রসিক বঙ্কিমচন্দ্র

বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনের নানা ঘটনা থেকে উঠে আসা হাস্যরস

(১)
বিখ্যাত নীলদর্পণ নাটকের লেখক দীনবন্ধু মিত্র এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যদিও বয়সে দীনবন্ধুই ছিলেন বড়। তিনি ডাক বিভাগের উঁচু পদে চাকরি করতেন। চাকরির জন্যই তাঁকে নানা জায়গায় যেতে হত। একবার গেছেন আসামের কাছাড়ে। সেখান থেকে একজোড়া কাপড়ের জুতো কিনে নিয়ে এলেন বঙ্কিমচন্দ্রের জন্য। একজন লোকের হাত দিয়ে জুতোটা ভাল করে মুড়িয়ে পাঠিয়ে দিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের জন্য। সঙ্গে একটা চিরকুটে লিখলেন, ‘কেমন জুতো?’

বঙ্কিম জুতোটি দেখলেন এবং লেখাটি পড়ে হাসলেন। তারপর যে লোকটি জুতো নিয়ে এসেছিল, তার হাতে একটি চিরকুট লিখে ধরিয়ে দিলেন। সেই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘ঠিক তোমার মুখের মত।’

(২)
ঔপন্যাসিক দামোদর মুখোপাধ্যায় ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের বেয়াই। একবার বঙ্কিমচন্দ্র বেড়াতে এসেছেন বেয়াই বাড়ি। সেখানে সাহিত্য-রসিকদের নিয়ে একটি আড্ডা বসেছে। সবাই ঘরের বাইরে জুতো খুলে রেখেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র পড়তেন শুঁড় তোলা তালতলার চটি। দামোদরবাবু একটু দরকারে হঠাৎ ঘরের বাইরে এসে দেখেন কোথা থেকে খানিকটা জল গড়িয়ে এসে বঙ্কিমচন্দ্রের চটিতে এসে লেগেছে। ঘরে এসে তিনি বললেন, ‘বঙ্কিম চট্টো ভেসে গেল।’ বঙ্কিমচন্দ্রের চটজলদি জবাব, ‘কোনদিকে, দামোদরমুখো বুঝি?’

(৩)
বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়িতে একদিন এক বিলাত ফেরত বাঙালি সাহেব এসেছেন। তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ির একটি লোকের মাধ্যমে একটি ছোট কাগজে ‘মিস্টার বি চ্যাটার্জি, এস্কোয়ার-এর সাথে দেখা করতে চাই’ লিখে পাঠান বঙ্কিমচন্দ্রের কাছে। বঙ্কিমচন্দ্র সেটি পড়ে চিরকুট বাহক-কে বললেন, ‘ভদ্রলোককে বল, মিঃ বি চ্যাটার্জি নামের কোনও লোক এখানে থাকে না, আপনি ভুল করছেন। এখানে থাকেন শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।’

(৪)
দামোদর মুখোপাধ্যায় বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের উপসংহার হিসাবে মৃন্ময়ী নামের একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। উপন্যাসটি রচনা শৈলীর দিক দিয়ে ছিল অতি নিম্নমানের। মৃন্ময়ী উপন্যাসটি পড়ে বঙ্কিমচন্দ্র দামোদর মুখোপাধ্যায়কে বললেন, ‘মশাই, আপনি আমার কপালকুণ্ডলাকে একেবারে সংহার করেছেন দেখছি।’

(ঋণ – শান্তা শ্রীমানী লিখিত ‘মনীষীদের রসিকতা’)

Developed by DXDasia