আজ কাকাবাবুর জন্মদিন
আজ ৫ অগস্ট মুজফফর আহমদের জন্মদিন। বাংলার রাজনীতিতে তিনি পরিচিত কাকাবাবু নামে। আর পরিচিত নজরুল ইসলামের বন্ধু হিসেবে। তিনি ছিলেন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ব্রিটিশ আমলে দফায় দফায় দীর্ঘ দিন তাঁকে জেল খাটতে হয়েছিল। তাঁর জন্মদিনে তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’ বই থেকে একটি অংশ এখানে তুলে দেওয়া হল।
কাবুলে অস্থায়ী ভারত গবর্নমেন্ট
১৯১৫ সালের ১লা ডিসেমম্বর কাবুলে ভারতের একটি অস্থায়ী সরকার স্থাপিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামী, সাংবাদিক, মার্কসবাদী, রাজপরিবারের সন্তান রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ হন সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি। এটাই ভারতের প্রথম সরকার। যা কাবুলে তৈরি হয়েছিল। সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সাংবাদিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী আবদুল হাফিজ মহম্মদ বরকতুল্লা। স্বাধীনতা সংগ্রামী মউলবি উবাইদুল্লাহ সিন্ধি হয়েছিলেন সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। লাহোরের পলাতক ছাত্ররাও এই সরকারে যোগ দিয়ে নানা পদ গ্রহণ করেছিলেন। raja মহেন্দ্রপ্রতাপ তাঁর আত্মজীবনী (My Life Story of Fifty Five Years) বইয়ে লিখেছেন যে তিনি একটি কাজ, আমাদের মতে অসঙ্গত কাজ, করেছিলেন। সেটা হল, অস্থায়ী ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি সোনার পাতের উপর খোদাই করে লিখে একটি চিঠি রাশিয়ার সম্রাট জারের কাছে পাঠান। ওই চিঠিতে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে জারের সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছিল। যদিও প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে রাশিয়া ছিল ব্রিটেনের বন্ধু। আর মহেন্দ্র প্রতাপরা এই বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। জার্মান মিশনের ডক্টর ফন হেনটিগ এই চিঠি না পাঠাতে মহেন্দ্র প্রতাপকে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা শোনেননি। সেই চিঠি অবশ্য যুদ্ধের জন্য সেন্ট পিটার্সবুর্গে জারের কাছে পাঠানো যায়নি। তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল তাসখন্দে জারের গবর্নর জেনারেলের কাছে। পত্র বহন করে তাসখন্দে নিয়ে গিয়েছিলেন মুহম্মদ আলি এবং শমসের সিং। মুহম্মদ আলি ছিলেন লাহোর মেডিক্যাল কলেজের পলাতক ছাত্র।আর শমসের সিংয়ের আসল নাম ডাক্তার মথুরা সিং। তাসখন্দে চিঠি পৌঁছে দিয়ে এই দুই বিপ্লবী কাবুলে ফিরে এসেছিলেন। কিছু সময় বাদে মহেন্দ্র প্রতাপ ফের দুই বিপ্লবী যুবককে দিয়ে জারের কা্ছে সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠালেন। সেই দুই বিপ্লবী যুবক কিন্তু আর কাবুলে ফিরে আসেননি। জারের সরকার তাদের গ্রেফতার করে ইরানে দখলদার ব্রিটিশ ফৌজের হাতে তুলে দিয়েছিল। ব্রিটিশ সেনা তাদের গুলি করে হত্যা করে।
(লেখার মূল বিষয় অপরিবর্তিত রেখা ভাষায় সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে।)