তালে তাল মিলিয়ে বুঝলাম ইনি একজন দেশীয় করদ রাজ্যের রাজকুমার। তিনি তাঁর পারিবারিক সংগ্রহ থেকে কটা নন্দলালের পোস্ট কার্ড বিক্রি করতে চান আমার সঙ্গী ঘড়ি সংগ্রাহককে।

কথাবার্তা চলতে চলতেই এসে গেল রূপোর ট্রে তে সাজানো ওড়ছা ক্রকারিজের কাপ ডিশে করে চা। আমরা যখন চা খাচ্ছি এমন সময়েই আমাদের হাতে এল একটা নকশিকাঁথার সেলাই করা তুলতুলে সিল্কের ব্যাগ। আর তার মধ্যে থেকে বেড়িয়ে এল গোটা দশেক নন্দলাল। ভদ্রলোক গম্ভীর ভাবে বললেন – ‘জানিন তো আমার দাদাজি ছিলেন টেগোরের খুব ক্লোজ। আমাদের সোঙ্গে টেগোরের খুব আলাপ ছিল। এখোন কি বলুন তো সাব সেই ভাবেই আমাদের বাড়িতে ওনেকের কাম আছে। আমি সেইর মোধ্যে আপনাকে দুটা তিনটা কিছু নোন্দলাল দিব। আপনি বলিয়েছেন তাই আপনাকে দিব। লেকিন আমার কিন্তু য়েকটা কন্ডিশোন আচ্ছে। আমার য়েকটা কুক এন্ড কেল্ভি ঘড়ি লাগবে, আপনি আমাকে সেটা আনিয়ে দিবেন।’ আমার সঙ্গী বললেন ‘ওকে ওকে।’ এবার কথা বলতে বলতেই নন্দলালের পুঁটুলি খোলা হল। আমার দিকেই সরাসরি কাজগুলো এগিয়ে দিলেন রাজকুমার। বললেন ‘দেখেন দেব্দোত্তো বাবু নন্দলাল দেখেন’। আমি যখন ছবি দেখতে লাগলাম এমন সময় রাজাসাহেব আমাকে প্রশ্ন করলেন ‘কেমোন লাগছে আপনার বলুন বলুন?’ আমি তখন বেশ উত্তেজিত। ছবি দেখে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। এ কেমন নন্দলাল? না আছে রেখার জোর, না আছে ড্রইং-এর মাথা-মুণ্ডু। আমার মতে এ নন্দলাল কেন মন্দলালও নয়। এসব দেখে আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম। আর ততই লোকটা আমাকে বলে চলেছেন ‘দেব্দোত্তো বাবু কি দিখছেন? দেব্দোত্তো বাবু কি দিখছেন?’ এসব শুনে সাত পাঁচ ভেবে আমি বলে বসলাম – ‘স্যর এসব তো একেবারে ডাহা নকল। গ্রেট জিরো।’ শোনামাত্র রাজাবাবু ধমকের সুরে পাল্টা প্রশ্নে বলে উঠলেন ‘গেরেট জিরো? লোজিক কি আছে আপনার দেব্দোত্তো বাবু?’ বুঝতে পারলাম বাকি দুজনের কান লাল হয়ে গেছে। রাজকুমারের চোয়াল শক্ত। উনি বললেন ‘লোজিক দেখাবেন লোজিক। এটা আমার গ্র্যান্ড ফাদারের কালেকশান আছে।’ আমি তখন ধরে ধরে আর্ট হিস্ট্রি-র অভিধান খুলে ক্যালিগ্রাফিক লাইনের গুণাগুণ বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। তখনও আমার চোখেই পরেনি যে লোকটার কপালের ভাঁজে আগুনের ক্যালিগ্রাফি প্রকাশ পাচ্ছে। আমি তখনও ব্যস্ত আমার শিল্প ইতিহাসের জ্ঞান প্রকাশে। তারপর সব চুপচাপ। এবার রাজাসাহেব বললেন ‘ওসব রাখিয়ে দিন দেব্দোত্তো বাবু। আপনি বোরং আমার একটা চীজ দেখুন। আপনার ভালো ভি লাগিবে আপনি খুশি ভি হোবেন।’ বলেই ক্যাঁচ করে বাঁ-হাত দিয়ে একটা ড্রয়ার টানলেন। আর সেখান থেকে বেড়িয়ে এল পাইরেটসদের পিস্তল। রাজাবাবু আমাকে বললেন, ‘বলুন ইটা কি গেরেট জিরো আছে?’ আমি বললাম ‘জানি না।’ আমাকে বললেন ‘দেখুন দেব্দোত্তো বাবু ইটা নোকল নেহি আছে। ওরজিনাল আছে ওর জি না ল। এখোন আমার কোথা হল কেনো ও র জি নাল আছে বোলুন আপনি।’ আমি বললাম ‘না মানে এই বন্দুক আর্টে আমার কোনও জ্ঞান নেই।’ তিনি বললেন ‘দেখুন আমি আপনাকে লোজিক দেখাচ্ছি যে কেন ইটা নোকল নয়।’ তারপর ক্রিক করে একটা আওয়াজ হল। আমার চোখে পড়ল বুলেট চ্যানেলে চকচকে বুলেটের দল। প্রাণ ভরে মানে ভয়ে দেখছি। বললাম ‘চলে?’ উত্তর এল ‘দেখবেন? এখোনো চোলে।’ ঘড়ি সংগ্রাহক আমার বাঁ-হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছেন।

