
কথাগুলো আমাদের সবার জানা। কিন্তু রোজ জোর ক’রে উচ্চারণ করতে হ’ত না
তিনি বললেন, আমিই প্রকৃত হিন্দু, বিজেপি হিন্দুত্বের নামে কলঙ্ক। তিনি এ কথা বলতে বাধ্য হলেন। তিনি যুক্তি দিলেন তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গীর স্বপক্ষে। বললেন, হিন্দুত্ব সহিষ্ণুতার বার্তা দেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথাগুলি আমাদের সবারই জানা। এতদিন বারবার আমাদের উচ্চারণ করতে হতো না। কেননা আমাদের প্রত্যেকেরই খেয়ে পরে কিছু কাজ ছিল। আজ কাজ নেই তা নয়। দিনগুজরানের নতুন শর্ত যোগ হয়েছে বলা যায়। সব ধর্ম নির্বিশেষে আমরা যে এতটা ‘সহিষ্ণু’ একথাটা আজ আমাদের নিয়ম করে রোজ মনে করতে হয়, করাতে হয়। তাতে আমাদের অন্নের ভাগ কিছুটা বেড়েছে এমন নয়, কিন্তু অনেকের কষ্টের খাবারের থালায়, খাদ্যাভাসের সংস্কৃতিতে থাবা পড়েছে, দেখতেই পাচ্ছি।
কিন্তু তিনি গোমাংস ভক্ষণের বিরোধী নন। আগেই বলেছিলেন, কে কী খাবে সেটা কোনও রাজনৈতিক দল ঠিক করে দিতে পারে না। তাঁর অনেক বাণী নিয়ে মেধা জগতে কৌতুকের ফোয়ারা ওঠে। আর এই কথাগুলো বললেই তিনি সংখ্যালঘু তোষণের প্রতিভূ হয়ে ওঠেন। বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের কাছে কুম্ভীরাশ্রু আর কংগ্রেসের কাছে ‘সাজানো খেলা’।
অথচ যাদের রোজ সকালে উঠেই মনে হয়, আমি হিন্দু, ভারত হিন্দুদের দেশ, হিন্দুরা গোমাংস খাবে না এবং ও ‘অ-হিন্দু খাদ্য’ খাওয়া বরদাস্ত করবে না, তাদের হাত থেকে এ রাজ্যটাকে রক্ষা করতে কী করা উচিত? এর উত্তর মিলছেনা কোথাও। ‘সংগঠিত প্রতিবাদ’ ও এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাতার তলায় চলছে বিচ্ছিন্নভাবে। একেকটা ধর্মীয় সম্প্রদায়, উৎসব, উৎসবের রং –এ রাজ্য সহ গোটা দেশের ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্যকে নষ্ট ক’রে হর হর চিৎকারে আকাশ মাতাবো নাকী কিছু প্রশ্ন করব নিজেদের?
হিন্দুত্ব কী? প্রকৃত হিন্দু কারা? কী খেলে হিন্দু ধর্ম থাকে? প্রকৃত হিন্দুর দৈনিক কী কোনও কর্তব্য আছে নিজেকে হিন্দু বলে প্রমাণ করার?
এতক্ষণ আমরা বললাম, এবার আপনি বলুন, প্লিজ।
