ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় বাঙালির দুর্গাপুজো, ‘বঙ্গদর্শন’-এর কিছু ভূমিকা রয়েই গেল

ফিরে দেখা ‘বঙ্গদর্শন’ এবং দেবদত্ত গুপ্ত-এর যৌথ প্রয়াস

জ যখন দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, এটা আমাদের কাছে নিশ্চিত গর্বের বিষয়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে কিছু প্রস্তুতি পর্বের কথা থেকে যায়। অনেক সময় যা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান সচিব অত্রি ভট্টাচার্য আমাকে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠিতে দেখা যায়, তিনি জানিয়েছেন যে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে একটি ওয়ার্কশপ হবে। যেখানে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় বাঙালির দুর্গাপুজো যাতে স্বমহিমায় জায়গা পায়, তার জন্য পথ অনুসন্ধান করা হবে। সেই সূত্রেই একজন এক্সপার্ট হিসেবে আমাকে ওই কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে হবে। 

২০১৯ সালে আলোচ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন দেবদত্ত গুপ্ত

এই ঘটনা নিয়ে, চিঠি প্রাপ্তির বেশ আগে থেকেই ব্যক্তিগতভাবে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছিলেন বঙ্গদর্শন-এর কর্ণধার শ্রী ইন্দ্রজিৎ সেন। তিনি একাধিক আলাপচারিতায় আমার থেকে জানতে চান, ঠিক কী কী কারণে দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করা যায়। সেই সূত্র ধরে ‘বঙ্গদর্শন’ টিম দুর্গাপুজো সংক্রান্ত একাধিক লেখালিখি প্রকাশ করতে শুরু করে। এই কথাটুকু বলে আবার ফিরে আসি পর্যটন বিভাগের চিঠিটির প্রসঙ্গে। 

২০১৯ সালে দেবদত্ত গুপ্তকে লেখা অত্রি ভট্টাচার্যের চিঠি

ওই দপ্তরের অন্যতম আধিকারিক সুবীর চ্যাটার্জির কাছ থেকে ফোন আসে। তিনি আমাকে জানান, ইন্দ্রজিৎবাবুর সঙ্গে কথোপকথনের সূত্রেই দপ্তর জানতে পারে যে, আমি দুর্গাপুজো নিয়ে বেশ কয়েকবছর যাবৎ ললিতকলা একাডেমির একটি প্রোজেক্ট করছি, সেই সূত্রেই এই আমন্ত্রণপত্র। এই পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনেস্কোর প্রথম অধিবেশনে আমার বক্তব্য রাখার সুযোগ হয়।

দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, পরম্পরা, কথ্য ইতিহাস, লিখিত তথ্য, প্রচলিত কথোপকথন ইত্যাদির ভিত্তিতে এবং দেশজ উপাদানের দীর্ঘ ব্যবহারিক পরম্পরা সূত্রে, দুর্গাপুজো কেন ইনট্যানজিবল হেরিটেজ, তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য সেখানে আমি উপস্থিত করি এবং দুর্গাপুজো কেন ইনট্যানজিবল হেরিটেজের তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত, তার যৌক্তিকতা তুলে ধরি। অর্থাৎ আজকের এই ঘটনায় বঙ্গদর্শনের পূর্ণাঙ্গ সহায়তা না থাকলে, আমার পক্ষে হয়তো বলা সম্ভব হত না, আমার যুক্তিগুলি ঠিক কী কী এবং কেন।

ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় বাঙালির দুর্গাপুজো নিয়ে বৈঠকের সেই শুরু

তাই, আজকে মনে হচ্ছে ‘বঙ্গদর্শন’ এবং আমি, আমাদের কিছু ভূমিকা এর মধ্যে রয়ে গেল। নিঃসন্দেহে তা আমাদের কাছে গর্বের একটি অধ্যায়। পাঠকের মনে হতে পারে, এরকম একটি লেখা হঠাৎ তৈরি করার প্রয়োজন হল কেন। আসলে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত হতে গেলে অনেকগুলি পদক্ষেপ থাকে। যে পদক্ষেপগুলির সঙ্গে সরাসরি আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু যে যোগগুলি আমাদের রয়েছে, সেগুলির কোনও উচ্চারণ এখনও পর্যন্ত শুনতে পাইনি। সেই কারণে সেই উচ্চারণের নথিটি ধরে রাখার জন্য আজ আবার বঙ্গদর্শনেই কলম ধরলাম। আসলে, আমার সামান্য ভূমিকার কথাও যেমন বলতে চাইলাম, সেই সঙ্গে এত বড়ো ঘটনার পিছনে বঙ্গদর্শনেরও যে কিছু ভূমিকা রয়ে গেল, সেটাও আপনাদের জানালাম। সেইসঙ্গে ২০১৯ সালে পাওয়া অত্রি ভট্টাচার্যের চিঠি দেওয়া রইল পাঠকদের সুবিধার্থে।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি, সেদিন অনুষ্ঠানের পরের ছবি

Developed by DXDasia