বাংলার পীর-৭

অনেকে বলেন, তাঁর হাতের ছোঁয়ায় বহু মানুষের রোগ নিরাময় হয়েছে

চট্টগ্রামের নাম একসময় ছিল শৎগঙ্গ। চট্টগ্রাম থেকে মক্কায় হজে যাচ্ছিলেন ইরশাদ শাহ সুফি আলি। মাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। ফলে আর হজে যাওয়া হয়নি। দমদমের গোরাবাজারে তিনি বাস করতে লাগলেন। নিজের জীবনধারণের জন্য চাকরি করতে লাগলেন এক বেসরকারি সংস্থায়। তারপর ধীরে ধীরে তিনি পীরত্ব লাভ করেন।

ফুরফুরার পীর হজরত আবুবক্কর সিদ্দিকীর গুরু ছিলেন তিনি। কথিত আছে, তিনি ছিলেন অসম্ভব অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন। মানুষ দেখে তিনি স্বভাব চরিত্র এমনকি তাঁর ভবিষ্যৎ বলে দিতেন। পীর সাহিত্যে ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষ তাঁর কাছে আসতেন শুধুমাত্র বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য। হিন্দু, মুসলমান এমনকি খৃষ্টানরা আসতেন পীর সুফি আলির কাছে। অনেকে বলেন, তাঁর হাতের ছোঁয়ায় বহু মানুষের রোগ নিরাময় হয়েছে।

পীর সুফি আলি আরবী ও ফারসী ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। 'দিওয়ানে ওয়াছি' নামে ফারসী ভাষায় বই লিখে ছিলেন তিনি। সে বইয়ের প্রতিটা ছত্রে রয়েছে আল্লার প্রতি প্রেম। ইসলামের যে কথা বলে এদেশে পীররা হিন্দুদের কাছে টানতে শুরু করেছিলেন, ঈশ্বরের প্রতি প্রেম আর মানুষে মানুষে ভালোবাসাই ছিল তার মধ্যে প্রথম। হজরত পীর সুফি আলির কাছে যখন প্রথম শিক্ষা নিতে এসেছিলেন ফুরফুরা আবুবক্কর সিদ্দিকী এই পাঠই তাঁকে প্রথম দিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাস থেকে জানা যাচ্ছে, পীরত্ব যেমন তিনি পেয়েছিলেন তেমনই তৎকালীন বাংলায় আরবী ও ফারসী সাহিত্যে তিনি ছিলেন নামী কবি। তাঁর কবিতা নিয়ে ইসলামিক দেশগুলোয় এখনও চর্চা হচ্ছে।

তবে ইসলাম প্রচার তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলেও অন্য ধর্মের প্রতি তিনি ছিলেন সমান শ্রদ্ধাশীল। তাঁর মাজার রয়েছে কলকাতার মানিকতলায়। উরুসে প্রচুর মানুষের সমাগম হয় কিন্তু নানা কারণে মানিকতলার পীরের মাজারের জমি জবরদখল হয়েছে, সরকার বা রাজনৈতিক নেতারা চেষ্টা করেও জমি দখল মুক্ত করতে পারে নি। পীর সুফি আলির মাজার তাই অবহেলায় পড়ে রয়েছে। একসময় ফুরফুরার পীরের বংশধররা চেষ্টা করেছিলেন দখলমুক্ত করার, কিন্তু তাঁরাও পারেন নি। তবে হিন্দু -মুসলমান আজও এখানে এসে মানত করেন। দোয়া চান। সন্তানের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন, বলা হয় সেই আমলে এতবড় জবরদস্ত আলেম বাংলায় আর কেউই ছিলেন না।

Developed by DXDasia