গানের ঝর্নাতলায় ৫

তখনই জানি, ছিঁচকাঁদুনি আকাশ। এরপরেই হাপুস নয়ন!

সেদিন শেষ বিকেলে অন্যরকম আলো। বেরিয়েছিলাম। কাজ মিটিয়ে বাইরে এসে দেখি, আকাশের মুখ ভার। ঠিক কান্নাকাটির আগের অবস্থা।স্নান করেনি, ভাত খায়নি, ঝুলকালি মেখে বসে আছে মুখ গোঁজ করে।আমি পা চালিয়ে বাস স্টপেএসেছি যেই, চড়বড়িয়ে বড়বড় ফোঁটায় বৃষ্টি নামল। তখনই জানি, ছিঁচকাঁদুনি আকাশ। এরপরেই হাপুস নয়ন!

বাসে উঠে বসেছি। বাস ফাঁকা। আমি জানালার ধারে। সামনে বিশাল উইন্ডস্ক্রীন। কী বৃষ্টি..কী বৃষ্টি! একেবারে তোলপাড় করা।আমার কিন্তু দুশ্চিন্তা নেই। মনটা ফুরফুরে খুব। অনেক গাছ। মসৃণ রাস্তা। ফুরিয়ে আসা বিকেল। আকাশের রং ধূসর। গাছের পাতাগুলো জলে স্নান করে উঠেছে। আমার চোখে মুখে জলের ঝিরঝিরে ছাঁট আসছিল। হাওয়া ছিল। চশমা খুলে বৃষ্টি মাখছিলাম…গালে আর চোখের পাতায়। খানিক পরে দাপট কমল। হালকা হালকা মিছরিদানার মতো বৃষ্টি।খুব নরম আর রেশমী বিকেল-ফুরিয়ে-আসা আলো লাজুক লাজুক মুখে গাছের পাতার জাফরির ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছে। হঠাৎ দেখি,সেই আলোতে কেমন হালকা দুধে-আলতা আভা! পাতার ফাঁকে একটা নিখুঁত গোল আর মেজে ঘষে ঝকঝকে করে রাখা কাঁসার রং আলোর পরাত।  কত দিন পর আমি বৃষ্টিভেজা গোধূলি দেখতে পেলাম! সবুজ আর ধূসর রঙের প্রেক্ষাপটে। গাছের পাতাগুলোর শরীরে রঙিনআলপনা ..সোনালি,গোলাপী,কমলা,হলুদ। আলপনা তখনও ভিজে ভিজে। বৃষ্টি থামেনি যে!

আমার মন খারাপ। এবং মন ভালো। সমুদ্রের ঢেউয়ের মাথায় ফসফরাসের আলো মন…উঠছে..নামছে…আলটপকা ঝড়, আচমকা বৃষ্টি …আমাকে চিরটাকাল এমন এলোমেলো করে দেয়!

Developed by DXDasia