কোথায় বসবে কী আর কোথায় লেখা হবে কি

কী এবং কি-এর গোলমাল সামলাবেন কী করে?

বাচ্চাটি প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে। স্কুল আছে পরের দিন। পড়া হয়নি। মা মনে মনে ভাবছেন,  ‘আজ কি ও আর পড়তে পারবে? ( এই যে ‘কি’, এটা আস্তে উচ্চারিত হয়)।

‘না পড়লেও দেখতে হবে ওর কী কী পড়া বাকি আছে.’ [এই কী’ কিন্তু একটু জোরে উচ্চারিত হয়]।

তবে ’কি’ আর ‘কী’ যখন আমরা কানে শুনি, তখন সাধারণত দুটো উচ্চারণে খুব একটা পার্থক্য বোঝা যায় না (সেটা আমাদের উচ্চারণের সূক্ষ্মতার অভাবের কারণে)। একই রকম উচ্চারণ ক্রমাগত শোনে বলেই কখনও কখনও ভুল লেখে ছোটরা।

খেতে বসে মা-কে রাই বলল ‘কী রান্না করছো আমার জন্য আজ? আলু ভাজা কি করেছ?’ ‘কী’ এর উত্তরে একটা/দুটো খাবারের নাম আসবে। এই যে ‘কি’, এর উত্তর সব সময় হবে এককথায়। সব সময় এর উত্তর হবে ‘হ্যাঁ অথবা ‘না’-তে।

আর ‘কী রান্না করছ’-র যে ‘কী’, এর জবাব হবে বিস্তারিত। কখনই এর উত্তর ‘হ্যাঁ অথবা না’-তে দেওয়া সম্ভব নয়।

‘কি’ আর ‘কী’ র ভুল দূর করতে ছোটদের সঙ্গে কি এবং কী দিয়ে নানারকম বাক্য বানিয়ে কথা বললে বিষয়টি তাদের মনে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ফলে অবসর সময় পড়া নিয়ে এই ধরনের খেলা খুব জরুরি। যাতে পড়ার চাপ নেই কিন্তু শেখার মজা রয়েছে। গল্প করতে করতে ছোটদের প্রশ্ন করা যেতে পারে ‘এখন কী খাবি? মুড়ি চানাচুর না চিঁড়ে ভাজা? উত্তর এল মুড়ি চানাচুর। উত্তরে বিশেষ্য পদ পাওয়া গেল। আবার শিশুটিকে যদি প্রশ্ন করা হয় ‘নতুন কী গল্পের বই পড়লে?’

কখনও কখনও দু’একটি বাক্য ছোটদের কানে হয়তো একরকম লাগবে শুনতে, কিন্তু তার উত্তর হবে আলাদা। একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। ১) তুমি কী খাবে? ২) তুমি কি খাবে? প্রথম প্রশ্নটির উত্তরে যা যা সে খেতে চায়, তার নাম বলতে হবে। যেমন ডাল, ভাত, তরকারি ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হবে হয় ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। একই রকম ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ তে উত্তর হবে যদি কেউ প্রশ্ন করে, ‘তুমি কি যাবে?’ কিন্তু এইখানে একটা জরুরি কথা বলে রাখা ভীষণ দরকার, সেটা হল, ‘তুমি কী যাবে?’- এই বাক্যটি কখনও লেখা যায় না। কারণ বাক্যটি ভুল। যেমন লেখা যায় না, ‘তোমার কী ঘুম ভাঙল?’

‘কী’ কিন্তু অনেক সময় প্রশ্ন ছাড়াও ব্যবহার হয়। যেমন – কী সুন্দর! কী আনন্দ! কী দুঃখ! কী ব্যথা!

আরেক ভাবেও  ‘কী’ ব্যবহার হয় বাক্যে। ‘কী’ এর সঙ্গে যখন ‘সের’ বসিয়ে বলি ‘কীসের’। যেমন – মুরগী না হাঁস, কীসের ডিম গো? তখন ক+ঈ-কার হবে। বা ‘আজ কীসের তরে নদীর চরে চখাচখীর মেলা’।

অন্য দিকে প্রশ্ন ছাড়াও কখনও কখনও ‘কি’ শব্দটি বাক্যে বসে এবং বাক্যটিকে সুন্দর করে তোলে। যেমন, সুকুমার রায়ের ‘সৎ পাত্র’ কবিতায় দুটি লাইনে আছে ‘এমন কি আর মন্দ ছেলে?’ বা, ‘শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের কি যেন হয় গঙ্গারামের’।

Developed by DXDasia