
পরিবেশ বাঁচাতে নজির গড়ছে বাংলার নতুন প্রজন্ম
সারাদিন ধরে প্লাস্টিক আর পলিথিন কুড়িয়েছে কচি-কাঁচাগুলোও। বাড়ির রান্নাঘর থেকে বের করে এনেছে প্লাস্টিকের বোতল। পুকুর, আবর্জনার স্তূপ থেকেও কুড়িয়ে এনেছে বস্তা বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য। তারপর শুরু হয়েছে আসল কাজ। প্লাস্টিকের বোতলের ভিতরে কাঠি বা লোহার সরু রড দিয়ে চেপে-চুপে, ঠেলে ঢোকানো হয়েছে সেইসব প্লাস্টিক-পলিথিনের টুকরো। প্রয়োজনে ছিঁড়ে বা কেটেও নেওয়া হয়েছে। এতে প্লাস্টিকের বোতলটা হয়ে উঠছে খুবই শক্তিশালী। এমনই শক্তিশালী যে তা ব্যবহার করা যাবে পরিবেশ-বান্ধব ইট হিসেবে। এতে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্যও তুলে ফেলা যাবে। প্লাস্টিককে ব্যবহারও করা যাবে নতুনভাবে।

কথা হচ্ছিল চম্পাহাটির প্রদীপ্ত মণ্ডলের সঙ্গে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিজের গ্রামে কচি-কাঁচাদের সঙ্গে মিলে প্লাস্টিক বর্জ্য জোগাড়ের কাজ চালাচ্ছে সে। বাড়ি বাড়ি বলে এসেছে, প্রতিদিনের ব্যবহার করা প্লাস্টিক একটা ব্যাগে রাখতে। সেগুলো সংগ্রহ করে চলছে বোতলে পুরে পরিবেশ-বান্ধব ইট বানানোর কাজ। এই ইট দিয়ে নানাকিছুই গড়ে তোলা সম্ভব। পাচিল, দেওয়াল থেকে শুরু করে নানা আসবাব। বিপুল পরিমাণ ওজন নিতে সক্ষম এই প্লাস্টিক-ভর্তি প্লাস্টিকের বোতলগুলি। বিশ্বের নানা দেশে এই কাজ আগেই শুরু হয়েছে। এবারে শুরু হল বাংলায়।
প্রদীপ্ত জানাচ্ছিল, এই পরিকল্পনা তাঁর মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন সঞ্জীব বিশ্বাস নামের একজন সরকারি চাকুরে। তিনি আয়কর দপ্তরে কাজ করেন। নিজের অফিসেও এমন একটি প্লাস্টিক-ভর্তি বোতল টেবিলে রেখে বাকিদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। তা দেখে এগিয়েও আসছে অনেকে। পূর্ব বর্ধমানের সম্রাট ব্যানার্জিও একই কাজ করছেন নিজের এলাকায়। প্রদীপ্তর বন্ধু কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী দেবাঞ্জলির মতো অনেকেও উৎসাহিত হয়েছে পরিবেশ-বান্ধব ইট তৈরিতে। একটা সমন্বয় গড়ে উঠছে ক্রমশ।
পরিবেশ আর প্রকৃতি বাঁচাতে প্লাস্টিক বর্জন করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিন্তু প্লাস্টিকের বিকল্প না থাকায় সমাজে এখনো প্লাস্টিকের রমরমা। প্রতিদিন জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্যকে যদি অন্যভাবে ব্যবহারের দিশা দেখানো যায়, তাহলে একদিকে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ কমে, অন্যদিকে তাদের পুনর্ব্যবহারও সম্ভব হয়। ইট তৈরিতেও পরিবেশ ধ্বংস হয়। অথচ, প্লাস্টিক বোতলের তৈরি পরিবেশ-বান্ধব ইট তৈরির ক্ষেত্রে কোনো দূষণ নেই। উল্টে দূষণ কমে এই উদ্যোগে। এখন শুধু প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা আর সাহায্য। তাহলেই এই ছোটো ছোটো ব্যক্তিগত উদ্যোগ সামাজিক হয়ে উঠবে—বলছিল প্রদীপ্ত।
ছবি সৌজন্য: প্রদীপ্ত মণ্ডল, সম্রাট ব্যানার্জি, ইন্টারনেট
