মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর
'ভয়ংকর ভাইরাস' লিখেছিলেন তিনিই। কল্পবিজ্ঞানের সেই গল্পই যে এভাবে ঘোর বাস্তব হয়ে উঠবে কে জানতো! করোনার প্রকোপে বাংলা সাহিত্য জগতে একের পর এক নক্ষত্রপতন হয়েই চলেছে। শঙ্খ ঘোষ চলে যাওয়ার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চলে গেলেন সাহিত্যিক অনীশ দেব। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অনীশ বাবু। বুধবার সকাল ৭.১৮ মিনিটে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল তাঁর। ভর্তি ছিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল তাঁকে। দরকার পড়েছিল প্লাজমা ডোনারের। কিন্তু কোনও কিছুতেই আর লাভ হল না। চিরবিদায় নিলেন অনীশ দেব।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যে শেষ হয়ে গেল একটা অধ্যায়। কল্পবিজ্ঞানের জগতে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বড় নাম ছিলেন অদ্রীশ বর্ধন ও অনীশ দেব। অদ্রীশ গত বছরই মারা গিয়েছিলেন। এদিন প্রয়াত হলেন অনীশ দেবও। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া বাংলার সাহিত্য মহলে।
আরও পড়ুন: স্তব্ধ হয়ে গেল শঙ্খ ঘোষের ‘শব্দহীন’ শব্দেরা…
অনীশ দেবের জন্ম ১৯৫১ সালে কলকাতায়। অনীশ দেবের লেখালেখির শুরু মাত্র সতেরো বছর বয়সে। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৬৮-তে অধুনালুপ্ত মাসিক ‘রহস্য’ পত্রিকায়। তারপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নামজাদা বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখার প্রধান বিষয় – গোয়েন্দা-রহস্য, থ্রিলার, ভৌতিক-অলৌকিক এবং কল্পবিজ্ঞান। গল্পের বই ছাড়াও তিনি বাংলায় কয়েকটি কিশোরপাঠ্য বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থও রচনা করেছেন। যাঁরা তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে চেনেন-জানেন, তাঁরা জানবেন কল্পবিজ্ঞান নিয়ে ওঁর প্যাশনটা অন্য পর্যায়ের ছিল। পাশাপাশি ব্যবহারিক পদার্থবিদ্যার উপর লেখা তার কিছু ইংরেজি বইও রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনার কাজেও নিযুক্ত ছিলেন তিনি। কিছুকাল সম্পাদনা করেছেন কিশোর বিস্ময় পত্রিকা।
অনীশবাবুর পরিবার সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রবীণ লেখক। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর করোনা ধরা পড়ে। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে অনীশবাবুকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ২০১৯ সালে কিশোর সাহিত্যে অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার 'বিদ্যাসাগর পুরস্কারে' সম্মানিত করে অনীশ দেবকে। এছাড়াও পেয়েছেন প্রাচীন কলাকেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার ও ডঃ জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ পুরস্কারের মতো সম্মানও।