মহানগরের প্রাচীনতম গির্জা
ভারতে ব্রিটিশদের অনেক আগেই আর্মেনিয়ানরা পা রেখেছিলেন। ১৭ শতকের প্রথম দিকে কিছু আর্মেনিয়ান কলকাতায় আসেন ব্যবসা করতে। তারা এসেছিলেন চুঁচুড়া থেকে, সেখানে তাঁরা আগেই একটি গির্জা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কলকাতার চিনাবাজার অঞ্চলে আর্মেনিয়ানরা বসতি স্থাপন করেন। ১৬৮৮ সালের ২২ জুন ভারতের আর্মেনিয়ানদের সঙ্গে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি চুক্তি হয়। ব্রিটিশ কোম্পানির পক্ষে সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন স্যার জোসিয়া চাইল্ড, আর্মেনিয়ানদের পক্ষ থেকে ছিলেন খোজা সারহাদ এবং খোজা ফানুস। সেই চুক্তিতে বলা হয়, ভারতের যেখানে অন্তত চল্লিশ জন আর্মেনিয়ান একসঙ্গে বাস করবেন, সেখানে একটি করে গির্জা বানিয়ে দেবে এবং সেই গির্জার যাজককে বেতন দেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

১৭০৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আর্মেনিয়ানদের জন্য কলকাতায় একটি ছোট্ট কাঠের গির্জা তৈরি করে দেয়। সেটা এখনকার চার্চ অফ হোলি নাজারেথের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থান করত। কোনো কোনো অনেক গবেষক বলেন, গির্জাটি ১৭০৫ কিংবা ১৭০৮ সালেও গড়ে উঠতে পারে। পরে আর্মেনীয়দের পুরোনো কবরখানার জায়গায় আগা নজর নামের এক আর্মেনিয়ান ব্যবসায়ীর উদ্যোগে গির্জার পাকা ভবন বানানো হয়। সেটা ছিল ১৭২৪ সাল। গির্জার চূড়াটি ১৭৩৪ সালে গড়ে ওঠে হাজারমল পরিবারের অর্থসাহায্যে। এই আর্মেনিয়ান চার্চ অফ হোলি নাজারেথ কলকাতার প্রাচীনতম গির্জা। ব্রিটিশরা প্রার্থনার জন্য কলকাতায় প্রথম গির্জা তৈরি করেছিলেন ১৭০৯ সালে, যার নাম সেন্ট অ্যান’স চার্চ।

আর্মেনিয়ান চার্চ অফ হোলি নাজারেথে ২৫ ডিসেম্বর বড়োদিন পালিত হয় না। প্রতি বছর ৬ জানুয়ারি এখানে মহাসমারোহে বড়োদিন উদযাপিত হয়ে থাকে। কলকাতার পার্ক সার্কাস এবং ট্যাংরাতেও আর্মেনিয়ান গির্জা আছে। কিন্তু এই দিনে কলকাতার বেশিরভাগ আর্মেনীয় হাজির থাকেন আর্মেনিয়ান স্ট্রিটের এই গির্জাতে। সারা পৃথিবীর প্রায় সব খ্রিস্টানই মনে করেন ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মদিন। কিন্তু আর্মেনিয়ান খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, যিশুখ্রিস্ট জন্মেছিলেন ৬ জানুয়ারি।
রোমান ক্যাথলিক সূত্র থেকে জানা যায়, আগে সব খ্রিস্টানই ৬ জানুয়ারি যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন পালন করতেন। আর ইউরোপের পেগানরা ২৫ ডিসেম্বর উদযাপন করতেন সূর্যদেবের জন্মদিন। পেগানদের শায়েস্তা করতে রোমান চার্চ ২৫ ডিসেম্বর বড়োদিন এবং ৬ জানুয়ারি এপিফ্যানি দিবস পালন করতে থাকে। কিন্তু আর্মেনিয়ায় তখন কোনো পেগান ছিলেন না এবং আর্মেনিয়ান গির্জা রোমান চার্চের অধীনেও ছিল না। তাই, আর্মেনিয়াতে বড়োদিন পালিত হতে থাকে প্রতি বছর ৬ জানুয়ারি তারিখেই। সারা পৃথিবীর আর্মেনিয়ানরা এই দিনেই যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন করেন।
তথ্যসূত্র – Little Armenia, Yahwehs Restoration Ministry