কলকাতায় বাস পরিষেবার ১৯৫ বছরে বিশেষ প্রদর্শনী

আয়োজনে কলকাতা বাস-ও-পিডিয়া

একসময় হাওড়া ব্রিজে চলমান দোতলা বাস – স্পষ্ট ট্রামলাইনও

সে কী আর আজকের কথা! কলকাতায় বাসের বয়স প্রায় দু’শো বছর হতে চললো। ট্রাম তো বটেই, কলকাতায় বারবার বদল হয়েছে বাসের রূপ, পরিকাঠামো। তাই, ট্রামের পাশাপশি বাসকে ঘিরেও বাঙালি জীবনে জড়িয়ে আছে নস্ট্যালজিয়া। সে কথা মাথায় রেখেই, গত ৭ অক্টোবর বাস পরিষেবার ১৯৫ বছর উপলক্ষে, এক অভিনব প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ‘কলকাতা বাস-ও-পিডিয়া’ নামের সংগঠন। যার নাম ছিল বাসযাত্রা ৩.০। কারণ, এটি ছিল এই সংগঠনের তৃতীয় বর্ষের উদযাপন।

কাঠের বাস- কলকাতার বাস পরিষেবার অতীত

গত ৭ অক্টোবর বাস পরিষেবার ১৯৫ বছর উপলক্ষে, এক অভিনব প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ‘কলকাতা বাস-ও-পিডিয়া’ নামের সংগঠন। যার নাম ছিল বাসযাত্রা ৩.০।

ইতিহাস বলছে, ১৮৩০ সালে, প্রথমবার গড়িয়েছিল বাসের চাকা। ব্যারাকপুর থেকে ধর্মতলা, ঘোড়ায় টানা বাস। তারপর ১৯১০-এর দশকে ধীরে ধীরে চালু হয় মোটর বাস। ১৯১৮ সালে, প্রথম বাস পরিষেবা চালু হয় মেটিয়াব্রুজ থেকে খিদিরপুর পর্যন্ত। এরপর সিটিসি কোম্পানি বাস নিয়ে আসে ১৯২০-২২ সালে। তারই মধ্যে বেসরকারি মোটর বাস পরিষেবাও চালু হতে থাকে। ১৯২৬-এ ওয়ালফোর্ড কোম্পানি প্রথমবারের মতন নিয়ে আসে ডবল ডেকার বাস। ১৯২৮ এ তৈরি হয় বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট। এরপর ধীরে ধীরে স্বাধীনতার পর একের পর এক CSTC, SBSTC, NBSTC রুটে বাস পরিষেবা শুরু হয়। প্রসঙ্গত, এক বাসে লন্ডন থেকে কলকাতা যাত্রারও ইতিহাস আছে! তাও আবার সেই পঞ্চাশের দশকে। ডবল ডেকার এই বাসটির নাম ছিল ‘অ্যালবার্ট’। সুদূর লন্ডন থেকে কলকাতা পর্যন্ত ছিল ‘অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস’-এর যাত্রাপথ। ১৯৫৭ সালে প্রথম লন্ডনের মাটি থেকে চাকা গড়ায় বিশ্বের দীর্ঘতম রুটের এই বাসের।

 

কলকাতার বর্তমান বাস পরিষেবা

এবার ‘বাস যাত্রা’য় ২৩৮ ও ৬৩ রুটের বাস এবং সরকারি সিএনজি বাস ব্যবহার করছে কলকাতা বাস-ও-পিডিয়া। ২৩৮ ও সিএনজি বাসের ভিতরে শহরের রাস্তায় এককালে চলা ঘোড়ায় টানা বাসের ছবি রাখা হয়েছিল। তার পাশাপাশি ছিল ব্রিটিশ আমলের বাসের টিকিট। এল ২৩৮ বাসের অন্দরমহল মনে করিয়ে দিচ্ছিল পুরনো আমলের দোতলা বাসের কাহিনি। এছাড়া ‘বাস যাত্রা’র অংশ ছিল আধুনিককালের এসি ভলভো ও সিএনজি বাস। শুধু তাই নয়, বাস উত্সাহীরা নিয়মিত একটি বুলেটিন প্রকাশ করছেন। যেখানে কোন রুটে কোন বাস সংযোজিত হচ্ছে, কোন বাস চলে যাচ্ছে সে খবর প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রুটের বাসের মডেল সহ নম্বরের তালিকাও এই সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ করে থাকেন। প্রদশর্নীতে দেখানো হয়েছে, কলকাতা ও জেলার বাসের বিবর্তন। কীভাবে ঘোড়ায় টানা বাস থেকে একসময় দোতলা বাস চলেছিল রাস্তায়, তারপর মার্সিডিজ কোম্পানির বাস চলেছে, তারপর এসেছে মিনি বাস। এর সঙ্গে জেলার বাসগুলির ছবিও রাখা হয়েছিল। প্রদশর্নীর বাসগুলি এদিন দুপুরে হাওড়া ময়দান থেকে যাত্রা শুরু করে এসপ্ল্যানেড হয়ে দাঁড়িয়েছিল রবীন্দ্র সদনে। ওই পথেই হাওড়া ময়দানে ফিরে যায়। 

ইতিহাস বলছে, ১৮৩০ সালে, প্রথমবার গড়িয়েছিল বাসের চাকা। ব্যারাকপুর থেকে ধর্মতলা, ঘোড়ায় টানা বাস। তারপর ১৯১০-এর দশকে ধীরে ধীরে চালু হয় মোটর বাস।

বাসযাত্রা ৩.০

নতুন ও পুরনো প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতোই। সবমিলিয়ে কলকাতায় বাস শুরু হওয়ার ১৯৫তম বছরের ইতিহাস ফিরে দেখার সুযোগ পেয়েছিল শহর। ফিরে দেখার সুযোগ ছিল ১৮৩০ সাল। অনুষ্ঠানে উৎসাহী মানুষের যোগদান ছিল চোখে পড়ার মতো। অবাক করার বিষয়, এই অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের উন্মাদনা ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

_____________ 
ছবি সৌজন্যে: বাস-ও-পিডিয়া

Post Tags
Developed by DXDasia