কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের ২১০ নম্বর বাড়ি এবং বিখ্যাত ‘কার-মহালানবিশ’

কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের ২১০ নম্বর বাড়িটির বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে

কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের ২১০ নম্বর বাড়িটির বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। কারণ, এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন প্রশান্ত চন্দ্র মহালানবিশের পিতামহ গুরুচরণ মহালানবিশ। এই বাড়িতে এককালে ওষুধের দোকান ছিল। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র প্রবোধ মহালানবিশ দোকানটি বন্ধ করে দেন এবং তারপরে ডাঃ নীল রতন সরকারের সহযোগিতায় চৌরঙ্গীতে একটি ক্রীড়া-সরঞ্জামের দোকান শুরু করেন। তাঁরা এর নামকরণ করেছিলেন ‘কার-মহালানবিশ’। ‘কার’ শব্দটি ছিল ‘সরকার’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। প্রবোধ মহালানবিশ বিয়ে করেছিলেন নীল রতন সরকারের বোন, নীরদকামিনী দেবী-কে। তাঁদেরই সন্তান কিংবদন্তি বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং পরিসংখ্যানবিদ, প্রশান্ত চন্দ্র মহালানবিশ।

‘কার-মহালানবিশ’-এর অনুরূপ, সেই যুগে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল যেখানে ‘কার’ শব্দটির উপস্থিতি ছিল। ‘কার-মহালানবিশ’-এর আগে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনা হয়েছিল, যার নাম ছিল, ‘ক্যার-ট্যাগোর অ্যান্ড কোম্পানি’। উইলিয়াম ক্যার, উইলিয়াম প্রিন্সেপ এবং অন্যদের সহযোগিতায় এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। ‘কার-মহালানবিশ’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এরকম আরও একটি সংস্থা- ‘কার তারক অ্যান্ড কোম্পানি।’ এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারক সরকার। তারক সরকার থাকতেন বিডন স্ট্রিটে। তাঁর তিন পুত্র- বিপিন বিহারী, নলিন বিহারী ও পুলিন বিহারী সরকার। তাঁর বড় ছেলে বাড়ি ছেড়ে ইউরোপ গিয়ে, সেখানকার একটি অঞ্চলে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন।

তাঁর দ্বিতীয় পুত্র কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে পৈতৃক বাড়িটি উত্তরাধিকারসূত্রে পান। তিনি ছিলেন শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তি, যিনি পরে কলকাতার শেরিফ এবং শহরের পৌর-অধ্যক্ষ হয়েছিলেন। তাঁর নামেই ‘নলিন সরকার স্ট্রিট’। কনিষ্ঠজন অর্থাৎ পুলিন বিহারীও পৈতৃক ভিটে ছেড়ে মানিকতলা স্ট্রিট এবং মদন মিত্র লেনের কোণে নিজের বাড়ি তৈরি করেছিলেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন।

একই লেনের সপ্তম বাড়িটি ছিল বিপিন রায়ের ভাই কেদারনাথ রায়ের। দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় এখানেই থাকতেন। এখানে লোকেনাথ মৈত্র(বেনারসের বিখ্যাত হোমিওপ্যাথ ডাক্তার ছিলেন, প্রফেসর সুরেন্দ্রনাথ মৈত্রের এবং ডাঃ দ্বিজেন্দ্রলাল মৈত্র-এর বাবা, যিনি নাট্যাচার্য অমৃতলাল বসুর হোমিওপ্যাথ শিক্ষকও ছিলেন)-র বাসস্থানও ছিল। প্রখ্যাত প্রবাসী পত্রিকা এবং মর্ডান রিভিউ সম্পাদনা তাঁর বাড়ি থেকেই হতো।

এই দু’টি পত্রিকাই ১৯০৮ সালের বৈশাখ থেকে ১৯২৪ সালের বৈশাখ পর্যন্ত (বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে) তাঁর বাড়ি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৪ সালে প্রবাসীর জন্য প্রিন্টিং প্রেস স্থাপিত হয়েছিল ৯৯ নম্বর আপার সার্কুলার রোডে এবং দু’টি পত্রিকার কার্যালয়ই নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। তার আগে এটা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বাসভবন ছিল, যিনি এই ঠিকানা থেকেই ‘আইকনিক’ বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস-এর যাত্রা শুরু করেছিলেন।

(চলবে)

 

Post Tags
Written by
Developed by DXDasia