
জয়ী আহমেদ প্যাটেল এবং নির্বাচন কমিশন
গুজরাটে রাজ্যসভা ভোটে আহমেদ প্যাটেলের জয়ে মর্যাদার লড়াইয়ে মোদীকে পরাজিত করে জিতলেন সোনিয়া। আর জিতল নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড। নির্বাচন কমিশনের এই নিরপেক্ষ মুখ দেশ বেশি স্পষ্ট করে দেখতে পেয়েছিল টি এন শেষণের সময় থেকে। সেই ধারাবাহিকতা বজায়ে আছে। রাজনীতিতে যখন নীতি এবং নিরপেক্ষতা প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে, তখন আমলাতন্ত্রের এই মুখ মানুষকে ভরসা জোগায়। বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের যখন দেখা যায় শাসকদলের চাপে হাঁটু কাঁপছে, সেখানে যে ভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এক ঝাঁক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তাবড় শাসকদলের নেতাদের চাপেও মাথা না নুইয়ে দেশের আইনকে তুলে ধরলেন, সারা দেশ তাকে স্যালুট জানাচ্ছে।
গুজরাতের একটিমাত্র রাজ্যসভা আসনের জয়-পরাজয় ঘিরে নরেন্দ্র মোদি ও সোনিয়া গান্ধীর মর্যাদার লড়াই পরিণত হয়েছিল। সাসপেন্স, ক্রস ভোটিং, পালটা ক্রস ভোটিং এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চরম অনিশ্চয়তার পর নরেন্দ্র মোদিকে পরিকল্পনাকে পরাজিত করে শেষ হাসি হাসলেন সোনিয়া গান্ধী। গুজরাতের তৃতীয় রাজ্যসভা আসনে জিতিয়ে আনলেন নিজের রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেলকে। বাকি দু’টি আসনে অমিত শাহ এবং স্মৃতি ইরানি জিতলেও গুজরাতে বিজেপি’র কাঁটা হয়ে রইলেন আহমেদ প্যাটেল। জয়ের পর তাঁর ট্যুইট, ‘এটা শুধুমাত্র আমার জয় নয়। পেশিশক্তি, অর্থবল আর ক্ষমতার অপব্যবহারের হার হল এই ফলে।’
গণনা শুরুর ঠিক আগে কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে একটি ভিডিও ফুটেজ দিয়ে বলে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ দুই বিধায়ক বিজেপিকে ভোট দিয়ে প্রমাণ হিসাবে ব্যালট পেপার প্রকাশ্যে বিজেপি নেতাদের দেখিয়েছেন। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। সুতরাং ওই দুই বিধায়কের ভোট বাতিল করতে হবে। বাতিলের পক্ষে কমিশনে সওয়াল করলেন পি চিদম্বরম! এই খবর পেয়েই দিল্লির নির্বাচন কমিশনে পালটা হাজির হলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সহ বিজেপি নেতৃত্ব। নির্বাচন কমিশন পরিণত হল কোর্টরুমে। বিজেপি কমিশনকে পালটা জানাল, আইন অনুযায়ী এখনই গণনা শুরু করা উচিত। কী করবে কমিশন? এই নিয়েই রাত ৮ টা থেকে শুরু হয় নতুন উত্তেজনা!
রাত সাড়ে ১১টার সময় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ওই দুই কংগ্রেস বিধায়কের ভোট বাতিল করা হল। আর আরও গভীর রাতে বিজেপি বিধায়কের ক্রস ভোটিংয়ের স্বীকারোক্তি। কংগ্রেসের ঘর ভাঙতে গিয়ে বিজেপি যে নিজের ঘর সুরক্ষিত রাখতে পারেনি, তার প্রমাণ বিজেপি বিধায়ক নলীন কাটোদিয়ার আহমেদ প্যাটেলকে ভোট দিয়েছেন। একথা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
অবশ্য তাঁর এই ভিডিওটি দেখিয়ে গণনা স্থগিত করার আরও একদফা দাবি জানিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তাতে আমল দেয়নি নির্বাচন কমিশন। রাত দেড়টা নাগাদ শুরু হয় গণনা। দু’টো নাগাদ ঘোষণা। জিতলেন আহমেদ প্যাটেল।
