জাতীয় পতাকার বিবর্তনের কথা

সিস্টার নিবেদিতা অনুভব করেছিলেন, এমন আন্দোলনের সময় একটি জাতীয় পতাকার প্রয়োজন

জাতীয় পতাকার বিবর্তনের কথা যেখান থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর জনক ছিলেন মুঘল সম্রাট বাহাদুর শা জাফর। সেটা  ১৮৫৭ সাল। শুরু হল সিপাই বিদ্রোহ। সম্রাট এবং সিপাইদের কাছে ইংরেজ বিরোধী এই লড়াই ছিল ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। তার জন্য সম্রাট বেছে নিয়েছিলেন একটি পতাকা। যার জমির রং ছিল সবুজ। তার উপড়ে একটি পদ্ম হাত ও রুটি আঁকা।

১৮৫৭ পর কেটে গিয়েছে আরও অনেকটা সময়। সেটা ১৯০৫ সাল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হল দেশে। মার্গারেট নোবেল মানে সিস্টার নিবেদিতা অনুভব করেছিলেন, এমন আন্দোলনের সময় একটি জাতীয় পতাকার প্রয়োজন। লাল রঙয়ের উপর বাংলায় বন্দেমাতরম ধ্বনি লিখে মাঝখানে ইন্দ্রের বজ্র নকশা এঁকে দিয়েছিলেন তিনি।

এই ভাবে চলতে লাগলো একটি নিজস্ব পতাকা বা দেশের পতাকা যে থাকা চাই তার অনুভব এবং রূপায়ণ। ১৯০৬-য়ে কলকাতা পতাকা বলে একটি পতাকা তৈরি হল। সেই পতাকার জমির উপরের রং সবুজ, মাঝে হলুদ আর নীচে লাল। সবুজ জমিতে আটটি পদ্ম ফুল, হলুদ জমিতে নীল রং দিয়ে হিন্দিতে লেখা বন্দেমাতরম আর লাল জমিতে সূর্য এবং তার সাথে চন্দ্র। ১৯০৬ এর ৭ আগস্ট কলকাতার পার্সীবাগান স্কোয়ারে এই পতাকা উত্তোলন করা হল।

১৯০৭-তে মাদাম কামা যে পতাকা তৈরি করেছিলেন তার চেহারাটি ছিল এই পতাকাটিরই মতো। কেবল বদল এসেছিল সূর্য চন্দ্র আর পদ্মের নকশায়। আর সেই সঙ্গে এই পতাকার বন্দেমাতরম লেখাটি ছিল হলুদের উপর সাদা দিয়ে।

ত্রিরঙা পতাকার আজকের যে ঐতিহ্য তারই পূর্বপুরুষ ছিলেন এরা। যদিও ১৯১৭ সালের হোমরুল লীগের নেতা বালগঙ্গাধর তিলক এবং অ্যানি বেসান্ত যে পতাকার কথা ভেবেছিলেন তাতে ইংরেজের ইউনিয়ন জ্যাক পতাকাটিরও অস্তিত্ব আছে।

আজকের ভারতের পতাকার প্রকৃত অর্থে জনক ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। কারণ ১৯২১ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের জন্য যে পতাকা তিনি নির্বাচন করেছিলেন তাতেই ছিল প্রকৃত অর্থে সাদা-সবুজ-কমলার (উপর থেকে নীচে) মাঝখানে চরকার উপস্থিতি।

১৯৩১ সালে এই পতাকাটিকেই কার্যত সামান্য অদল বদল করা হল।  সেখানে সাদা এল মাঝে আর কমলা ও সবুজ এল যথাক্রমে উপরে ও নীচে। চরকাটি একটু চেহারা বদল করে সাদার গায়ে ফুটে উঠলো। এটিই যেন আর অনেক বেশী সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত ভাবে স্বাধীন ভারতের পতকা হয়ে উঠলো। একদম উপরে রয়েছে গেরুয়া, যা সাহস, ত্যাগ এবং স্বার্থহীনতার প্রতীক। একদম নীচে রয়েছে সবুজ যা বলতে চায় সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির আখ্যান আর মাঝের সাদা অমলিন পবিত্রতাকে চিহ্নিত করলো। আর মাঝ খানে রইল সাদার গায়ে অশোক চক্র। পতাকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শ্রী কে বি সিং লিখছেন “ ২৪টা কাঁটা নিয়ে  নীল রঙের অশোক চক্র মাঝখানের সাদা রঙের উপর বসানো। অশোক চক্রের নীল রঙ সমুদ্র আর আকাশের সঙ্গে মিলে যায়। এটা তাই দেশের অবাধ অগ্রগতির প্রতীক। আর অশোক চক্রের ২৪টি কাঁটা দিয়ে বোঝা যায় সে গতি সর্বক্ষণের।”

Developed by DXDasia