এখানকার ঘুগনি এবং আলুকাবলি পাওয়া যাবে মাত্র পাঁচ টাকা আর দশ টাকায়
ক্রিকেটের কপিল! তাঁর হাতের জাদুর ভক্ত ছিল কমবেশি প্রত্যেকেই। কিন্তু এই খোদ কলকাতার বুকে বছর বছর ধরে বাস করছেন আরেক কপিল। ঘটনাচক্রে তাঁর হাতের জাদুতেও বশ মেনেছে কলকাতার কচিকাঁচা থেকে প্রবীণ অনেকেই। কপিলদা জয় করে নিয়েছেন খাদ্যপ্রেমিকদের মন। কপিলদার বিখ্যাত ঘুগনি আর আলুকাবলি। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় তাঁর হাতে বানানো ঘুগনিতে মজে গিয়েছেন অসংখ্য খাদ্যরসিক।
আরও পড়ুন
বঙ্গদর্শন পুজোসংখ্যা, ১৪২৬
শোভাবাজার এলাকায় থাকেন মৌসুমি ভট্টাচার্য। মণীন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। কলেজ থেকে ফেরার পর প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে চলে যান কপিলদার ঘুগনি খেতে। তিনি বলেন, “আমি কপিলদার ফ্যান। ছোটোবেলা থেকেই এখানে আসছি। আগে মায়ের সঙ্গে আসতাম। এখন বন্ধুরা মিলে চলে আসি ঘুগনি খেতে। যেদিন খুব খিদে পেয়ে যায়, আলুকাবলিও খেয়ে নিই।” গিরিশ পার্ক এলাকাতেই থাকেন সায়ন খাঁ। তিনি কপিলদায় ঘুগনি খাচ্ছেন প্রায় দশ বছর। তাঁকে জিজ্ঞাসা করায় উত্তর দেন, “কপিলদার হাতে জাদু আছে। আগে খুব একটা বাইরের খাবার খেতাম না। কিন্তু এই ঘুগনি আর আলু মাখার স্বাদ যেদিন চিনতে পারলাম, সেদিন থেকে নেশা লেগে গেল। এখন আমি নিজে খাই, সঙ্গে বাড়িতেও নিয়ে যায়।”

আমাদের ছোটোবেলায় যেমন টিফিন হলেই স্কুলের বাইরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করত ঘুগনি, ফুচকা, আলুকাবলি, আইসক্রিম। কত কম দামে সেসব জিনিস আমাদের কাছে ছিল ঠিক গোপন প্রেমের মতো। স্কুলের পাশে ফুটপাথে এমন দোকান এখনও দেখা যায়। হেঁকে হেঁকে তাঁরা খাবার বিক্রি করেন। কিন্তু কপিলদাকে হাঁকতে হয় না। এই কয়েকবছরে নিজের অগুনতি ফ্যান বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। কপিলদার এই ব্যবসা শুরু হয়েছিল তাঁর বাবার সূত্রেই। আগে তাঁর বাবা ঘুগনি বিক্রি করতেন। ঘুগনি বন্ধ করে আলুকাবলিতে এলেন। বাবার হাত ধরেই একসময় কপিল ব্যবসায় নেমেছিলেন। ঠিক করলেন একসঙ্গে দুটো জিনিসই বিক্রি করবেন। এখানকার ঘুগনি এবং আলুকাবলি পাওয়া যাবে মাত্র পাঁচ টাকা আর দশ টাকায়। প্রত্যেকদিন গিরিশ পার্ক থানার কাছেই রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে কপিলদাকে পাওয়া যাবে সন্ধে ৬টা থেকে রাত ৯টা অবধি। চিনতে না পারলে থানার কাছে এসে যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করেন কপিলদার দোকানটা ঠিক কোথায়, সঙ্গে সঙ্গেই জেনে যাবেন।

যাঁরা এখনও কপিলদায় আসেননি, কপিলদার ঘুগনি-আলুকাবলি চেখে দেখেননি, চটপট চলে আসুন। কলকাতার যে যে ঐতিহ্যগুলি এখনও জীবিত রয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই কপিলদার দোকান। কপিলদাদের মতো মানুষদের দৈনন্দিন সংগ্রামে অংশ নিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাবার দায় আমাদের আছে বৈকি! কারণ তাঁরাও শিল্পী। আর কে না চায় শিল্পের স্বাদ পেতে!