রাজাসাহেব এবার নির্বিকার ভাবে বললেন ‘আসুন আমার সোঙ্গে। একটা জিনিস দেখাই।’ বলে চেয়ার ঠেলে উঠলেন, হাতে পিস্তল। বাড়ির সবার মুখ মনে পড়তে লাগল। কিন্তু স্মার্টলি বললাম ‘আপনার তো দুর্দান্ত সব কালেকশান।’ রাজাবাবু কোনও উত্তর দিলেন না। শুধু পিস্তলের ডগাটা দিয়ে আরেকটা ঘরে ঢোকার নির্দেশ দিলেন। আমরা ঢুকলাম। ঘরে একটা বাল্ব জ্বলছে। আর সেখানে আসন পিঁড়ি করে বসে একটা লোক ছবি আঁকছেন। লোকটির গায়ে হাতকাটা স্যান্ডো গেঞ্জি। হাঁটুর ওপরে ধুতিটা তোলা। বুঝলাম এটা একজন শিল্পীর স্টুডিয়ো। মনে পড়ল ইসলামিক শিল্পের ইতিহাসে পড়েছি স্টুডিয়োকে বলা হয় ‘কারখানা’। যাই হোক এই কারখানার চারপাশে অজস্র ছবির বই খোলা। কোনওটা মুঘল রাজপুত তো অন্যটা গ্রেট মাস্টারদের ছবির। আর সেসব দেখে দেখে কাজ করে চলেছেন এই শিল্পী। দেখলাম তিনি একরাশ পুরনো পোস্টকার্ড নিয়ে বসে আছেন। আর তাতে পেন্সিল দিয়ে আঁক কাটছেন। আমরা যেতেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তার পায়ের কাছে লাল রঙের নন্দ লেখা একটা চৌকো বই।

এবার রাজাবাবু আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন ‘এই বিলাসীবাবুই আমার নন্দলাল আছে। বলুন বলুন এ কে আছে?’ গলার স্বর ভারী আর সঙ্গে গম্ভীর গর্জনে নির্দেশ। আবার বললেন ‘বলুন বলুন এ হি নন্দলাল আছে। কি হল ঘড়ি কালেক্টরবাবু বলুন এহি নন্দলাল আছে।’ আমরা তখন তোতলাতে তোতলাতে বলছি ‘এ হি নন্দ নন্দ নন্দ লাল আছে।’ ‘আবার বলুন এ কে আছে?’ আমরা আবার বললাম কলের পুতুলের মতো ‘হাঁ এহি নন্দলাল আছে, এ হি নন্দলাল আ ছে।’

কোনও রকমে যখন বেরোতে পারলাম তখন বুঝলাম ছেলেবেলায় শেখা সংস্কৃত শ্লোকের বহু দাম। ‘য পলায়তি স জীবতি’। আর বুঝলাম আমার সঙ্গে যাঁর দেখা হল তিনি হলেন ‘জাল মগনলাল’। আমার সঙ্গে যার দেখা হল তিনি হলেন…

অলংকরণ – পার্থ দাশগুপ্ত

Developed by DXDasia