২০১৯-এর লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে এবছর বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯২ সাল থেকে অনেকগুলো জনসভা করেছেন ব্রিগেডে। সেসবই ছিল রাজ্য রাজনীতির বিষয়। কিন্তু শনিবারের ব্রিগেডের জনসভার একটা সর্বভারতীয় রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। মমতা নাম দিয়েছেন, ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’। বাস্তবিকই তাই। বিহারে একটা পরীক্ষা হয়েছিল বিরোধী শক্তির। ২০১৫ সালে। সব ভোট-সমীক্ষাকে হাস্যকর করে তুলে বিরোধী জোটের শক্তির কাছে বিজেপিকে বড় হার স্বীকার করতে হয়েছিল বিহার বিধানসভার ভোটে। কিন্তু নীতীশ জোট ত্যাগ করায় সেই সুদিন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এর পর ২০১৯-এর লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে এবছর বেশ কয়েকটা চেষ্টা হয়েছে বিরোধী জোট গড়ার। কখনও ডাক দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, কখনও ডাক দিয়েছেন লালুপ্রসাদ। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই সেই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ হয়নি। গত ডিসেম্বরে সোনিয়ার সভা এড়িয়ে গিয়েছিলেন মায়াবতী-অখিলেশরা। মায়াবতীর দল যোগ দেয়নি লালুর পাটনা র্যা লিতেও। সোনিয়ার ডাকে অবশ্য গিয়াছিলেন সীতারাম ইয়েচুরিও। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপিএমের পক্ষে এখনই মমতার সভায় যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু লক্ষণীয়, এই সভা নিয়ে সিপিএমও কোনও বিরূপ মন্তব্য করেনি। ব্রিগেডের এই সভাকে স্বাগত জানিয়েছেন অমর্ত্য সেনও।
গত এক বছরে এটাই প্রথম সভা যেখানে এসপি, বিএসপি, কংগ্রেস এক সঙ্গে মমতার পাশে থাকছে। তাতেই এই ব্রিগেডসভার গুরুত্ব একটা সর্বভারতীয় মাত্রা পেয়ে গিয়েছে। কে কে আসছেন সেই নামের তালিকাটা একটু দেখা যাক। সমাজবাদী পার্টির উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, বিএসপির সর্বভারতীয় সম্পাদক, সাংসদ সতীশ মিশ্র, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী, রাষ্ট্রীয় লোকদল প্রধান অজিত সিং-এর পুত্র জয়ন্ত, আরজেডি নেতা, বিহারের প্রক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব, কংগ্রেস সাংসদ, বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুণ খার্গে, কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি, এছাড়া অসম, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ থেকে আসছেন বিভিন্ন দলের বিরোধী নেতারা। মমতা আগেই স্লোগান তুলেছিলেন, ‘উনিশে বিজেপি ফিনিশ’। বৃহস্পতিবার ব্রিগেডে মঞ্চ দেখতে এসে মমতা বলেছেন, ‘১৯-এর ভোটে ১২৫-এই আটকে যাবে বিজেপির রথ। সরকার গড়বে বিরোধীরা’।
বুলগানিন-ক্রুশ্চেভ, বঙ্গবন্ধু এই ব্রিগেডে ঐতিহাসিক জমায়েত দেখে গিয়েছেন। তখন অবশ্য ব্রিগেডের আয়তন ছিল অনেক বড়ো। বামফ্রন্টের ডাকে, মমতার ডাকেও বিরাট সব জমায়েতের সাক্ষী এই ব্রিগেড। কিন্তু এবারের ব্রিগেডের যে সভা শনিবার হতে চলেছে, তার যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ভারতের রাজনীতিতে যে ভাবে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, এমন রাজনৈতিক সমাবেশের নজির নেই। ভবিষ্যতই বলবে ইতিহাসের পাতায় কতটা জায়গা পাবে ব্রিগেডের এই বিরোধী শক্তির হুঙ্কার।