ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের লোকসঙ্গীত শিখিয়ে চলেছেন ঝিনুক
তাঁর বাবা সুশান্ত চন্দ্র তালুকদার উত্তরবঙ্গের মাটির গান ভাওয়াইয়া নিয়ে কাজ করতেন। কোথায় কুশান বা পালাগান হয়, কোথায় সারেঙ্গি কে কীভাবে বাজান, তার খবরাখবর রাখতেন। এর জন্য তিনি গ্রামে গ্রামেও ঘুরতেন। কিন্তু কিছুদিন আগে মারা যান সুশান্ত তালুকদার। বাবার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আধুনিকতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে এবারে কাজে নামার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন শিলিগুড়ির সঙ্গীত শিল্পী ঝিনুক খানতালুকদার।
শিলিগুড়ি সুভাষ পল্লীর কাছে বাড়ি ঝিনুক খানতালুকদারের। স্বামীর নাম বোধিসত্ব। তিনি কালিম্পং-এর একটি কলেজের অধ্যাপক। আর ঝিনুকদেবী শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সঙ্গীত শিক্ষিকা। ঝিনুকের বাপের বাড়ি কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। বিয়ের পর থেকে তিনি শিলিগুড়ি আছেন। ছোটবেলায় মাত্র তিন বছর বয়সে মায়ের কাছে ঝিনুকের সঙ্গীতে হাতেখড়ি। পরে সুনীল দাসের কাছে সঙ্গীতশিক্ষা গ্রহণ। পরবর্তীতে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতে এম.এ পাশ করেন তিনি। আকাশবাণী শিলিগুড়িতেও তিনি নিয়মিত শিল্পী। একটা সময় রাজ্য ভাওয়াইয়া সঙ্গীত প্রতিযোগিতা থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তাছাড়া রাজ্য রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা থেকেও বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন ঝিনুক।
এখন শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সঙ্গীত শিক্ষিকা তিনি। উল্লেখ করার মতো একটি দিক হল, এখন অনেক বেসরকারি ইংরেজি স্কুলে বিদেশি ডিজে গানের রমরমা। ভারতীয় ঐতিহ্যের গান হারিয়ে যাচ্ছে। ঝিনুক সেই স্কুলে শেখাচ্ছেন লোকসঙ্গীত। আর রবীন্দ্রসঙ্গীত তো আছেই। কোনও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এভাবে লোকসঙ্গীত চর্চা বা ভাওয়াইয়া চর্চা কার্যত নজিরবিহীন। তাঁর বাবা যে কাজ শেষ করে যেতে পারেননি সেই কাজ এবার শুরু করবেন ঝিনুকদেবী। আধুনিক কি বোর্ডের সঙ্গে ভাওয়াইয়ার সারেঙ্গি বা উত্তরবঙ্গের মাটির অন্য লোকগান মিশিয়ে কিছু করতে চান। তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।